ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রাসূল (সা:) কে অনুসরণের নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহর

রাসূল সা:-কে পুরাপুরি অনুসরণের নির্দেশ স্বয়ং আল্লাহ জাল্লাশানুহুর। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসূলের। অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে রাসূলের ওপর ন্যস্ত দায়িত্বের জন্য তিনি দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী। যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে সৎ পথ পাবে। আর রাসূলের কাজ তো কেবল স্পষ্ট রূপে বাণী পৌঁছে দেয়া’ (সূরা আন নূর : ৫৪)। আল্লাহ আরো বলেন, ‘আর তিনি রাসূল সা: নিজের থেকে মনগড়া খেয়াল-খুশিমতো কোনো কথা বলেন না। তাঁর কথা নিরেট ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রেরিত হয়’ (সূরা আন নজম : ৩ ও ৪)। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, রাসূল সা: যা বলেছেন, করেছেন ও করতে বলেছেন সবই পরোক্ষভাবে আল্লাহর নির্দেশ। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, কুরআন ও হাদিস উভয়ের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎস স্বয়ং আল্লাহ। কুরআন ও হাদিসের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণকারীদের দ্বিধা-দ্বন্দ্বের অবসান ঘোচাতে তথা ফরজ ও ওয়াজিব পালনের পাশাপাশি প্রদর্শিত সুন্নাত, রাসূল সা:-এর শিক্ষা, আদর্শ ও তরিকার অনুসরণের গুরুত্ব যে কত বেশি তা উপরিউক্ত বর্ণনাই একজন সচেতন ঈমানদার ও চিন্তাশীলের জন্য যথেষ্ট।

বিস্তারিত পড়ুন …

জবানের হেফাজত কল্যাণ বয়ে আনে

মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে অসংখ্য-অগণিত নেয়ামত দিয়ে সুন্দর অবয়বে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার জন্য। আল্লাহপ্রদত্ত নেয়ামতগুলোর মধ্যে জিহ্বা বা জবান হচ্ছে অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি নেয়ামত। জবানের যথাযথ রণাবেণ, সঠিক কাজে জবানের ব্যবহার, অন্যায়, অসত্য ও হারাম থেকে জবানকে বিরত রাখা আল্লাহপ্রাপ্তির সহজ উপায়। এক কথায়, জবানের হেফাজত মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কুরআনের ১৮তম পারায় সূরা মুমিনুনের শুরুতে মহান আল্লাহ তায়ালা খাঁটি মুমিন মুসলমানের সাতটি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে দ্বিতীয় গুণ হচ্ছে, যারা মুমিন তারা অনর্থক কথাবার্তায় নির্লিপ্ত। আয়াতে ‘লাগউন’ শব্দের অর্থ অনর্থক কথা অথবা কাজ, যাতে ধর্মীয় কোনো ফায়দা নেই।

বিস্তারিত পড়ুন …

আল কুরআন অধ্যয়নের প্রক্রিয়া

অলৌকিক গ্রন্থ আল কুরআন মানবের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠতম উপহার। এটি যেমন এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে এককভাবে বিজয়ী, তেমনি এই মহাগ্রন্থের আছে অতুলনীয় উচ্চারণ। আল কুরআন তিলাওয়াত এর মোজেজার সাথে গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত। এ ব্যাপারে বহু উপমা আছে। একটি নিদর্শন সূরা নাজমের প্রথম ঐতিহাসিক মুহূর্তটি। কাবাপ্রাঙ্গণে প্রথমবার আল্লাহর রাসূল সা: সূরাটি পড়া শেষ করার পর উপস্থিত সব কাফের অবচেতনভাবে নিজেদের অজান্তে সম্মিলিতভাবে রাসূল সা:-এর সাথে সেজদা করে, যদিও তারা ঈমান আনেনি। এটা শুধু কুরআনের তত্ত্বীয় প্রভাবে নয়, এর আবৃত্তিরও প্রচণ্ড প্রভাব ছিল। আমরা স্মরণ করতে পারি, আল্লাহর নবী হজরত দাউদ আ: মানবজাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম কারি। এমনকি পাখি ও পর্বত তাঁর সালাতের সাথে তাঁকে অনুসরণ করত [সূরা আম্বিয়া : ৭৯; সূরা সাবা : ১০; সূরা সাদ : ১৮, ১৯]।

