ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু মক্কা

meccaহজরত আদম আ: থেকে শুরু করে ঈসা আ: পর্যন্ত যত নবী- রাসূল পৃথিবীতে এসেছেন তাঁরা পরিবার, কওম, গোত্র বা নির্ধারিত কোনো অঞ্চলের জন্য এসেছেন; আর বিশ্ববাসীর জন্য এসেছেন মুহাম্মদ সা:। ঈসা আ:-এর পর মুহাম্মদ সা: এর আগমন পর্যন্ত পৃথিবীর কোথাও ধর্মজ্ঞান বা চর্চা ছিল না। আরব ছিল নৈতিকতাবিগর্হিত-শান্তিবিনষ্টকারী কার্যকলাপের অভয়ারণ্য। তারা কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। উলঙ্গ হয়ে নারী-পুরুষ কাবাঘর তওয়াফ করত। অসভ্যতা ও বর্বরতায় সে যুগকে আইয়ামে জাহিলিয়াত বলা হতো। অধিবাসীরা জীবজন্তুর চেয়েও অধম জীবন যাপন করত। পৃথিবীর কোথাও মানবীয় মহত্ত্ব ও গুণাবলির কোনো পরিবেশ ছিল না। জল-স্থল-অন্তরীে এক শোকার্ত করুণ অবস্থা বিরাজ করছিল।

বিস্তারিত পড়ুন …

আল্লাহর অনন্য নেয়ামত জমজম

মহান আল্লাহর মহানিদর্শন। পৃথিবীতে যত আশ্চর্যজনক সৃষ্টি রয়েছে তার অন্যতম। পবিত্র কাবার দ্বারপ্রান্তে অবস্থিত জমজম। আল্লাহ তায়ালার কুদরতে এর পানি কখনো নিঃশেষ হয় না। হজরত ইব্রাহিম আ: আল্লাহর নির্দেশে বিবি হাজেরা ও ছেলে ইসমাইলকে মক্কার বিজন এলাকায় রেখে যাওয়ার পর যখন তাদের সামান্য খাবার নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল এবং দুগ্ধপোষ্য শিশু ইসমাইল আ: তৃষ্ণায় ছটফট করছিলেন, তখন হাজেরা আ: ব্যাকুল হয়ে সাফা-মারওয়ায় ছোটাছুটি করছিলেন। আল্লাহ তার এ ব্যাকুলতা দেখে জিব্রাঈল আ:-কে পাঠিয়ে দেন এবং জিব্রাঈল আ: স্বীয় পাখার আঘাতে ইসমাইল আ:-এর পায়ের নিচ থেকে এ কুদরতি ঝরনা নিঃসরণ করেন। হাজেরা আ: ফিরে এসে যখন দেখলেন-শিশু ইসমাঈল শুয়ে আছে, আর তার পাশ দিয়ে পানির ফোয়ারা ছুটে চলেছে; তখন তিনি চার দিকে বাঁধ দিয়ে আটকাতে লাগলেন। ধারণা করা হয়, বিবি হাজেরা আ: যদি ওই দিন পানি না আটকাতেন তাহলে পুরো দুনিয়া সয়লাব হয়ে যেত।

বিস্তারিত পড়ুন …

বায়তুল্লাহর মর্যাদা

ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে কাবা পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। কাবাকে কেন্দ্রে ধারণ করে পৃথিবী ঘূর্ণায়মান রয়েছে। বৈজ্ঞানিকভাবে আমরা জানি যে, বছরের একটি বিশেষ দিনে একটি বিশেষ সময়ে (মধ্যাহ্নে) সূর্য কাবা শরিফের ঠিক মাথার ওপরে অবস্থান করে। তখন কাবা শরিফ বা মক্কা শরিফে অবস্থিত কোনো অট্টালিকা বা কোনো স্থাপনারই ছায়া চোখে পড়ে না। পৃথিবীর অন্য কোনো স্থানে এরূপ ঘটে না। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, পবিত্র কাবা ভূমণ্ডলের ঠিক মধ্যস্থলে অবস্থিত। ভূপৃষ্ঠের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় কাবাকে পৃথিবীর কেন্দ্র বা হৃদয় বলা যায়। মানুষের হৃৎপিণ্ডকে যেমন হৃদয় বলা হয়, পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুকেও তেমনি সঙ্গতভাবেই পৃথিবীর হৃদয় বলে অভিহিত করা চলে। এটা হলো একধরনের বৈজ্ঞানিক বা বস্তুগত ধারণা, যে জন্য কাবাকে পৃথিবীর হৃৎপিণ্ড হিসেবে অভিহিত করা যায়।

