ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ওয়াজ মাহফিল : হিদায়াতের উৎস হোক

ওয়াজের মওসুম শুরু হয়েছে। মানুষের ব্যক্তিজীবনের পরিশুদ্ধি ও আকিদা-বিশ্বাসের সংশোধনের েেত্র ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম। ওয়াজ যেহেতু একটি দ্বীনি বিষয়, তাই দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের মতো এ েেত্রও আমাদের রাসূল সা:, সাহাবায়ে কেরাম ও সালফে সালেহিনের অনুকরণ করা চাই।

কিভাবে তারা ওয়াজ করতেন, তাদের ওয়াজে কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পেত, কেন তারা ওয়াজ করতেন, ওয়াজে তাদের অঙ্গভঙ্গি ও কণ্ঠস্বর কেমন হতো এসব বিষয় সম্পর্কে জেনেবুঝে এবং তা মেনে যদি ওয়াজ হয়, তাহলে সেই ওয়াজই শরিয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজ বলে পরিগণিত হবে। এর দ্বারা সমাজের মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হবে।

বিস্তারিত পড়ুন …

ইখলাস সব আমলের মূল

ভার্চুয়াল পৃথিবীতে আমাদের ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে যখন ইবাদতের অবসর কমে আসছে, তখন ইবাদত কবুল হওয়া-না-হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে ভাবার ফুরসতও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। পবিত্র  কুরআন ও রাসূল সা:-এর হাদিস থেকে জানা যায়, আমরা যে ইবাদতই করি না কেন তা আল্লাহর কাছে গৃহীত হওয়ার জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ইখলাস। ইখলাসবিহীন কোনো আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সুফিরা মনে করেন, ইখলাসবিহীন আমলই বান্দার জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রখ্যাত সুফি ও দার্শনিক ইমাম গাজ্জালি রহ: তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিমিয়ায়ে সাদআতে’ লিখেছেন,  ইখলাস সব আমলের মূল। কোনো বান্দা  যদি তার সারা জীবনে সামান্য মুহূর্তও আল্লাহর জন্য খালেসভাবে অতিবাহিত করে, তবে তা বান্দার জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। 

বিস্তারিত পড়ুন …

ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হালাল রুজি

ধনসম্পদ উপার্জন মানুষের সহজাত প্রকৃতি। ইসলাম এটাকে মন্দ বলেনি, বরং এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য জোরালো তাগিদ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ন্যায়-অন্যায় ও হালাল- হারামের সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়ে অন্যায় ও অবৈধ পথে সম্পদ উপার্জন থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছে। 

অবৈধ ও হারাম সম্পদ উপার্জন ও ভোগ করা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ কোরো না’ (সূরা আন-নিসা:২৯)। হজরত ইবনে আব্বাস বলেনÑ ‘এর অর্থ হচ্ছে, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন শপথ দ্বারা অন্যের সম্পত্তির ওপর নিজের দখল প্রতিষ্ঠা করা।’ অবৈধভাবে হারাম পন্থায় উপার্জন দুই রকম হতে পারেÑ প্রথমত, সম্পূর্ণরূপে শক্তি প্রয়োগে ও অত্যাচারের মাধ্যমে; যেমন আত্মসাৎ, অপহরণ, জবরদখল, গচ্ছিত সম্পদ বিশ্বাসঘাতকতার সাথে ভোগদখল, চুরি-ডাকাতি ইত্যাদি।

বিস্তারিত পড়ুন …

উম্মতে মুহাম্মাদির বৈশিষ্ট্য

মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মাদিকে বিশেষ কিছু গুণে ভূষিত করেছেন। এ জাতিকে তার গুণগুলোর যথাযথ ভাবার্থ অনুধাবনপূর্বক বাস্তব জীবনে তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বিশ্বের সামনে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে। নতুবা পূর্ববর্তী উম্মতদের মতো তাদের লাঞ্ছনা-গঞ্জনায় নিপতিত হতে হবে।

আল কুরআনের বাণী, ‘আমি তোমাদের ভারসাম্যপূর্ণ জাতি করেছি’ (সূরা আল-বাকারাহ ১৪৩)। এ আয়াতের ওয়াসাত্তা শব্দটি উচ্চারণ ও লেখায় একটি সাধারণ শব্দ হলেও তাৎপর্যের দিক দিয়ে কোনো জাতি অথবা ব্যক্তির মধ্যে যত পরাকাষ্ঠা থাকা সম্ভব, সেগুলো পরিব্যাপ্ত করেছে। আয়াতে মুসলিম জাতিকে মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ বলে অভিহিত করে বলা হয়েছে, মানবীয় মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব তাদের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান।

বিস্তারিত পড়ুন …

জবানের হেফাজত করা জরুরি

আল্লাহর অপরিমেয় নিয়ামতের অন্যতম একটি হলো ‘জিহ্বা’। আরবিতে জিহ্বাকে লিসান বলে। ফারসিতে জবান। জবান মানুষের মূল স্পিড বা শক্তি। অন্যান্য প্রাণী থেকে ব্যবধানকারী। এর দ্বারা মানুষের শত সহস্র শুকরিয়া আদায় হয়। এর মাধ্যমে মানুষ পৌঁছে যায় মুত্তাকির উচ্চপর্যায়ে। জবানের সঠিক ব্যবহারে মানুষ যেমন পায় আল্লাহর নৈকট্য তেমনি এর অপব্যবহারে মানুষ পৌঁছে যায় নরকের গহিন অন্ধকারে।
হাদিস শরিফে হজরত সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কাছে ওয়াদা করবে যে, সে তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত বস্তু (জবান) ও দুই রানের মধ্যে অবস্থিত বস্তুর (লজ্জাস্থান) নিরাপত্তা করবে, আমি তার জন্য বেহেশতের জামিন হবো।’