বিস্তারিত পড়ুন …

আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষার দায়

সফল মুমিনের নিজস্ব পরিচয় আছে। স্বকীয়তা আছে। আছে গুণাবলি। আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে সফল মুমিনের বিবরণ তুলে ধরেছেন। কোথাও সফল মুমিনের পরিচয় দিয়েছেন এক কথায়। ‘যে তার আত্মাকে পবিত্র করেছে সে সফলকাম হয়েছে’ (সূরা আ’লা : ১৪)। কোথাও আবার দীর্ঘ বর্ণনায় নানা গুণাবলি উল্লেখ করেছেন। এরূপ একটি স্থান হলো সূরা মুমিনুনের প্রথম দিকের কতগুলো আয়াত। এসব আয়াতে একজন সফল মুমিনের সম্পূর্ণ গুণাগুণ উল্লেখ করেছেন। আরো স্পষ্ট করে বলা যায়, এসব আয়াতে আল্লাহ সফল ও সার্থক মুমিনের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এ আয়াতগুলো দ্বারা বিচার করা যাবে কে সফল, কে সফল নয়। আয়াতের শুরুতেই আল্লাহ বলে দিয়েছেন, ‘তারা, মুমিনরা সফলকাম হয়ে গেছে।’ এখানে ‘হয়ে গেছে’ অতীত ক্রিয়া ব্যবহার করেছেন। অতীতকালীন ক্রিয়া ব্যবহার কতটুকু সঙ্গত হয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন …

জিকির সার্বক্ষণিক ইবাদত

জিকির শব্দের অর্থ স্মরণ করা। যার সম্পর্ক হলো অন্তরের সাথে। তবে জিহ্বা যেহেতু অন্তরের মুখপাত্র, কাজেই মুখে স্মরণ করাকেও জিকির বলা যায়। এতে বোঝা যায়, সেই মৌখিক জিকিরই গ্রহণযোগ্য, যার সাথে মনেও আল্লাহর স্মরণ বিদ্যমান থাকবে। তবে কোনো লোক যদি মুখে তসবি জপে; কিন্তু তার মন অনুপস্থিত থাকে অর্থাৎ জিকিরে মন না বসে, তবুও তা একেবারে ফায়দাহীন নয়। হজরত আবু ওসমান রহ:-এর কাছে এক ভক্ত এমনি অবস্থায় অভিযোগ করেছিলেন যে, মুখে মুখে জিকির করি বটে; কিন্তু অন্তরে কোনো মাধুর্য অনুভব করতে পারি না। তখন তিনি বললেন, তবুও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো যে, তিনি তোমার একটি অঙ্গ জিহ্বাকে তো অন্তত তার জিকিরে নিয়োজিত করেছেন।

বিস্তারিত পড়ুন …

শালীন পোশাকই মর্যাদাপূর্ণ

পোশাক মানবসভ্যতার প্রতীক। পোশাকের দ্বারা মানুষের রুচিবোধ ফুটে ওঠে। পোশাক দিয়ে মানুষ সম্মানিত হয়, আবার পোশাক দিয়েই মানুষ অসম্মানিত হয়। তাই পোশাকের গুরুত্ব মানবসভ্যতায় অপরিসীম। মুসলমান যেকোনো পোশাক পরতে পারেন না। পোশাকের ক্ষেত্রেও তাকে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো আমাদের অনেকেই জানেন না যে, পোশাকের ক্ষেত্রে আবার বিধিবিধান থাকতে পারে। পোশাকের ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অভাবে আমরা নানা ভুলভ্রান্তি ও শিথিলতার শিকার।

বিস্তারিত পড়ুন …

উম্মতে মুহাম্মাদির বৈশিষ্ট্য

মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মাদিকে বিশেষ কিছু গুণে ভূষিত করেছেন। এ জাতিকে তার গুণগুলোর যথাযথ ভাবার্থ অনুধাবনপূর্বক বাস্তব জীবনে তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বিশ্বের সামনে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে। নতুবা পূর্ববর্তী উম্মতদের মতো তাদের লাঞ্ছনা-গঞ্জনায় নিপতিত হতে হবে।

