ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রোজার মহিমা

পবিত্র রমজান মাসকে রোজা পালনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রোজার মাধ্যমে বান্দা অধিকতর তাকওয়া ও পরহেজগারি হাসিল করতে সক্ষম হয়। এদিকে ইঙ্গিত করে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন— ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বনকারী হতে পার।’ —(সুরা বাকারা, আয়াত নং-১৮৩)

বছরের রাতগুলোর মধ্যে যে রাতটি সবচেয়ে বেশি মূল্যবান, তা হচ্ছে লাইলাতুল কদর।
এই একটি রাতের ফজিলত এক হাজার রাতের চেয়েও বেশি। এ সম্পর্কে সূরা কদরে মহান আল্লাহ বলেন—‘লাইলাতুল কদর এক হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।’

পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর কোনো একটি রাত লাইলাতুল কদর।
পবিত্র রমজান মাসে ফরজ আমলদারের আমলের মান বাড়িয়ে অন্যূন সত্তর গুণ করা হয় এবং নফলের মান ফরজের সমান দেয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—‘এ মাসে একটি ফরজ ইবাদতের ফজিলত অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমতুল্য। আর এ মাসের একটি নফল ইবাদতের মূল্য অন্য মাসের একটি ফরজের সমান।’

আরবি বারো মাসের মধ্যে রমজানই সবচেয়ে বরকতের মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা বান্দার সব কাজে বরকত ও রহমত দান করেন। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন—‘আর এটি এমন একটি মাস, যার প্রথম ভাগে আল্লাহর রহমত, মধ্য ভাগে গুনাহের মাগফিরাত এবং শেষ ভাগে দোজখের আগুন থেকে মুক্তি লাভ।’
মাহে রমজানে বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় বলে তিরমিজি শরিফের এক হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে।

আদমসন্তানের সত্ কাজের সাওয়াব দশ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়, কিন্তু রোজার নেকি সীমাবদ্ধ নয়। যেহেতু রোজাদার আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে নিজের কামনা-বাসনা ও আহার্য পরিত্যাগ করে, এজন্য এর সাওয়াব আল্লাহ তায়ালা নিজে দেবেন বলে হাদিসে কুদসিতে ঘোষণা করেছেন।
রোজা রাখলে দেহের রস শুষ্ক হয়ে যায়, এতে কামশক্তি হ্রাস পায় এবং শয়তানের গতি রোধ করা হয়। এ পর্যায়ে রমজানে শয়তানদের শেকলাবদ্ধ করা হয় বলে হাদি সে রয়েছে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে—যে ব্যক্তি পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখে, তার জন্য সব ফেরেশতা, পশুপাখি, গাছপালা, বৃক্ষলতা, কীটপতঙ্গ, এমনকি জীব-নির্জীব যত প্রাণী দুনিয়াতে রয়েছে, সবাই রোজাদার ব্যক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে মাফফেরাত প্রার্থনা করতে থাকে।

মুসলিম বিশ্ব বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা ও আন্তরিকতার সঙ্গে রমজানের রোজা পালনের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জগতে উচ্চস্থানে আরোহণ করে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ ইমান ও বিশুদ্ধ ইখলাসের সঙ্গে রোজা রাখার তওফিক দিন এবং পবিত্র রমজান ও রোজার পূর্ণ ফজিলত আমাদের দান করুন।

Category: রোজা