ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইফতারের সওয়াব

দিনভর দীর্ঘ উপবাসের পর সূর্য পরিক্রমার সমাপ্তিলগ্নে বিভিন্ন ধরনের খানাপিনা নিয়ে আগমন করে ইফতার পর্ব, যার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে স্বয়ং রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে ১. ইফতারের সময় ২. মহান আল্লাহর সঙ্গে মোলাকাত বা সাক্ষাতের সময়’। (বোখারি ও মুসলিম)।

ইফতার পর্ব : ইফতার শব্দটি আরবি ফুতুর শব্দ থেকে এসেছে। ফুতুর- অর্থ নাস্তা। ইফতারের অর্থ খোলা, উন্মুক্ত করা, ছেড়ে দেয়া ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় সূর্যাস্তের পর খেজুর, পানি বা কোনো খাদ্যদ্রব্য ভক্ষণের মাধ্যমে রোজা ছেড়ে দেয়াকে ইফতার বলে।

দোয়া কবুলের অন্যতম সময় : পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের সময় সত্যি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। অদৃশ্য শক্তির আদেশ পালনার্থে ভীষণ ক্ষুধা-তৃষ্ণা থাকা সত্ত্বেও বনিআদম প্রহর গুনতে থাকে সূর্যাস্তের। এ সময় মহান আল্লাহ আদম জাতির ওপর সন্তুষ্ট হয়ে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘ইফতার করার সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়ে থাকে।’ (আবু দাউদ শরীফ)।আর এ জন্যই হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রহ.) ইফতারের সময় পরিবারের সবাইকে সমবেত করে দোয়া করতেন।

মহা পুণ্যের কাজ ইফতার করানো : মাহে রমজান ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহানুভূতির শিক্ষা দিয়ে থাকে। এ মাসের কারণে মানুষ ক্ষুধা ও তৃষ্ণার জ্বালা বুঝতে পারে। এ জন্য এক মুমিনের হৃদয় ধাবিত হয় অন্য মুমিনের সুখ-দুঃখের খবর সন্ধানে। যার বাস্তব রূপ প্রকাশ পায় ইফতারের মাধ্যমে। রাসূলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, রমজান মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গুনাহগুলো মাফ হয়ে যাবে। সে দোজখ থেকে মুক্তি পাবে আর সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, কিন্তু এতে রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই ঘাটতি হবে না অর্থাত্ রোজাদারের সওয়াব কমবে না।

এরূপ সওয়াব আল্লাহতায়ালা এমন ব্যক্তিকে দেবেন, যে শুধু এক পেয়ালা দুধ অথবা একটি খেজুর বা সামান্য পরিমাণ পানি দ্বারাও কাউকে ইফতার করাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তি মিটিয়ে খাওয়াবে আল্লাহ তাকে হাউজে কাওসার থেকে এমন শরবত পান করাবেন যাতে সে কখনও তৃষিত হবে না। এভাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (বায়হাকি)

খেজুর বা পানি দ্বারা ইফতার করা সুন্নত : রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘খেজুর দ্বারা ইফতার করা উত্তম। সম্ভব হলে তা দিয়ে ইফতার করবে। আর যে ব্যক্তি খেজুর না পায়, সে পানি দ্বারা ইফতার করবে, কেননা তাও পবিত্র’ (নাসায়ি শরীফ)। সারা দিন পানাহার থেকে বিরত থাকার পর শরীরের শক্তি কমে যায়। সুতরাং ইফতার এমন জিনিস দ্বারা করা উচিত, যা দ্রুত হজম হয় ও শক্তি বর্ধক হয়।

ইসলামী জীবনে ইফতারের যথেষ্ট গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। আমাদের উচিত ইফতারের যথাযথ মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে জীবনের সব চাওয়া-পাওয়া একমাত্র মহীয়ান-গরীয়ান সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে ইফতারের সময় উত্থাপন করা। আল্লাহ আমাদের সব সত্ বাসনা পূর্ণ করুন, আমিন।

Category: রোজা