ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

মাগফিরাতের মাস রমজান

মাগফিরাতের মাস রমজানরমজান মাস হলো মাগফেরাতের মাস, আল্লাহর কাছ থেকে অপরাধ মা করে নেয়ার মাস। রাসূল সা: বলেছেন, ‘যারা ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে ঠিকভাবে রমজানের রোজা রাখে, সিয়াম সাধনা করে, ‘তাদের আগের সব অপরাধ মা করে দেয়া হয়।’ ঈমানের অর্থ অনেক ব্যাপক। ঈমান অর্থ হলো সর্বশক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী স্রষ্টা ও পালনকর্তা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা, আল্লাহর দেয়া জীবনবিধানকে মেনে নেয়া, তা অনুসরণ করার প্রতিশ্র“তি দেয়া, রাসূলের আদর্শ মেনে নেয়া এবং তা অনুসরণ করার অঙ্গীকার দেয়া, আখেরাতে বিশ্বাস করা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি হয়ে কিয়ামতের কোর্টে দাঁড়াবার ব্যাপারে সতর্ক মনে বিশ্বাস রাখা ইত্যাদি।

যার মধ্যে এমন ঈমান থাকে সে খারাপ কাজ করতে পারে না। রমজান মাসে মানুষের দুর্বল ঈমানকে সতেজ ও মজবুত করে নেয়ার সময়। এটা করতে পারাই হলো ঈমানের সাথে সিয়াম পালন করা। আর ইহতিসাব অর্থ হলো রমজানের প্রতিটি কাজ এমন সূক্ষ্মভাবে হিসাব করে করা যে, এতে কোনো বিচ্যুতি না হয়। রমজানের আনুষ্ঠানিক কাজগুলোর সাথে কোনো মন্দ কাজ যেন না হয়। এভাবে সিয়াম পালন করলে আল্লাহ যে মহা পুরস্কার দেবেন, সেগুলোর ওপর পুরো বিশ্বাস রাখা বা মনে মনে সেগুলোকে হিসেবে রাখা।

যারা এ রকম ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে সিয়াম পালন করে তারা আগের অপরাধের জন্য মাপ্রার্থী হয় ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়। মাগফিরাতের জন্য ইসতিগফার প্রয়োজন আর পূর্ব জীবনের অপরাধকে স্মরণ করে ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে যে ইসতিগফার করা হবে তার কয়েকটি উপকরণ রয়েছে।

প্রথম, অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। এ অপরাধের জন্য আল্লাহর কাছে যে শাস্তি রয়েছে তা মনে কল্পনায় নিয়ে এসে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনুতপ্ত হওয়া।

দ্বিতীয়, আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করে বিনয়ের সাথে মা প্রার্থনা করা।

তৃতীয়, মনে মনে এ প্রত্যয়, প্রতিশ্র“তি ও অঙ্গীকার থাকা যে, সেই অপরাধের আর পুনরাবৃত্তি হবে না। ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে সিয়াম পালন করা তখনই সম্ভব হয় যখন মানুষের মধ্যে এমন মানসিক অবস্থা থাকে ইসতিগফারের এ সব উপকরণসহকারে গোটা রমজানব্যাপী যখন আল্লাহতে আত্মসমর্পণ করে তখন গত জীবনের অপরাধ, পাপ ও গোনাহের খাঁটি তওবা হয়ে যায়। আর সে তওবাকে আল্লাহ কবুল করেন। সে তওবা যদি কবুল হয়ে যায়, তাহলে গত জীবনের সব অপরাধ মাফ হয়ে যায়।

রমজানের এক মাস ধরে এরূপ ঈমান ও ইহতিসাবের সাথে যারা সিয়াম পালন করে এবং আল্লাহর কাছে মা চায়, তারা গত জীবনের অপরাধগুলো মা করিয়ে নিতে পারে। কারণ, এ মাসে আল্লাহর ভয়ে এবং আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে গিয়ে পানাহার ও যৌনাচার পরিত্যাগ করতে হয় এবং অন্য সময়ের চেয়ে বেশি এবাদত করতে হয়। কাজেই এ সময় আল্লাহর করুণা ও মা পাওয়া অনেক সহজ।

আল্লাহ এ মাকে রমজান মাসের একটা বৈশিষ্ট্য করে দিয়েছেন। যারা রমজান মাস পেয়েও তাদের গোনাহ মা করিয়ে নিতে পারল না, তাদের চেয়ে হতভাগা আর কেউ নেই। একবার জিব্রাঈল আ: রাসূল সা:-এর কাছে এসে বললেন, যারা রমজান পেল এবং তার গত জীবনের অপরাধ মা করিয়ে নিতে পারল না সে ধ্বংস হোক, তখন রাসূল সা: বলেছেন, আমিন। যে রাসূল সা:-কে আল্লাহ গোটা সৃষ্টির জন্য রহমতস্বরূপ ঘোষণা করেছেন সেই রাসূল এমনসব মানুষের জন্য বদদোয়ায় আমিন বলছেন, যারা রমজান পেয়েও নিজের গোনাহ মা করিয়ে নিতে পারল না। অর্থাৎ রমজান মাস হলো মা ও মাগফেরাতের মাস। প্রতিটি মানুষের উচিত এ মাসে সিয়াম সাধনা পালন করে আল্লাহর কাছে থেকে মা অর্জন করা। যারা তা পারে না তারা সত্যিই ধ্বংসের উপযোগী।

রাসূল সা: বলেছেন, রমজান মাসে তোমরা চারটি কাজ বেশি বেশি কর। তার মধ্যে একটা হলো ইসতেগফার করা, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি মা প্রার্থনা করা। এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে।

মা লাভের জন্য আরেকটা সহজ উপায় হলো ভালো কাজ করা। কারণ, ভালো কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়। পুণ্য পাপকে মিটিয়ে দেয়। আর এ রমজানে যেকোনো ভালো কাজ করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায় কমপে ৭০ গুণ বেশি। কুরআন চর্চা, ইবাদত, মানুষের সেবা, দুঃখী মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করা, আল্লাহর দীনের কাজ এ মাসে বেশি বেশি করা উচিত।

সার কথা, রমজান মাসে গত জীবনের সব গুণাহের মা লাভের জন্য কয়েকটি কাজ বেশি করে করা দরকার। প্রথম, ইসতিগফার। দ্বিতীয়, মন্দ কাজ থেকে আত্মরা করা। তৃতীয়, রমজানে নির্দেশিত ইবাদতগুলো ঠিকভাবে পালন করা। চতুর্থ, বেশি বেশি ভালো কাজ করা। তাহলেই আশা করা যায় যে, সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যাবে এবং অপরাধের মা পেয়ে নাজাতের প্রত্যাশা করা যাবে।

Category: রোজা