ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

আল্লাহমুখী হওয়ার মাস

রমজানে আল্লাহ তাঁর রহমতের খাজানা খুলে দেন : আল্লাহতায়ালা রমজান মাসে তাঁর বান্দার জন্য রহমতের খাজানা খুলে দিয়ে থাকেন। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই মাসে তাঁর রহমতের ভাণ্ডার থেকে নিজের জন্য কিছু অর্জন করে নেয়া।

রোজাদারদের মর্তবা সম্পর্কে এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘রোজাদারদের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহতায়ালার কাছে মিশকে আম্বরের চেয়েও পছন্দনীয়।’ এই হাদিসের মর্ম হলো, রোজাদারের মুখের দ্বারা আল্লাহর দরবারে যা চাওয়া হবে, তাই পাওয়া যাবে।

রমজানে তিলাওয়াতে কোরআন : আল্লাহর দরবারে চাওয়ার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো তিলাওয়াতে কোরআন। এই মাসে যত বেশি তিলাওয়াত করা হবে, ততই আল্লাহর প্রিয় হওয়া যাবে। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) স্বপ্নে একবার আল্লাহতায়ালাকে প্রশ্ন করলেন, ‘হে আল্লাহ! তোমার নিকটবর্তী হওয়ার সহজ পদ্ধতি কী?’ জবাবে আল্লাহতায়ালা বললেন, ‘তিলাওয়াতে কোরআনের মাধ্যমে আমার নিকটবর্তী হওয়া সহজ।’ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) আবার বললেন, ‘এই মর্তবা কি অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করলে পাওয়া যাবে, না অর্থ না বুঝে তিলাওয়াত করলেও পাওয়া যাবে?’ জবাবে আল্লাহতায়ালা বললেন, ‘অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করলেও এই মর্তবা পাওয়া যাবে এবং অর্থ না বুঝে তিলাওয়াত করলেও এই একই মর্তবা পাওয়া যাবে।

আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জনের তরিকা : রমজান, রুজু ইলাল্লাহ তথা আল্লাহমুখী হওয়ার মাস। রুহানিয়্যাত ও আধ্যাত্মিকতার মাস। আধ্যাত্মিকতা ছাড়া আল্লাহর প্রকৃত বান্দা হওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেকের জন্য জরুরি ‘ছাহেবে নিসবত’ হওয়া। ছাহেবে নিসবতের অর্থ হলো—আল্লাহর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপিত হওয়া। কেননা, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অনুসরণ এবং আল্লাহর সঙ্গে সাধারণ সম্পর্ক স্থাপন তো প্রতিটি মুসলমানেরই রয়েছে। আল্লাহর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপনের পদ্ধতি হলো—১. সর্বান্তঃকরণে সর্বক্ষণ আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করা। অর্থাত্ পূর্ণাঙ্গরূপে আল্লাহর হুকুম আহকাম পালন করা। ২. শয়নে-স্বপনে সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণে রাখা, আল্লাহর জিকির করা।

বুজুর্গানে দ্বীনের পরিভাষায় এটিকেই বলা হয় ‘নিসবত’। কোনো বান্দার যদি আল্লাহর সঙ্গে নিসবত কায়েম হয় তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি রোজা এবং কবুলের (অর্থাত্ আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তার যে কোনো আবদার আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য) সম্পর্ক স্থাপিত হবে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য অর্জনের জন্য প্রত্যেক মুসলমানকে রমজান মাসে চারটি আমল জারি রাখতে হবে। ১. সার্বক্ষণিক আল্লাহতায়ালার জিকিরে লিপ্ত থাকা। ২. তওবা ইস্তিগফার করা। আল্লাহর কাছে নিজের গোনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। ৩. আল্লাহর কাছে জান্নাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করা। ৪. জাহান্নামের আগুন এবং আজাব থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া প্রার্থনা করা।

আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে চূড়ান্ত পর্যায়ের ত্যাগ ও কোরবানি স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। রুহানিয়্যাত এবং আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো যাবতীয় খারাপ আচার-আচরণ এবং অভ্যাস থেকে বিরত থাকা। সেইসঙ্গে আদর্শ চরিত্র অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।

উত্তম চরিত্র গঠনে মনের কুপ্রবৃত্তি দূর করতে হবে। রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাবজাতিকে কুপ্রবৃত্তি থেকে সতর্ক থাকার জন্য হুশিয়ারি উচ্চারণ করে ইরশাদ করেছেন, ‘সাবধান! নিশ্চয় দেহের মাঝে একটি গোশতপিণ্ড রয়েছে। ওই গোশতপিণ্ডটি দোষমুক্ত হলে পুরো দেহটিই দোষমুক্ত থাকবে। আর ওই গোশতপিণ্ডটি ত্রুটিপূর্ণ হলে পুরো দেহটিই ত্রুটিপূর্ণ হবে। সাবধান! সেই গোশতপিণ্ডটি হলো কাল্ব।’
সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি ও অপরিহার্য বিষয় হলো নিজের কালেবর হেফাজত করা। যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি থেকে কাল্বকে মুক্ত রাখা। তবেই একজন মানুষের জন্য উত্তম মানব এবং আদর্শ মানব হিসাবে গড়ে ওঠা সম্ভব হবে।

Category: রোজা