বিস্তারিত পড়ুন …

হজ পবিত্রতম সমাবেশ

জিলহজ মাস চান্দ্রমাসের দ্বাদশ মাস, আর হিজরি সালের শেষ মাস। এই মাস ইসলামের পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম রুকন হজ পালনের মাস। এই মাসে পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম তৈরী পবিত্র কাবাগৃহ তাওয়াফের এবং বিশ্বের সর্বকালের মহামানব মানবতার মুক্তির দূত নবী রাসূল, মানুষ, জিন ও ফেরেশতার মহান নেতা, দু’জাহানের সর্দার হজরত মুহাম্মাদ মুস্তফা সা:-এর পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারত করার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অধীর আগ্রহে আল্লাহ ও রাসূল প্রেমিক মানুষেরা আল্লাহর হুকুম পালন করার জন্য ছুটে আসেন। আল্লাহ তায়ালার ঘর পবিত্র কাবাঘর ও আল্লাহ প্রেমিক মানুষদের সাদরে গ্রহণ করে তাদের পাপমুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করে। পবিত্র কাবা এতই মর্যাদাপূর্ণ যে, আমাদের পেয়ারা নবী হজরত মুহাম্মাদ সা: হিজরত করার পরও বারবার আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতেনÑ কখন কাবার দিকে ফিরে সিজদা করা যায়। ভুলতে পারেননি তিনি কাবার প্রেম। কারণ এই পবিত্র কাবা শরিফের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আ: ও তাঁর ¯েœহমাখা আদরের ছেলে হজরত ইসমাইল আ:-এর স্মৃতি। এমনিভাবে সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে জড়িয়ে আছে মা হাজেরার স্মৃতি।

বিস্তারিত পড়ুন …

নারীদের হজ কেমন হবে

আমার ২০১০ সালের হজের একটি দৃশ্য বারবার হৃদয়ে নাড়া দেয় তা হলোÑ সর্বপ্রথম যখন কেবলার দিকে তাকিয়েছিলাম, তখন দেখতে পেলাম লাখো মানুষ যেন সব কিছু হারিয়ে শুধু প্রভুকে পাওয়ার জন্যই চোখের অশ্রু ছেড়ে কাঁদছে। এদের মধ্যে নারীদেরই বেশি কাঁদতে দেখেছি। হাঁটতে হাঁটতে যখন কেবলার একেবারে কাছে চলে এলাম তখন দেখতে পেলাম, এক বাঙালি মা দুই হাত দিয়ে কেবলার চৌকাঠ ধরার চেষ্টা করছেন এবং বলছেন হে প্রভু, সব কিছু ছেড়ে দেশ থেকে এসেছি। তুমি ক্ষমা না করলে আর দেশে ফিরে যাবো না।

বিস্তারিত পড়ুন …

এখন থেকেই শুরু হোক হজে যাওয়ার প্রস্তুতি

হজ মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ মিলন উৎসব। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ মহানের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইসলামি শরিয়া মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে কাবা শরিফ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো জিয়ারত করার নাম হজ। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকেও প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নবীপ্রেমী মুসলমান পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা-মদিনার পবিত্র ভূমিতে ছুটে যান। দূরবর্তী দেশের সফর, অচেনা-অপরিচিত স্থান, হজের বিভিন্ন আমল পালন করা এবং দীর্ঘ সময় অবস্থান করা- সব মিলিয়ে প্রত্যেক হাজির ভালো একটি পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। শুদ্ধভাবে পবিত্র হজব্রত পালনের জন্য একটি পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

