ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ওয়াজ মাহফিল : হিদায়াতের উৎস হোক

ওয়াজের মওসুম শুরু হয়েছে। মানুষের ব্যক্তিজীবনের পরিশুদ্ধি ও আকিদা-বিশ্বাসের সংশোধনের েেত্র ওয়াজ মাহফিলের গুরুত্ব অপরিসীম। ওয়াজ যেহেতু একটি দ্বীনি বিষয়, তাই দ্বীনের অন্যান্য বিষয়ের মতো এ েেত্রও আমাদের রাসূল সা:, সাহাবায়ে কেরাম ও সালফে সালেহিনের অনুকরণ করা চাই।

কিভাবে তারা ওয়াজ করতেন, তাদের ওয়াজে কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পেত, কেন তারা ওয়াজ করতেন, ওয়াজে তাদের অঙ্গভঙ্গি ও কণ্ঠস্বর কেমন হতো এসব বিষয় সম্পর্কে জেনেবুঝে এবং তা মেনে যদি ওয়াজ হয়, তাহলে সেই ওয়াজই শরিয়তের দৃষ্টিতে ওয়াজ বলে পরিগণিত হবে। এর দ্বারা সমাজের মানুষের সার্বিক কল্যাণ সাধিত হবে।

বিস্তারিত পড়ুন …

কাদেরকে আল্লাহ জালিম বলেছেন

জালিম শব্দটি আরবি। ‘আজ-জুল্মু’ মাসদার বা শব্দমূল থেকে উদ্গত। যার আভিধানিক অর্থ ‘অত্যাচার করা, উৎপীড়ন করা, নিপীড়ন করা, নির্যাতন করা, দুর্ব্যবহার করা।’ পরিভাষায় : যেসব মানুষ কারো প্রতি অত্যাচার, উৎপীড়ন, নিপীড়ন, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার করে তাদেরকে জালিম এবং যাদের প্রতি তা করা হয় তাদেরকে মাজলুম বলে।

বিস্তারিত পড়ুন …

ইখলাস সব আমলের মূল

ভার্চুয়াল পৃথিবীতে আমাদের ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে যখন ইবাদতের অবসর কমে আসছে, তখন ইবাদত কবুল হওয়া-না-হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে ভাবার ফুরসতও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। পবিত্র  কুরআন ও রাসূল সা:-এর হাদিস থেকে জানা যায়, আমরা যে ইবাদতই করি না কেন তা আল্লাহর কাছে গৃহীত হওয়ার জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ইখলাস। ইখলাসবিহীন কোনো আমলই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সুফিরা মনে করেন, ইখলাসবিহীন আমলই বান্দার জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রখ্যাত সুফি ও দার্শনিক ইমাম গাজ্জালি রহ: তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিমিয়ায়ে সাদআতে’ লিখেছেন,  ইখলাস সব আমলের মূল। কোনো বান্দা  যদি তার সারা জীবনে সামান্য মুহূর্তও আল্লাহর জন্য খালেসভাবে অতিবাহিত করে, তবে তা বান্দার জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হবে। 

বিস্তারিত পড়ুন …

ইসলাম ও মহাকালের আহ্বান

পৃথিবীর ইতিহাস সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্বের ইতিহাস। পৃথিবীর ইতিহাস শোষক ও শোষিতের ইতিহাস। পৃথিবীর ইতিহাস মজলুম ও জুলুমবাজের ইতিহাস। যুগে যুগে এই দ্বন্দ্বে সত্যবাদীরা, শোষিতেরা ও মজলুমেরা বিজয়ী হয়েছে তাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ইতিহাস সংগ্রাম, আন্দোলন এমনকি রক্ত-ঝরার ইতিহাস। ইতিহাসের এই মহাযজ্ঞে শহীদের আত্মদানই স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ইতিহাসের স্তরে স্তরে এসেছে নমরুদ, ফেরাউন, শোষক, সামন্তবাদ, সম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ এসব। তাদের পতনের ইতিহাসও নির্মম। আবার ইতিহাসের আমোঘ নিয়মে তারা বারবার ফিরে আসে খোলস বদলিয়ে। তাই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয় সমকালীন সমুচিত নিয়মে।