আল কুরআনের বাণী, ‘আমি তোমাদের ভারসাম্যপূর্ণ জাতি করেছি’ (সূরা আল-বাকারাহ ১৪৩)। এ আয়াতের ওয়াসাত্তা শব্দটি উচ্চারণ ও লেখায় একটি সাধারণ শব্দ হলেও তাৎপর্যের দিক দিয়ে কোনো জাতি অথবা ব্যক্তির মধ্যে যত পরাকাষ্ঠা থাকা সম্ভব, সেগুলো পরিব্যাপ্ত করেছে। আয়াতে মুসলিম জাতিকে মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ বলে অভিহিত করে বলা হয়েছে, মানবীয় মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব তাদের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান।

বিস্তারিত পড়ুন …

মুমিন ও মুসলিম : দু’টি পরিভাষা

‘মুমিন’ ও ‘মুসলিম’ শব্দ দু’টি আমাদের অতি পরিচিত। শব্দ দু’টিকে আমরা সব সময় ব্যবহার করে থাকি, নিজের বা অন্যের জন্য। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, বুঝে-না-বুঝে আমরা নির্বিচারে এ শব্দ দু’টিকে ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। সমাজসংসারে চলতে এমন ঘটনা আমাদের মাধ্যমে অহরহ ঘটে চলেছে। ফলে অনেক অর্থবহ শব্দ বা বিষয়ের ব্যবহার করতে গিয়ে অবলীলায় অপব্যবহার বা অসদ্ব্যবহার করাটা আমাদের সমাজে এখন গা সওয়া একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাক সে কথা, অনেকে এ দু’টিকে সমার্থক মনে করে থাকেন। আসলে তা নয়; এরা একে অন্যের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। সহজ কথায়, ‘মুমিন’ মানে বিশ্বাসী। অর্থাৎ যিনি আল্লাহর একত্বে ঈমান এনেছেন। আর ঈমানের অপর অর্থ দৃষ্টিভঙ্গি। অপর দিকে, ‘মুসলিম’ মানে অনুগত। ইসলামি বিধান মতে, আল্লাহতে বিশ্বাসী মানুষকে মুমিন বলা হয়। আর ইসলামের যাবতীয় বিধানের কাছে অনুগত বা আনুগত্য প্রকাশকারীকে ‘মুসলিম’ বলা হয়।

বিস্তারিত পড়ুন …

মুমিন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না

প্রাণী হিসেবে মানুষ চতুর, জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক সম্পন্ন অতীব সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ। আবার অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষের জীবন পরিচালনাপদ্ধতিও আলাদা ও ভিন্ন। মানুষ বিপদে পড়লে অন্য মানুষ সাহায্য করে, অসুখ করলে অন্য একজন মানুষ তার চিকিৎসা করেন, অন্য কেউ তার সেবা করেন। অর্থাৎ বিপদাপদে একজন মানুষ অন্য একজন মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করে, যা অন্য প্রাণীদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না। তার পরও মানুষ বিপদে পড়ে অস্থির হয়। সেখান থেকে কেউ পরিত্রাণের উপায় খোঁজেন, নিজেকে উদ্ধার করেন।

বিস্তারিত পড়ুন …

মৃত্যুর স্বাদ সবাইকে নিতে হবে

আজ আমরা দুনিয়া উপার্জনের জন্য ছোটাছুটি করছি, আমাদের বিরতিহীন চেষ্টা-সাধনা, দৌড়ঝাঁপ, দিনরাতের পরিশ্রম সব কিছুই এই দুনিয়ার সুখের জন্য। এ জন্য আমাদের প্রচেষ্টা হলো আমার বাসস্থান ভালো হোক, আমার অর্থোপার্জন হোক, দুনিয়ায় আমার সম্মান অর্জিত হোক, সমাজে আমার সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়–ক, আমি খুব ভাগ্যবান হয়ে যাই এবং আমার উঁচু মর্যাদা হাসিল হোক। মোটকথা এ পার্থিব জীবনের সুখশান্তিই হলো আমাদের যাবতীয় চিন্তাচেতনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু আমরা কখনো চিন্তা করে দেখিনি যে, যে কারণে এসব দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছি ছোটাছুটি করছি, যে আশায় হালাল ও হারামকে একাকার করে রেখেছি, যার ফলে ঝগড়াবিবাদ লোগেই রয়েছে এবং যে কারণে মানুষ একে অপরের রক্তপিপাসু হয়ে ওঠে, সেই জীবনটি কত দিনের?

বিস্তারিত পড়ুন …