ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

যুব সমাজে রমজানের প্রভাব

রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা। রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয়ে যায় তারাবির প্রস্তুতি। আবার শেষ রাতে সাহরি খাওয়ার জন্য অন্য রকম আয়োজন। এগারোটি মাসের চিরচেনা রুটিনের সবকিছু পাল্টে যায়। আমরা যেন নতুন এক জীবন ধারায় প্রবেশ করি। রমজানের প্রথম দশক রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের আর শেষ দশক জাহান্নাম থেকে মুক্তির। জাহান্নাম থেকে প্রতিটি মুমিনের প্রত্যাশিত ক্ষমার। রমজানের শেষ দশক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়টিতে এমন এক রজনী রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আর সেটি হলো লাইলাতুল কদর। এ রজনী লাভের আশায় অনেকেই মসজিদে ইতেকাফে বসেন। এভাবে এক সময় শাওয়ালের একফালি চাঁদ মুমিনের ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দের বারতা নিয়ে হাজির হয়।

রমজান আসে, আবার চলে যায়, রেখে যায় কিছু স্মৃতি, ইবাদতের কিছু আনন্দঘন মুহূর্তের স্মরণ। মাহে রমজান থেকে কে কতটুকু শিক্ষা অর্জন করতে পারল, কে কতটুকু কোরবানি করতে পারল—এ নিয়ে হিসেব-নিকেশ হয়। রমজান সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যেই কমবেশি প্রভাব বিস্তার করে। আমার কাছে মনে হয়, রমজান সবচেয়ে বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে আমাদের যুব সমাজের মধ্যে। রমজানের প্রথম দিনের তারাবির নামাজে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি মুসুল্লি দেখেছি মসজিদগুলোতে। এর মধ্যে ৭৫ ভাগ হলো যুব সমাজের অংশ। আমাদের দেশে অসংখ্য শিশু-কিশোরও রোজা রাখে। মসজিদে ফরজ নামাজের পাশাপাশি তারাবির নামাজেও এসব শিশু-কিশোরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

আমাদের দেশে মসজিদে এসব শিশু-কিশোরের উপস্থিতিকে অনেক মুসুল্লি বিরক্তিকর দৃষ্টিতে দেখেন। এতে আমার মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আমি মসজিদে বাচ্চাদের উপস্থিতিকে খুবই ইতিবাচকভাবে দেখি। তাদের কিছু শিশুসুলভ আচরণ আমার মধ্যে বিরক্তি নয়, বরং আনন্দই প্রকাশ করে। এরাই এক সময় মসজিদকে ভরে তুলবে। তাদের মসজিদমুখী করতে না পারলে আমরা আল্লাহর কাছে দায়ী থাকব।

আজকাল প্রযুক্তির যুগে যেভাবে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অনুষ্ঠান হয়, সেসব অনুষ্ঠান ফেলে তারা যে মসজিদে আসে সেটা তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আজকে তাদের দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার কত চেষ্টা হচ্ছে, সেখানে যেসব বাচ্চা মসজিদে আসে তাদের বরং অনেক আদর করা উচিত। তাদের স্নেহ-প্রীতি দিয়ে মসজিদে ব্যস্ত রাখা প্রয়োজন। ছোটকালের এ অভ্যাসের কারণেই যুব বয়সেও তারা ইবাদতের মৌসুম রমজানে মসজিদে ভিড় করে। তাদের এই ভিড় করা ইসলামে অনেক দামি বিষয়।

আমাদের মহানবী (সা.) এক হাদিসে বলেছেন, সাত শ্রেণীর মাুনষ কেয়ামতের দিন আরশের নিচে ছায়া পাবে। তার মধ্যে অন্যতম একটি দল হলো সেসব যুবক যারা তাদের যৌবনকাল আল্লাহর ইবাদতে কাটিয়েছে। রমজানকে কেন্দ্র করে যুবকদের মসজিদে উপস্থিতিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। তাদের মধ্যে দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে। দ্বীনি প্রেরণা সৃষ্টি করতে হবে। যুবকরাই হলো নতুন কিছু সৃষ্টির কারিগর। তাদের অদম্য সাহস, উদ্দীপনা সুন্দর কিছু গড়তে ভূমিকা রাখে। এদেশের ইমাম-খতিবরা রমজানকে কেন্দ্র করে যুবকদের মধ্যে কোরআন শিক্ষার প্রসার করতে পারে। সমাজের সব ধরনের অনৈতিক কাজ বন্ধ করার জন্য উত্সাহ দিতে পারে। রমজানের প্রতিটি রোজা, তারাবি, ইফতারসহ সব আমলে যুবকদের মধ্যে যে একনিষ্ঠতা লক্ষ্য করা যায়, তা এক কথায় অতুলনীয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রমজানের পরিপূর্ণ সুফল অর্জন করার তৌফিক দিন।

Category: রোজা