বিস্তারিত পড়ুন …

হজ একটি মৌলিক ইবাদত

চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে চলতি (১৪৩৫ হিজরি বা ২০১৪ ইং) বছরের ৪ বা ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফরজ ইবাদত হজ। সৌদি সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে এবার ১ লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালন করার সুযোগ পাবেন, যা গত বছরের চুক্তির চেয়ে ২৫ হাজার ৪৪০ জন কম। গত বছর সৌদি সরকারের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজে যাওয়ার চুক্তি হলেও বাস্তবে হজে গিয়েছিলেন ৮৭ হাজার ১২৬ জন।

বিস্তারিত পড়ুন …

হজ্জের নিয়মকানুন – এক নজরে হজ্ব ও ওমরাহ্

হজ্জের ফরজ ৩টি

১। ইহরাম বাধা ২। উ’কুফে আ’রাফা (আরাফাতের ময়দানে অবস্থান) ৩। তাওয়াফুয্ যিয়ারাত

হজ্জের ওয়াজিব ৬টি

(১) ‘সাফা ও মারওয়া’ পাহাড় দ্বয়ের মাঝে ৭ বার সায়ী করা।
(২) অকুফে মুযদালিফায় (৯ই জিলহজ্জ) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সুর্যদয় পর্যন্ত একমুহুর্তের জন্য
হলেও অবস্থান করা।
(৩) মিনায় তিন শয়তান (জামারাত) সমূহকে পাথর নিপে করা।
(৪) ‘হজ্জে তামাত্তু’ ও ‘কি্বরান’ কারীগণ ‘হজ্জ’ সমাপনের জন্য দমে শোকর করা।
(৫) এহরাম খোলার পূর্বে মাথার চুল মুন্ডানো বা ছাটা।
(৬) মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তাওয়াফে বিদা অর্থাৎ মক্কা থেকে বিদায়কালীন তাওয়াফ করা।
এছাড়া আর যে সমস্ত আমল রয়েছে সব সুন্নাত অথবা মুস্তাহাব।

বিস্তারিত পড়ুন …

জেনে নিন হজ ওমরাহ পালনের নিয়ম

যে ব্যক্তির এই পরিমাণ ধন-সম্পদ আছে যে, সে হজের সফর (পথখরচ) বহন করতে সক্ষম এবং তার অনুপস্থিতিকালীন তার পরিবারবর্গের প্রয়োজন মেটানোর মতো খরচও রেখে যেতে সক্ষম, এমন ব্যক্তির ওপর হজ করা ফরজ। অথবা এমন ব্যক্তি যে হজের মৌসুমে অর্থাত্ শাওয়াল মাস শুরু হওয়া থেকে সৌদি আরবে অবস্থানরত ছিল বা জিলহজ মাস পর্যস্ত সৌদি আরবে অবস্থান করতে থাকে এবং তার ওপর যদি কোনো বিধিনিষেধ, ওজর ও অসুবিধা না থাকে, তাহলে তারও হজ পালন করা ফরজ।

বিস্তারিত পড়ুন …

কীভাবে বাঁধবেন হজের ইহরাম

সেলাইবিহীন চাদর-লুঙ্গি পরিধান করে তালবিয়াহ্ পরাকে শরিয়তের পরিভাষায় ইহরাম বলা হয়। পুরুষ হাজীদের জন্য এই বিধান পালন করা ওয়াজিব। অবশ্য মহিলা হজ পালনকারীদের জন্য সেলাইবিহীন কাপড় পরিধানের বিষয়টি জরুরি নয়। শরিয়া বিধান অনুযায়ী তারা যে কোনো পোশাক পরিধান ও ব্যবহার করতে পারবে।

হজ পালনকারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে ইহরাম বাঁধা যেমন জরুরি একটি বিষয়, ঠিক তেমনি ইহরাম বাঁধার জন্য রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা।

বিস্তারিত পড়ুন …