ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রমজান ও আল কোরআন

রমজান বছরের গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ একটি মাস। মহান রাব্বুল আলামিন এ মাসে কোরআনে কারিম অবতীর্ণ করে তাকে মহিমান্বিত করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী’ (বাকারা-১৮৫)।

হজরত মোহাম্মদের (সা.) ওপর কোরআনে কারিম অবতীর্ণ হওয়ার আগে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রথমে সব কোরআন শরীফ একবারে লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ করেন। উল্লিখিত আয়াতে সে অবতীর্ণের কথাই বলা হয়েছে। মুফাসসিরিন ও মুহাদ্দিসিনের মতে, অবতীর্ণের সেই বিশেষ রজনীটি ছিল শবেকদর। আর সে বছর শবেকদর হয়েছিল রমজানের সাতাশতম রজনীতে। তবে একটি কথা ভালোভাবে স্মরণ রাখতে হবে, শবেকদর ছাব্বিশে রমজান দিবাগত রাতে নির্ধারিত নয়। নবী করিমকে (সা.) তার সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়েছিল।

উম্মতের বিশেষ কল্যাণের প্রতি খেয়াল করে তা আবার ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে হাদিসে তার কিছু আলামত পাওয়া যায়। ওলামায়ে কেরামের ভাষ্যমতে, রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতে শবেকদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে হিসেবে রুসুম-রেওয়াজে পেছনে না ছুটে শবেকদরের সন্ধানে বিনিদ্র রাত যাপন করা কাম্য।

কোরআনে কারিমের সঙ্গে রমজানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ মাসে কোরআন দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হয়েছে, কোরআনের জন্যই এ মাসের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি রমজানে হজরত জিবরাঈল (আ.) এসে রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে কোরআনে কারিমের দাওর করতেন। হজরত জিবরাঈলের আগমন ও রাসুলের সঙ্গে কোরআনের দাওরের আনন্দের আতিশয্যে নবী করিম (সা.) মেঘমালাকে তাড়িয়ে নেয়া প্রবল বাতাসের চেয়ে আরও বেশি দান-খয়রাত করতেন।

রমজানে মহান রাব্বুল আলামিন কোরআনে কারিম তিলাওয়াতের বিশেষ ধারা চালু করে রেখেছেন—ইরশাদ হয়েছে ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে আর যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় (নামাজে কোরআন তিলাওয়াতে) রাত কাটায়, আল্লাহ তার আগে ও পরের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন (আল হাদিস)।

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে ‘রোজা এবং কোরআন আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ আমি তাকে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত রেখেছি, তাই আপনি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। আর কোরআন বলবে, হে আল্লাহ আমি তাকে রাতের আরামের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি, তাই আপনি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। অতঃপর তাদের উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে।

রমজানের রাতে নামাজে কোরআন তিলাওয়াতের বিশেষ ব্যবস্থা হলো তারাবি। তারাবি শেষে সামান্য বিশ্রামের পর আবার শেষ রাতে তাহাজ্জুদ। এভাবে রাত জাগরণকারীদের জন্যই রয়েছে হাদিসে উল্লিখিত বিশেষ পুরস্কার। এছাড়াও অন্যান্য সময় কোরআনে কারিমের বেশি বেশি তিলাওয়াত করবে। কোরআনে কারিমের তিলাওয়াতের জন্য বিশেষ কোনো অবস্থা বা সময়ের প্রয়োজন হয় না; বরং যখন-তখন অজু থাকা বা না থাকা দেখে না দেখে সর্বাবস্থায় পড়া যায়।

কোরআনে কারিম না বুঝে পড়লে ছওয়াব হয় না, একটি ক্ষুদ্র মহলের এ দাবি নিতান্তই ভুল। কারণ রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন ‘যে ব্যক্তি কোরআনে কারিমের একটি অক্ষর পড়বে, সে তার বিনিময়ে প্রতি অক্ষরে ১০টি করে নেকি পাবে।’ আমি এটা বলি না যে, ‘আলিফ লাম মিম’ তিনটি মিলে এক অক্ষর; বরং আলিফ এক অক্ষর লাম এক অক্ষর এবং মিম এক অক্ষর’ (আল হাদিস)। উল্লিখিত হাদিসে নবী করিম যে হরফে মুকাত্তায়াতের কথা বলেছেন, তার অর্থ কারও জানা নেই এবং এসব আয়াতের অর্থ খোঁজাও মহাপাপ অথচ তাতে সওয়াবের ঘোষণা স্পষ্ট। তাই কোরআন নাজিলের মাস রমজানকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে কাজে লাগানোর সচেষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়।

Category: রোজা