ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রমজানুল মোবারকের গুরুত্ব তাত্পর্য

আল্লাহ তা’য়ালা তার বান্দাদেরকে কখনোই জাহান্নামে দিতে চান না। সে জন্য প্রত্যেক বছর রমজান মাস দিয়ে বান্দার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করে নিষ্পাপ করেন। দোযখের আগুন থেকে নিষ্কৃতি দেন। যেমন—আবু হুরায়রাহ (রা.) এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমু’আহ থেকে অন্য জুমু’আহ আর এক রমজান থেকে অন্য রমজান-এর মাঝের পাপের খেসারতকারী হয়—যখন বড় বড় পাপ থেকে বিরত থাকা হয়। (মুসলিম, সহীহুত তারগীব ওয়া আত তারহীব, ১ম খন্ড, ৪৮৮ পৃ:, হাদীস নং-৯৮০)।

আমর ইবনে মুর্রাহ আলজুহানী (রা.) বলেন, একজন লোক নবী (স.)’র কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার রায় কি? আমি যদি এই সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন ছাড়া’ ইবাদাতের যোগ্য কেউ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। আর আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি ও যাকাত দান করি এবং রমজানের রোজা রাখি ও সেই রাতে নামাজে দাঁড়াই তাহলে আমি কাদের মধ্যে হতে পারি? তিনি (স.) বললেন: তুমি সিদ্দীক ও শহীদদের মধ্যে হতে পারবে (সহীহ ইবনে হিব্বান)।

আবু হুরায়রাহ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, রামজানের প্রথম রাত যখন আসে তখন শায়তানদের এবং জ্বীনের উদ্ধতদের কয়েদ করা হয়। আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। অতঃপর তার মধ্যে কোন দরজাই খোলা হয় না। আর জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়। তারপর তার মধ্যে কোন দরজাই বন্ধ করা হয় না।

আর একজন আহ্বানকারী এ আহ্বান করে, হে ভাল কিছুর আকাঙ্ক্ষী এগিয়ে এসো এবং হে মন্দের উদ্যোগী পিছে ফিরে যাও। আর আল্লাহর জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত ব্যক্তিবর্গ রয়েছে (তুমি হয়তো তাদের মধ্যে হতে পার)। এ আহ্বান প্রত্যেক রাতেই হয়। (তিরমিযী ৬৮২, ইবনে মাজাহ ১৬৪২, আহমাদ, মিশকাত-১৭৩ পৃষ্ঠা)।

সাহল ইবনে সা‘দ (স.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন: জান্নাতের আটটি দরজা আছে, তন্মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়্যান’ তা দিয়ে কেবলমাত্র সিয়াম পালনকারী ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না (বুখারী ৩২৫৭, মুসলিম ১১৫২, তাহকীক মিশকাত ১৯৫৭)। আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (স.) বলেন: তাঁর উন্মাতকে রমজানের শেষ রাতে ক্ষমা করে দেয়া হয়। বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! সেটা কি লাইলাতুল ক্বদর? তিনি বললেন, না। বরং একজন মজদুর যখন তার কাজ শেষ করে তখন তাকে পুরোপুরি তার প্রাপ্য দেয়া হয় (আহমাদ, মিশকাত ১৭৪ পৃ:)।

আরেক বর্ণনায় তিনি (স.) বদ দু’আ দিয়ে বলেন, সেই ব্যক্তির নাক মাটিতে মিশে যাক, যে রমজান পেল অথচ সে নিজেকে ক্ষমাপ্রাপ্ত করে নিতে পারলো না (তিরমিযী, মিশকাত, ৮৬ পৃষ্ঠা)। অন্য বর্ণনায় আছে, জিবরীল আমীন তাঁর ঐ বদ দু’আতে আমীন! আমীন! বলেছিলেন (ইবনে খুযাইমাহ, ৩য় খণ্ড, ১৯২ পৃষ্ঠা)। আবূ ‘উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, একদা আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, একটি সম্প্রদায় উল্টোভাবে ঝুলছে। তাদের গালটি ফাঁড়া। তাত্থেকে রক্ত ঝরছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা?- বলা হল এরা তারা, রমজান মাসে বিনা ওজরে সিয়াম রাখে না যারা (সহীহ ইবনে খুযাইমাহ, ৩য় খণ্ড, ২৩৭ পৃষ্ঠা, ইবনে হিব্বান)।

যে ব্যক্তি শরীয়তী ওজর ছাড়া এ মাসের একটি রোজাও ছেড়ে দেবে সে যদি সারা জীবনও সিয়াম পালন করে তবুও তার পাপের খেসারত হবে না (বুখারী)। যে ব্যক্তি এ মুবারাক মাসেও আল্লাহকে রাযী করতে পারল না, সে বড়ই অভাগা (ইবনে হিব্বান)।

রমজানুল মোবারাকের কারণে জান্নাতকে সারা বছরের জন্য সাজানো হয় এবং রমজানের প্রথম রাতে ‘আরশ থেকে এক মনোরম বাতাস প্রবাহিত হয় যা জান্নাতের গাছের পাতাগুলো ছুঁয়ে যায়। ফলে এক সুমধুর ও মিষ্টি আওয়াজ সৃষ্টি হয়। তখন জান্নাতের হুরেরা ফরিয়াদ করে যে, এমন কেউ আছে কি, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমাদের দরখাস্ত পেশ করে? রমজানের প্রত্যেক রাতে এক আহ্বানকারী এ আহ্বান করে, কোন প্রার্থনাকারী আছে কি? যাকে আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীন প্রতিদান দেবেন? কোন তওবাহকারী কাছে কি যার তওবাহ তিনি কবুল করবেন। কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? যাকে তিনি ক্ষমা করে দেবেন? এমন কেউ আছে কি যে, সেই আল্লাহকে ঋণ দেবেন যিনি কাঙ্গাল নন এবং কৃপণ নন, বরং পুরোপুরি দাতা এবং অধিক দাতা (ইবনে হিব্বান)।

Category: রোজা