বিস্তারিত পড়ুন …

উত্তম চরিত্র আল্লাহর নেয়ামত

characterইসলাম সর্বকালের মানবকুলের জন্য একটি সামগ্রিক জীবনবিধান। আখলাকে হাসানা বা সচ্চরিত্র ছাড়াএ জীবনবিধানের কল্পনাও করা যায় না। আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীর জন্য যেসব সৎ গুণাবলি প্রয়োজন তন্মধ্যে একটি হচ্ছে ‘আখলাকে হাসানা’। আখলাকে হাসানার সুন্দর কর্মকাণ্ডের ওপরই ইসলামের দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে। পবিত্র কুরআনে তাকে ‘উস্ওয়াতুন হাসানা’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে, ‘তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত’ অর্থাৎ হে নবী! সুমহান চরিত্র গুণাবলি তোমার মধ্যে বিদ্যমান যা হেদায়াতের জন্য অতি প্রয়োজন।

বিস্তারিত পড়ুন …

ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হালাল রুজি

ধনসম্পদ উপার্জন মানুষের সহজাত প্রকৃতি। ইসলাম এটাকে মন্দ বলেনি, বরং এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য জোরালো তাগিদ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ন্যায়-অন্যায় ও হালাল- হারামের সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়ে অন্যায় ও অবৈধ পথে সম্পদ উপার্জন থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছে। 

অবৈধ ও হারাম সম্পদ উপার্জন ও ভোগ করা সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অবৈধভাবে ভোগ কোরো না’ (সূরা আন-নিসা:২৯)। হজরত ইবনে আব্বাস বলেনÑ ‘এর অর্থ হচ্ছে, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন শপথ দ্বারা অন্যের সম্পত্তির ওপর নিজের দখল প্রতিষ্ঠা করা।’ অবৈধভাবে হারাম পন্থায় উপার্জন দুই রকম হতে পারেÑ প্রথমত, সম্পূর্ণরূপে শক্তি প্রয়োগে ও অত্যাচারের মাধ্যমে; যেমন আত্মসাৎ, অপহরণ, জবরদখল, গচ্ছিত সম্পদ বিশ্বাসঘাতকতার সাথে ভোগদখল, চুরি-ডাকাতি ইত্যাদি।

বিস্তারিত পড়ুন …

খুন গুম সন্ত্রাস বন্ধে ঈমানি কর্মসূচি

আল্লাহ, হজরত মুহাম্মদ সা:সহ যত নবী দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন, দেশ ও জাতির কঠিন দুর্দিনেই পাঠিয়েছেন। তাদের জীবনের মিশন ছিল শিরক নির্মূল করে মানুষকে মানুষের গোলামি ও প্রভুত্ব থেকে মুক্ত করে আল্লাহর গোলাম বানানো। তাঁরা এসে জাতিকে জুলুম, নির্যাতন, খুন ও গুমসহ সব ধরনের আনাচার, অপকর্ম থেকে মুক্ত করেছেন। মজলুমকে মুক্ত করেছেন জালিমের হাত থেকে। মানুষকে মুক্ত করেছেন মানুষের প্রভুত্ব আর গোলামি থেকে। কর্মসূচি ছিল এক ঈমান। এই ঈমানি কর্মসূচির ভিত্তিতেই আমাদের প্রিয়নবী, আল্লাহর আখেরি রাসূল সা: আরবের বর্বর মানুষগুলোকে সোনার মানুষে পরিণত করেছিলেন। আমাদের পীর মাশায়েখ, আলেম ওলামা, খতিব, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের লোকেরা যদি দেশকে সোনার বাংলা এবং জনগণকে সোনার মানুষ বানাতে চান, তাদেরও ঈমানকেই প্রথম কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ঈমানের পথ ছাড়া খুন, গুম, সন্ত্রাস ও লুটপাট বন্ধ করা অসম্ভব।

বিস্তারিত পড়ুন …

মুমিন অঙ্গীকার রক্ষা করে

সফল মুমিনের নিজস্ব পরিচয় আছে। স্বকীয়তা আছে। আছে গুণাবলি। আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে সফল মুমিনের বিবরণ তুলে ধরেছেন। কোথাও সফল মুমিনের পরিচয় দিয়েছেন এক কথায়। ‘যে তার আত্মাকে পবিত্র করেছে সে সফলকাম হয়েছে’ (সূরা আ’লা : ১৪)।

