ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রমজান মাসে দাঁতের যতœ ও চিকিৎসা

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র একটি মাস। এ মাসেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন অবতীর্ণ হয়। রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা পালন করেই রোজা রাখতে হয়। রমজান মাসে দাঁতের যতœ ও চিকিৎসার ব্যাপারে সর্বসাধারণের মনে কিছু প্রশ্ন দেখা দেয় আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেকেই বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করেন, যা মোটেই কাম্য হতে পারে না।

দাঁতের যতেœ টুথব্রাশ ও পেস্ট : রমজান মাসের দাঁতের যতেœ রাতে খাবার পর এবং সেহরির পর দাঁত ব্রাশ করতে হবে। সেহরির শেষ সময়ের আগে অবশ্যই সবার ভালো টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে। সেহরির পর দাঁত ব্রাশ না করলে রমজান মাসে আপনার দাঁতের সার্বিক অবস্থা আরো খারাপ পর্যায়ে যেতে পারে। তবে সবার মনে যে প্রশ্ন দেখা দেয়, সেটা হলো টুথপেস্ট বা টুথব্রাশ ব্যবহার করা যাবে কি না?

এক কথায় উত্তর দিতে হলে রমজান মাসে দিনের বেলায় টুথপেস্ট ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করার সময় অসাবধানতায় পেস্ট গলার ভেতরে চলে যেতে পারে। তা ছাড়া টুথপেস্টের স্বাদে রোজা মাকরুহ হয়ে যাবে। মাকরুহ আরবি শব্দ। এক কথায় বলতে গেলে ত্রুটিযুক্ত আমলকেই মাকরুহ বলা হয়। রোজায় কোনো ত্রুটি রাখা ঠিক নয়। টুথপেস্ট ছাড়া অনেকে কয়লা, ছাই দিয়ে দাঁত মেজে থাকেন।

দাঁতের যতেœ কয়লা এবং ছাই এমনিতেই ব্যবহার করা ঠিক নয়। রমজান মাসে টুথব্রাশ ব্যবহার করা যাবে কি না সেটা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। শুধু টুথব্রাশ ব্যবহার করার ওপর কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে যেহেতু মাসটি রমজান সেদিক থেকে এ মাসে টুথব্রাশ ব্যবহার না করে দিনের বেলায় নিমের ডাল বা জয়তুনের ডাল দিয়ে মেছওয়াক করলে এক দিকে যেমন দাঁতের যতœ নেয়া হবে আর অন্য দিকে নবীর সুন্নতও পালন করা হবে। তবে একান্তই যদি কেউ টুথব্রাশ ব্যবহার করেন সে ক্ষেত্রে রোজার বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি হবে না।

দাঁতের স্কেলিং : আমাদের দেশে জিনজিভাইটিস বা মাড়ি রোগের প্রকোপ বেশি। মূলত মাড়িতে পাথর জমা হওয়ার কারণে জিনজিভাইটিস হয়ে থাকে। জিনজিভাইটিসের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি দাঁতের স্কেলিং করা জরুরি। এখন প্রশ্ন হলো রমজান মাসে দিনের বেলায় স্কেলিং করা যাবে কি না? দাঁতের চিকিৎসায় রমজান মাসে দিনের বেলায় স্কেলিং করা যাবে। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে স্কেলিং করার সময় রক্ত বা মেশিন থেকে যে পানি বের হয় তা যদি অসাবধনতায় গলার ভেতরে চলে যায় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। তাই রক্ত বা পানি যাতে গলার মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য স্কেলিং করার সময় হাই সাকশন মেশিন ব্যবহার করা উচিত। রোগীদেরও অবশ্যই সচেতন হতে হবে যেন গলার ভেতরে কিছু প্রবেশ না করে।

দাঁত তোলা ও ফিলিং : রমজান মাসে দিনের বেলায় খুব জরুরি প্রয়োজন হলে ইনজেকশন দিয়ে অবশ্যই দাঁত তোলা যাবে। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে স্কেলিং করার মতো দাঁত তোলার সময়ও যদি কোনো কারণে রক্ত গলার মধ্যে প্রবেশ করে সে ক্ষেত্রে রোজা ভেঙে যাবে। তবে এসব রোজার ক্ষেত্রে একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা আদায় করে নিলেই তা শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ এ ক্ষেত্রে রোজা পালনকারী ব্যক্তি ইচ্ছা করে রোজা ভাঙেননি। রমজান মাসে দাঁতের ফিলিং অবশ্যই করা যাবে এতে কোনো নিষেধ নেই। তবে ফিলিং করার সময় পানি যেন গলার ভেতরে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ওরাল এবসেস : মুখের ভেতরে কোনো ফোড়া থাকলে তা ড্রেন করা অর্থাৎ চিকিৎসার সময় যদি পুঁজ বের হয় তাহলে রোজা ভাঙবে না। সবার জানা উচিত মলমূত্র বা পুঁজ বের হওয়ার দ্বারা রোজা ভাঙে না। কিন্তু গলার ভেতরে কোনো কিছু প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যাবে।

দাঁতের ব্যথানাশক ওষুধ : রমজান মাসে দিনের বেলায় দাঁত ব্যথার জন্য ইনজেকশন আকারে কোনো ব্যথার ওষুধ অবশ্যই দেয়া যাবে। ব্যথার ইনজেকশন শরীরের গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হবে না। তবে ব্যথার জন্য যদি কোনো সাপোজিটরি পায়ুপথে দেয়া হয় তাহলে সাথে সাথে রোজা ভেঙে যাবে।

রমজান মাসে দাঁতের চিকিৎসার সময় যদি কেউ গ্লুকোজ, স্যালাইন এবং ভিটামিন জাতীয় ওষুধ শরীরে গ্রহণ করেন তাহলে সাথে সাথে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ এ জাতীয় ওষুধ মানবদেহে খাদ্য হিসেবে গৃহীত হয়ে থাকে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সব ওষুধ ইনজেকশন আকারে নেয়া বৈধ নয়। তবে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ইনজেকশন আকারে প্রদান করলে রোজা নষ্ট হবে না। রমজান মাসে দিনের বেলায় অ্যাজমা রোগীদের দাঁতের চিকিৎসার সময় যদি কোনো কারণে ইনহেলার নিতে হয় তাহলে রোজা সাথে সাথে ভেঙে যাবে।

লেখক : ডা: মো: ফারুক হোসেন, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন

Category: রোজা