ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রমজান : ভালো মানুষের পাঠশালা

মানুষ সাধারণত ভুল করে থাকে। ভুলের ঊর্ধ্বে নয় মানুষ। তবে এই ভুল করার মাধ্যম বিচিত্র। অনেক সময় মানুষ হয়তো জানেও না যে সে ভুল করছে। যেমন আমরা অনেক সময় হাসতে হাসতে অপরের প্রসঙ্গে কথা বলি, কুশল জিজ্ঞাসা করি। খারাপ কথা নয়, ভালো কথাই। কিন্তু বলতে বলতে দেখা যায় এমন এক প্রসঙ্গ চলে এলো, যা নিয়ে কথা বলাটা গিবত বা পরনিন্দার পর্যায়ে দাঁড়িয়ে যায়। যা কিনা মারাত্মক একটি গোনাহের কাজ। এই গোনাহের চিন্তাটাও মাথায় আসে না, অথচ আমরা দিব্যি পরনিন্দা করে যাচ্ছি।

পরনিন্দার সূচনাটা হয়তো অন্যভাবে শুরু হয়েছে। সেজন্য এটাকে আর গিবত বলে মনেই হয়নি। এরকমটা যদি হয়েই থাকে তাহলে সে রহমতপ্রাপ্তির পথে বাধার সৃষ্টি করবে। অপরের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ বা শত্রুতা পোষণ করা খুবই বাজে একটি প্রবণতা। যারা সঙ্কীর্ণমনা, অপরের ভালো যাদের সহ্য হয় না, যারা হিংসুক কিংবা যারা অপরের মুখোমুখি হওয়ার সাহস রাখে না—তারাই মূলত এ ধরনের মানসিক প্রবণতায় ভোগে।

ইসলামকে ভালোভাবে বা যথার্থভাবে চর্চা না করার কারণেই এই মৌলিক মানবীয় দুর্বলতাগুলো মানুষের মাঝে বাসা বাঁধে। কেননা ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য চমত্কার একটি জীবন বিধান দিয়েছে। দিয়েছে একটি সুন্দর আচরণবিধিও। কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, তার একটি ভারসাম্যমূলক নীতি ইসলাম দিয়ে দিয়েছে। তা যদি আমরা যথার্থভাবে অনুসরণ করি তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।

মানবীয় যে অসত্ গুণাবলীর কথা বললাম সেগুলো যদি আমরা চর্চা করি তাহলে আমাদের পুণ্য কর্মগুলোও কোনোরকম সার্থকতা খুঁজে পাবে না। রমজান মাসেও এসব প্রবণতা আমাদের রহমত অর্জনের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

এমন কোনো কথা নেই যে পৃথিবীতে সব মানুষই সবাইকে পছন্দ করবে। একজন আরেকজনকে পছন্দ না-ও করতে পারে। ভালো না লাগা থেকেই তা হয়। অবশ্য ভালো না লাগার কারণ তো একটা থাকেই। তো কেউ যখন কাউকে পছন্দ না করে, তখন তার কোনো কিছুই ভালো লাগে না। এক কথায় তাকে চোখের সামনে না দেখলেই তার ভালো লাগে।

কিন্তু এ ধরনের মানুষ যখন চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায় তখন চলন বাঁকা বলে মনে হয়। এটা এক ধরনের মানসিক সমস্যা। এই সমস্যা থেকেই ছিদ্রান্বেষী চিন্তার উদ্ভব ঘটে। ছিদ্র অন্বেষণ করে কিছু পাওয়া না গেলেই মিথ্যা অপবাদ রটানোর পালা শুরু হয়ে যায়। এর ফলে দেখা দেয় সন্দেহপ্রবণতা, অবিশ্বাস এবং ঘৃণা। অপরের প্রতি এই ঘৃণা-বিদ্বেষ রমজানের সব অর্জন, সব রহমত নষ্ট করে দিতে পারে। তাই এই বদঅভ্যাসটি যে করেই হোক বর্জন করা উচিত।

রমজান এসেছে মানুষকে ধৈর্যশীল করার জন্য, মানুষকে শিষ্টাচার শেখানোর জন্য। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য—এই উপলব্ধিটা যথার্থভাবে বোঝানোর জন্যই রমজানুল মোবারক এসেছে। একজন মানুষ যখন রোজা রাখে তখন রোজা অবস্থায় ঝগড়া-বিবাদ করা ঠিক নয়, ঘৃণা ও বিদ্বেষভাবাপন্ন হয়ে মানুষকে দূরে সরানো বা নিজে অন্যের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়াও একইভাবে ঠিক নয়।

আর এসব বিষয় থেকে দূরে রাখার জন্য রোজা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যদি কারও সঙ্গে তোমার শত্রুতা থাকে এবং সেই শত্রুতাকে মিত্রতায় পরিণত করার জন্য বা নিজের কাছে আনার জন্য যদি তুমি কোনো অর্থ-সম্পদ ব্যয় করো তাহলে সেই ব্যয় হবে আল্লাহর রাস্তায় বড় ধরনের সদকার অন্তর্ভুক্ত।’ সরকারি দল বিরোধী দলের প্রতি হোক আর বিরোধী দল সরকারি দলের প্রতি হোক, পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য নয়। এক্ষেত্রে নামাজ এমন একটা জিনিস যে জোহরের নামাজের পর যদি কেউ কারও প্রতি বিদ্বেষ, হিংসা ও ঘৃণা সৃষ্টি করে তাহলে তা আসরের আগেই মীমাংসা করে ফেলতে হবে। তারপরও যদি হিংসা-বিদ্বেষ থেকে যায় তাহলে কোনো অবস্থাতেই যেন মাগরিব একসিড না করে। অর্থাত্ দুটো নামাজের মধ্যে যেন পরস্পরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণা শেষ হয়ে যায়। এমনই সহনশীলতা আল্লাহর ইবাদতের মধ্য দিয়ে অর্জন করতে হবে।

Category: রোজা