কোথাও আবার দীর্ঘ বর্ণনায় নানা গুণাবলি উল্লেখ করেছেন। এরূপ একটি স্থান হলো সূরা মুমিনুনের প্রথম দিকের কতগুলো আয়াত। এসব আয়াতে একজন সফল মুমিনের সম্পূর্ণ গুণাগুণ উল্লেখ করেছেন। আরো স্পষ্ট করে বলা যায়, এসব আয়াতে আল্লাহ সফল ও সার্থক মুমিনের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এ আয়াতগুলো দ্বারা বিচার করা যাবে কে সফল, কে সফল নয়। আয়াতের শুরুতেই আল্লাহ বলে দিয়েছেন, ‘তারা, মুমিনরা সফলকাম হয়ে গেছে।’ এখানে ‘হয়ে গেছে’ অতীত ক্রিয়া ব্যবহার করেছেন। অতীতকালীন ক্রিয়া ব্যবহার কতটুকু সঙ্গত হয়েছে। অথচ এখনো তারা ওইসব গুণাবলির অধিকারি নয়। ব্যাখ্যাকারকেরা বলেন, সামনের গুণাবলির অধিকারী হলে অবশ্যই সব মানুষ সফলকাম হবে। সেই নিশ্চয়তার দিকে লক্ষ্য করে আল্লাহ অতীতকালীন শব্দ প্রয়োগ করেছেন। সার কথাÑ যদি কোনো মানুষ নি¤েœাক্ত গুণাবলির অধিকারী হতে পারেন, তাহলে তিনি অবশ্য সফল মুমিনে পরিণত হবেন। সেই নিশ্চয়তার দিকে লক্ষ্য করেই আল্লাহ অতীতকালীন শব্দ প্রয়োগ করেছেন। ভবিষ্যতে নিশ্চিত বাস্তবায়িত ক্রিয়ার ক্ষেত্রে অতীতকালীন শব্দ প্রয়োগ আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ রীতি। আয়াতগুলোতে সাতটি গুণ পাওয়া যায়।

বিস্তারিত পড়ুন …

শালীন পোশাকই মর্যাদাপূর্ণ

পোশাক মানবসভ্যতার প্রতীক। পোশাকের দ্বারা মানুষের রুচিবোধ ফুটে ওঠে। পোশাক দিয়ে মানুষ সম্মানিত হয়, আবার পোশাক দিয়েই মানুষ অসম্মানিত হয়। তাই পোশাকের গুরুত্ব মানবসভ্যতায় অপরিসীম। মুসলমান যেকোনো পোশাক পরতে পারেন না। পোশাকের ক্ষেত্রেও তাকে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো আমাদের অনেকেই জানেন না যে, পোশাকের ক্ষেত্রে আবার বিধিবিধান থাকতে পারে। পোশাকের ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অভাবে আমরা নানা ভুলভ্রান্তি ও শিথিলতার শিকার।

বিস্তারিত পড়ুন …

উম্মতে মুহাম্মাদির বৈশিষ্ট্য

মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মাদিকে বিশেষ কিছু গুণে ভূষিত করেছেন। এ জাতিকে তার গুণগুলোর যথাযথ ভাবার্থ অনুধাবনপূর্বক বাস্তব জীবনে তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বিশ্বের সামনে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হবে। নতুবা পূর্ববর্তী উম্মতদের মতো তাদের লাঞ্ছনা-গঞ্জনায় নিপতিত হতে হবে।

আল কুরআনের বাণী, ‘আমি তোমাদের ভারসাম্যপূর্ণ জাতি করেছি’ (সূরা আল-বাকারাহ ১৪৩)। এ আয়াতের ওয়াসাত্তা শব্দটি উচ্চারণ ও লেখায় একটি সাধারণ শব্দ হলেও তাৎপর্যের দিক দিয়ে কোনো জাতি অথবা ব্যক্তির মধ্যে যত পরাকাষ্ঠা থাকা সম্ভব, সেগুলো পরিব্যাপ্ত করেছে। আয়াতে মুসলিম জাতিকে মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ বলে অভিহিত করে বলা হয়েছে, মানবীয় মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব তাদের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান।

বিস্তারিত পড়ুন …