ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইফতারের সঠিক সময়

রোজা পালন একটি আনুষ্ঠানিক ফরজ ইবাদত। আরবি ১২ মাসের একটি মহাসম্মানিত মাস হলো রমজানুল মোবারক। এই রমজান মাসকে ঘিরে মুসলিম মিল্লাতের মধ্যে অনেক আগে থেকেই চলতে থাকে নানা আয়োজন ও প্রস্তুতি। অবশেষে সাম্য, শান্তি, রহমত, মাগফেরাত, নাজাত ও মানবতার বাণী নিয়ে কাক্সিত রমজান দরজায় কড়া নাড়ে।

মুসলিম মিল্লাত ‘আহলান সাহলান মাহে রমজান’ স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানায়। নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রোজা উদযাপিত হতে থাকে। ইফতার যার অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। বলা যায়, রোজাদারের কাছে সবচেয়ে চমকপ্রদ ও আকর্ষণীয় পর্ব হলো ইফতার করা। যে মুহূর্তটির জন্য সব রোজাদার সীমাহীন কষ্ট সহ্য করে, প্রচণ্ড ুধা ও পিপাসার কষ্টকে পাথর চাপা দিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকে। কাক্সিত প্রহরে তার খুশির সীমা থাকে না।

ইফতার করতে করতে আনন্দের আতিশয্যে সে সব দুঃখ, কষ্ট ভুলে পরবর্তী রোজা পালনের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। কিন্তু এত কষ্টের রোজাকে আমরা সামান্য ত্রুটির কারণে নষ্ট করে ফেলি। ইফতারের সঠিক ও সর্বোত্তম সময় কোনটি তা খতিয়ে দেখি না। গতানুগতিক পদ্ধতিতে গা ভাসিয়ে চলতে থাকে।

কুরআন ও হাদিসের সহি প্রামাণ্য দলিলের তোয়াক্কা করি না। সূর্য অস্ত গেলেও বার বার ক্যালেন্ডার, ঘড়ি ইত্যাদি দেখতে থাকি আর কান পেতে মসজিদের আজান শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে যাই। অনেকেই আজান শুনেও ইমাম সাহেবের সাথে দোয়া পড়ার অপেক্ষায় থাকে। হজরত রাসূল সা: দোয়া পড়তেন ইফতার সম্পন্ন হওয়ার পর। যা সহি হাদিসে প্রমাণিত। রাসূল সা: ইফতারিতে যে দোয়া পড়তেন সুনানে আবুদাউদের দ্বিতীয় খণ্ডের ‘কিতাবুস সিয়ামের’ ২৩৫০ নম্বর হাদিসে পাওয়া যায়, রাসূল সা: ইফতারিতে পড়তেনÑ‘পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা সিক্ত হয়েছে, পুরস্কার নিশ্চিত যদি আল্লাহ চান।’ শুরুতেই তিনি বিসমিল্লাহ পড়তেন। অথচ আমরা যতসব মনগড়া দোয়া পড়ি অর্থ না জেনে ইফতারের আগে।

হ্যাঁ, আমরা ইফতারের আগে কোন দোয়াগুলো পড়ব তা হাদিসে উল্লেখ আছে। যেমনÑ ইবনেমাজাহ শরিফে তৃতীয় খণ্ডের ‘কিতাবুস সিয়াম’ অধ্যায়ের ১৭৫২ নম্বর হাদিসের বর্ণনায় রাসূল সা: বলেন, তিন প্রকার ব্যক্তির দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়Ñ ১. ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া ২. রোজাদারের ইফতারের সময়ের দোয়া ও ৩. মজলুমের দোয়া।

১৭৫৩ নম্বর হাদিসের বর্ণনা, যে ব্যক্তি রোজা রাখে এবং ইফতারের সময় দোয়া করে তার দোয়া কবুল হয়। তাই আমরা ইফতারের আগে যেকোনো দোয়া পড়তে পারি। নিজের ভাষায় মহান আল্লাহর কাছে যা ইচ্ছা চাইতে পারি। কিন্তু ইফতারের সময় হলে ইমামের সাথে দোয়া পড়ার জন্য রোজা নষ্ট করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

সূর্য অস্ত গেলেই ইফতার করার সঠিক ও সর্বোত্তম সময়। আজান হোক আর না হোক। সহি বুখারি শরিফের তৃতীয় খণ্ডের ‘কিতাবুস সিয়াম’ অধ্যায়ে ১৯৫৪ নম্বর হাদিসে বর্ণিত আছে রাসূল সা: বলেন, যখন সূর্য ডুবে যায় তখনই রোজাদার ইফতার করবে।’ একই খণ্ডে হজরত আবু সাঈদ খুদরি রা: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন সূর্য অস্ত যেতে দেখতাম তখন রোজা ছাড়তাম। রাসূল সা:ও তাই করতেন।’

একই খণ্ডে ১৯৫৭ নম্বর হাদিসে এসেছে, রাসূল সা: বলেন, ‘আমার উম্মতরা ততদিন সঠিক পথে থাকবে যতদিন তারা অবিলম্বে (দ্রুত) ইফতার করবে।’ তাই বলে সূর্য ডোবার আগে নয়। বায়হাকি শরিফের চতুর্থ খণ্ডের কিতাবুস সিয়ামের’ ৮১২৭ নম্বর হাদিসে বর্ণিত : রাসূল সা:-এর সাহাবিরা আগেভাগেই ইফতার করতেন এবং শেষ মুহূর্তে সেহরি খেতেন। একই কিতাবে ৮১২৫ নম্বর হাদিসের বর্ণনা: নবীজী সা: বলেন, আমাকে তাড়াতাড়ি ইফতার খেতে ও দেরিতে সেহরি খেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’ অনুরূপভাবে অন্যান্য হাদিস গ্রন্থগুলোতেও একাধিক সহি দলিল বিদ্যমান।

Category: রোজা