বিস্তারিত পড়ুন …

মুমিন ও মুসলিম : দু’টি পরিভাষা

‘মুমিন’ ও ‘মুসলিম’ শব্দ দু’টি আমাদের অতি পরিচিত। শব্দ দু’টিকে আমরা সব সময় ব্যবহার করে থাকি, নিজের বা অন্যের জন্য। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, বুঝে-না-বুঝে আমরা নির্বিচারে এ শব্দ দু’টিকে ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। সমাজসংসারে চলতে এমন ঘটনা আমাদের মাধ্যমে অহরহ ঘটে চলেছে। ফলে অনেক অর্থবহ শব্দ বা বিষয়ের ব্যবহার করতে গিয়ে অবলীলায় অপব্যবহার বা অসদ্ব্যবহার করাটা আমাদের সমাজে এখন গা সওয়া একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাক সে কথা, অনেকে এ দু’টিকে সমার্থক মনে করে থাকেন। আসলে তা নয়; এরা একে অন্যের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। সহজ কথায়, ‘মুমিন’ মানে বিশ্বাসী। অর্থাৎ যিনি আল্লাহর একত্বে ঈমান এনেছেন। আর ঈমানের অপর অর্থ দৃষ্টিভঙ্গি। অপর দিকে, ‘মুসলিম’ মানে অনুগত। ইসলামি বিধান মতে, আল্লাহতে বিশ্বাসী মানুষকে মুমিন বলা হয়। আর ইসলামের যাবতীয় বিধানের কাছে অনুগত বা আনুগত্য প্রকাশকারীকে ‘মুসলিম’ বলা হয়।

বিস্তারিত পড়ুন …

ইসলাম একটি জীবনব্যবস্থা

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো’ (সূরা বাকারা : ২০৮)। ইসলামকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সব মানুষের জন্য দ্বীন হিসেবে, চলার পথ হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত করে দিয়েছেন। ইসলাম ধর্মে যেমন ইবাদতের বিধান আছে, ঠিক তেমনি পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, রাষ্ট্রীয় বিধানও রয়েছে। কাজেই মানুষের সমাজে বসবাস করতে গেলে যত কিছু প্রয়োজন সব ক্ষেত্রেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিয়মনীতি আছে। এসব নিয়মনীতি বাস্তবায়ন করতে গেলে ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হয়। আর ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি ইসলাম ধর্মের অন্যতম বিধান। কাজেই ইসলাম ও রাজনীতির মধ্যে সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।

বিস্তারিত পড়ুন …

মুমিন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না

প্রাণী হিসেবে মানুষ চতুর, জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক সম্পন্ন অতীব সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ। আবার অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষের জীবন পরিচালনাপদ্ধতিও আলাদা ও ভিন্ন। মানুষ বিপদে পড়লে অন্য মানুষ সাহায্য করে, অসুখ করলে অন্য একজন মানুষ তার চিকিৎসা করেন, অন্য কেউ তার সেবা করেন। অর্থাৎ বিপদাপদে একজন মানুষ অন্য একজন মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করে, যা অন্য প্রাণীদের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না। তার পরও মানুষ বিপদে পড়ে অস্থির হয়। সেখান থেকে কেউ পরিত্রাণের উপায় খোঁজেন, নিজেকে উদ্ধার করেন।

বিস্তারিত পড়ুন …

ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে প্রার্থনা

ধৈর্য মনুষ্যত্বের অন্যতম পরিচায়ক। ভালো গুণাবলির অন্যতম। আরবিতে এর প্রতিশব্দ সবর, যার অর্থ সংযম অবলম্বন করা, নফসের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করা। কুরআনুল কারিমে বারবার আল্লাহ তায়াল ধৈর্যের আদেশ দিয়েছেন। দুঃখ-দুর্দশায় আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার আদেশ দিয়েছেন। ধৈর্যের মাধ্যমে। ঘোষণা হচ্ছেÑ তোমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা করো। ধৈর্য এবং নামাজের মাধ্যমে। (সূরা বাকারা আয়াত : ১৫৩)। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো আয়াতে সাহায্য কামনার জন্য ধৈর্য আর নামাজকে মাধ্যম বানিয়েছেন। শুধু এতটুকু হয় আয়াতে নামাজের আগে ধৈর্যের কথা বলা হয়েছে।

বিস্তারিত পড়ুন …

মুমিন জীবনের বৈশিষ্ট্য

যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একত্ববাদে পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সে অনুযায়ী কর্ম সম্পাদন করে তাকেই মুমিন বলে। অন্যভাবে বলা যায় মহান আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রেরিত নবী, রাসূল, ফেরেশতা, কিতাব, পরকাল ও তাকদিরের প্রতি পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে বিশ্বাস স্থাপন করে আর ঈমান গ্রহণের পর যে ব্যক্তি ঈমান থেকে বিন্দুমাত্রও বিচ্যুতি হননি তিনিই মুমিন।

বিস্তারিত পড়ুন …