ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রোজাদারদের জন্য কিছু পরামর্শ

রমজানের এই সময়টিতে স্বভাবতই আমাদের দেহঘড়ির খাদ্য গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। এছাড়া আবহাওয়া ও শারীরিক অবস্থার কারণে রোজা রাখতে গিয়ে অনেকে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হন। যদিও মানসিকভাবে শক্ত থাকলে এবং মনে ধর্মীয় আত্মবিশ্বাস থাকলে এসব সমস্যার অনেকটাই সমাধান করা যায়। তবে রোজার এ সময়টিতে কারও খাদ্যাভ্যাস যেন তার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেজন্য কিছু টিপস নিম্নে পত্রস্থ হলো—

– দিনের শেষে একবারে খুব বেশি খাবার খেয়ে ইফতার করলে অস্বস্তি লাগে এবং রাতে খেতে ইচ্ছা করে না। পরিমিত পরিমাণে ইফতার করে রাতে সামান্য হলেও খাওয়া ভালো।

– সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের ঠিক আগে স্বভাবতই রক্তের ফ্লুইড ও সুগারের লেভেল অনেক নিচে নেমে আসে। তাই ইফতারের সময় একসঙ্গে এবং দ্রুত অনেক খাদ্য গ্রহণের চেষ্টা করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে প্রথমে পানি, শরবত, দুধ বা ফলের রস জাতীয় কোনো তরল খাবার গ্রহণ করুন। এরপর খানিকটা বিরতি দিয়ে এবং মাগরিবের নামাজ আদায় করে অন্যান্য খাবার ক্রমান্বয়ে গ্রহণ করুন।

– ইফতারের পর বেশ খানিকটা সময় বিরতি দেয়ার পর রাতের খাবারে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর এবং ব্যালান্সড ডায়াট গ্রহণে সচেষ্ট থাকুন। আর রাতের খাবারের সঙ্গে আগের চেয়ে কম করে হলেও দুই গ্লাস পানি বেশি খাবার চেষ্টা করুন।

– আমাদের ইফতারি যেহেতু সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়, তাই এ খাবারগুলো হজমের সুবিধার জন্য রাতের খাবার ১০.১৫-১০.৩০ এর দিকেই খাওয়া ভালো।

– ইফতারে ভাজাপোড়া খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।
– ইফতারের ঠিক পরের সময়টিতে চা, কফি কিংবা সফট ড্রিংকস গ্রহণ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। চা, কফির প্রতি যারা অতিমাত্রায় আকৃষ্ট তারা ইফতারের ঠিক পরের সময়টিতে এই আকর্ষণ এড়াতে ফ্রেশ জুস কিংবা দুধ পান করে চা-কফি থেকে দূরে থাকুন।

– রমজানের সময়, বিশেষ করে ইফতারের পর যেকোনো ধরনের মিষ্টি খাবার বা ডেজার্ট খাওয়া উত্তম, তবে পরিমিত পরিমাণে।

– রোজার সময় সারাদিনে আপনার শরীরে যে পানির ঘাটতি দেখা দেয় সেটি দূর করার জন্য ইফতারের পর থেকেই একটু একটু করে বিশুদ্ধ পানি খাওয়া শুরু করুন এবং চেষ্টা করুন যেন ঘুমুতে যাওয়ার আগেই আপনার শরীরে কমপক্ষে আট গ্লাস বিশুদ্ধ পানি প্রবেশ করে।

– সম্ভব হলে ইফতারের পর হালকা এক্সারসাইজ যেমন ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন।
– যাদের ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে তারা রোজা রাখার অভ্যাসটিকে কাজে লাগিয়ে ধূমপান পরিহার করুন। এছাড়া ইফতারের পর পর কিংবা সাহরি খাওয়ার সময় ভুলেও ধূমপান করবেন না।

– ইফতারের সময় প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং উচ্চমাত্রা চর্বি ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
– মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিমাণে কম হওয়া চাই। বেশি মসলাযুক্ত খাবার এবং ভাজাপোড়া খাবার পরিত্যাজ্য।

– রমজান মাসে ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করার উপযুক্ত সময়।
– ইফতারের পর রাতে পেট ভরে খাবেন না। পেট এক-চতুর্থাংশ খালি রাখুন। এতে সাহরির খাবার খেয়ে স্বস্তিবোধ করবেন।

– এ মাসে আহার, স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস থেকে খুব বেশি ভিন্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আহার হবে সহজপ্রাপ্য ও সাধারণ। এ খাদ্য খেয়ে যেন স্বাভাবিক ওজন শরীরে বজায় থাকে, কমা ও বাড়া যেন ঘটে না। কেউ স্থূল হলে স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসার জন্য এ মাসের সংযম পালন সহায়ক।

আমাদের শরীরের জন্য কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাবার, অর্থাত্ ভাত, রুটি, প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার মাছ, মাংস; ডালজাতীয় খাবার এবং ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় খাবার, অর্থাত্ মাখন, ঘি ইত্যাদি দরকার। পরিমিত সুষম খাবার খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং দিনের কাজগুলো সঠিকভাবে করা যায়।

– আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। আঁশসমৃদ্ধ খাদ্য হচ্ছে গম, আটা, শস্যদানা ও বীজ, শাকসবজি, মটরশুঁটি, শিম, বরবটি, ঢেঁড়স, পুঁইশাক, মেথিশাক, খোসাসহ ফল, শুকনো ফল, ডুমুর, খেজুর, বাদাম। খাদ্য হবে সুষম এবং প্রতিটি গ্রুপ থেকে খাবার আহরণ করতে হবে। যেমন—ফল, সবজি, গোশত, কচি মোরগ, মাছ, রুটি, শস্য, দুধ ও দুধজাত খাবার।

তেলে ভাজা খাবার স্বাস্থ্যকর নয়। এতে বদহজম হয়, বুক জ্বলে ও ওজন বাড়ে। রোজার এ মাসে আপনি যদি বেশি খান তাহলে রোজার যে উদ্দেশ্য, সংযমের যে উদ্দেশ্য সেটাই ব্যর্থ হয়ে যায়। অন্যান্য সময় বা অন্যান্য মাসে আমরা দিনে দু’বার খাই। আর রমজানে খাওয়া হয় তিনবার। ইফতার তার পরে রাতের খাবার এবং সাহরি। তিনবারই আমরা বেশি পরিমাণে খাই। ইফতারে বেশি খাই, কারণ সারাদিন খাইনি। রাতে বেশি খাই কারণ ভোর রাতে খেতে পারি কি না পারি তা ভেবে আবার সাহরিতে বেশি খাই সারাদিন খেতে পারব না বলে। যার কারণে রমজানের যে লক্ষ্য সে লক্ষ্য আমাদের অর্জিত হয় না। রমজানের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের শরীরকে শুদ্ধ করা, মনকে শুদ্ধ করা। খাবারে যত সংযম অবলম্বন করা যাবে তত শরির শুদ্ধ হবে। মন শুদ্ধ হবে।

Category: রোজা