ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রমজান ও তাকওয়া

মহান আল্লাহপাক তাঁর পবিত্র কোরআনের অসংখ্য জায়গায় তাকওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন এবং মুত্তাকি লোকদের পরিচয় তুলে ধরেছেন। উদাহরণস্বরূপ নিম্নের কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করছি। এটি (আল-কোরআন) জীবনযাপনের ব্যবস্থা, সেই মুত্তাকিদের জন্য যারা গায়েবে (অদৃশ্য আল্লাহতায়ার সত্তা ও গুণাবলী, ফেরেশতা, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি) বিশ্বাস করে, নামাজ কায়েম করে, আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে, যে কিতাব তোমার প্রতি নাজিল করা হয়েছে (অর্থাত্ আল-কোরআন) এবং তোমার আগে যেসব কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে, সে সবকেই বিশ্বাস করে এবং পরকালের প্রতি যাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে (বাকারা-২-৪)।







তোমরা পূর্বদিকে মুখ করলে কি পশ্চিম দিকে, তা কেন প্রকৃত পুণ্যের ব্যাপার নয়। বরং প্রকৃত পুণ্যের কাজ এই, মানুষ আল্লাহকে পরকাল-ফেরেশতাকে এবং খোদার অবতীর্ণ কিতাব ও তাঁর নবীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা সহকালে মান্য করবে; আর খোদার ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের প্রিয় ধনসম্পদকে আত্মীয়স্বজন, এতিম, মিসকিন, পথিক, সাহায্যপ্রার্থী ও দাসদের মুক্তির জন্য ব্যয় করবে; এছাড়া নামাজ কায়েম করবে ও জাকাত দেবে। প্রকৃত পুণ্যবান তারাই যারা ওয়াদা করলে তা পূরণ করে; দারিদ্র্য, সঙ্কীর্ণতা ও বিপদের সময় এবং হক ও বাতিলের দ্বন্দ্ব সংগ্রামে পরম ধৈর্য অবলম্বন করে। বস্তুত এরাই প্রকৃত সত্যপন্থী, এরাই মুত্তাকি (বাকারা-১৭৭)।

এরা (মুত্তাকি লোকেরা) ধৈর্যশীল, সত্যবাদী সত্যপন্থী, বিনীত-অনুগত, দাতা এবং এরা রাতের শেষভাগে খোদার কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রার্থনা করে থাকে (অর্থাত্ তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে) (আল-ইমরান-১৭)।
যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি পালন করে এবং এ ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ এ ধরনের মুত্তাকিদের ভালোবাসেন (ইমরান-৭৬)।

তারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, ন্যায় ও সত্কাজের আদেশ করে, অন্যায় ও পাপকাজ থেকে লোকদের বিরত রাখে এবং কল্যাণকর কাজগুলোর প্রতি তারা তত্পর থাকে। এরাই পুণ্যবান লোক। আর যে ভালো কাজই তারা করবে, তাদের সে কাজকে কখনও অসম্মান করা হবে না। আর আল্লাহ তো মুত্তাকিদের খুব ভালো করেই জানেন (ইমরান-১১৪-১১৫)।

পরকালের ঘর (অর্থাত্ জান্নাত) আমি আল্লাহপাক সেই সব লোকের জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করে দেব, যারা পৃথিবীতে অহঙ্কার করে না এবং বিপর্যয় সৃষ্টি করে না। আর পরিণামে সফলতা কেবল মুত্তাকি লোকদের জন্যই (কাসাস-৮৩)।

অবশ্যই মুত্তাকি লোকরা সে দিন বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধারাগুলোর মধ্যে অবস্থান করবে। আল্লাহ তাদের যে নিয়ামত দান করবেন তা তাঁরা ভোগ করবে। তারা ইহজীবনে সত্কর্মীশীল ছিল। রাতে কম ঘুমাত, রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত, তাদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার ছিল (আল-কোরআন)।




Category: রোজা
%d bloggers like this: