ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

র ম জা ন হে ল থ

পুরান তেলে ভাজা ইফতারি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
আমাদের দেশে রোজায় ইফতারি হিসেবে তেলে ভাজা খাবারই বেশি চলে। ঘরে কিংবা বাইরে যেখানেই হোক, এসব ইফতারের প্রায় সবই পুরনো তেলে ভাজা অর্থাৎ একই তেলে বারবার ভেজে তৈরি করা হয়। পুরনো তেলে ভাজা খাবার অনেকেরই প্রিয় এর বিশেষ সুবাসের কারণে। কিন্তু আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা নেই, একই তেলে বারবার ভাজা খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

এ ক্ষেত্রে শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হচ্ছে বারবার ভাজা তেল। একই তেল বারবার গরম করলে তেলের স্বাভাবিক রাসায়নিক গুণের পরিবর্তন ঘটে। আপন বৈশিষ্ট্য হারিয়ে তেল ক্ষতিকর চরিত্র ধারণ করে। ফলে তেলের মধ্যে এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয় যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, বারবার গরম করা তেলে কয়েকটি পলি নিউকিয়ার হাইড্রোকার্বনগুলোও শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর বেনজোপাইরিন। এ কারণে একই তেলে বারবার খাবার তৈরি না করাই ভালো। শুধু ক্যান্সারের ঝুঁকিই নয়, পুরনো তেলে তৈরি খাবার খেলে বদহজম, পেটে গ্যাস হওয়া, পেটে অস্বস্তি, ব্যথা হওয়ার মতো ঘটনা হরহামেশাই ঘটতে পারে। তা ছাড়া যাদের একটু-আধটু গ্যাসের সমস্যা কিংবা পেপটিক আলসার ডিজিজের সমস্যা আছে পুরনো তেলে তৈরি খাবার খাওয়ার পর তাদের সমস্যাটি আর প্রকট হতে পারে।

ইফতারির জন্য যেসব খাবার একই তেলে বারবার ভেজে তৈরি করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পিঁয়াজু, বেগুনি, চপ, ছোলা-বুট, চিকেন ফ্রাই, জিলাপি, বুন্দিয়া ইত্যাদি। এসব খাবার প্রতিদিন নতুন তেলে ভেজে কেউ তৈরি করে বিক্রি করে কি না সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

তাই প্রতিদিন নতুন তেলে ঘরে তৈরি খাবার গ্রহণ করাই নিরাপদ। পুরনো তেলে ভাজা খাবার যতই সুবাসিত কিংবা মজাদার হোক তা না খাওয়াই ভালো।

ইফতারে ভাজাপোড়া ও সেহরিতে চা

রোজায় ভাজাপোড়া খাবার প্রায় সবারই প্রিয় কিন্তু এই ভাজাপোড়াজাতীয় ইফতারি গ্রহণের ফলেই অনেক রোজাদার শারীরিক অস্বস্তিতে ভোগেন বলে উল্লেখ করেছে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রমাদান ফাস্টিং রিসার্চ’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণালব্ধ নিবন্ধ। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভাজাপোড়া খাবার, অতি মসলাযুক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের কারণে অনেকেই রোজা রেখে অবশেষে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে রোজার পর তাদের বেশির ভাগই ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। হঠাৎ করে একসাথে এসব খাবার গ্রহণের ফলে বদহজম, বুকজ্বলা এবং ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দেয়।

রোজা রাখার সময় যাতে অ্যাসিডিটি দেখা না দেয় তা প্রতিরোধের জন্য আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এজাতীয় খাবার পাকস্থলীর মাংসপেশির সঙ্কোচন প্রসারণ প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দিয়ে পেটফাঁপা যেমন প্রতিরোধ করে তেমনি খাবারগুলোকে ভেঙে ুদ্রাতিুদ্র অংশে পরিণত করে। ফলে খাবার সহজেই হজম হয়ে যায়। ফলে অ্যাসিডিটি দেখা দেয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।

উল্লেখ্য, রোজায় বাজারে তৈরি ভাজাপোড়া খাবারের বেশির ভাগই ভাজা হয় পুরনো তেলে। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একই তেল বারবার ভাজার ফলে তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সৃষ্টি হয়। এসব রাসায়নিক পদার্থ ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পদার্থ হিসেবে পরিচিত। একইভাবে ক্যান্সার উদ্রেককারী আরেকটি উপাদান হচ্ছে রঙিন শরবতে ব্যবহৃত কৃত্রিম রঙ। ইফতারের পর ঘুমানোর আগ পর্যন্ত শরীরে সারা দিনের পানিস্বল্পতা এবং শরীরকে দূষণমুক্ত করার জন্য প্রচুর পরিমাণ পানি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে এই নিবন্ধে।

সেহরির পর অনেকেই চা পান করে থাকেন। চা অনেক উপকারী এ কথা প্রায় সবার জানা কিন্তু এই নিবন্ধে গবেষকরা সেহরির পর চা পান থেকে বিরত থাকতে বলেছেন একটি ভিন্ন কারণে। গবেষকরা বলেছেন, চায়ের মধ্যে রয়েছে ক্যাফেইন। এই ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে খনিজ লবণ ও পানিস্বল্পতা দেখা দিয়ে থাকে। এই পানিস্বল্পতা রোজাদারের জন্য কাম্য নয়। বরং সেহরির পর কলা খাওয়া যেতে পারে। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট। তবে কলা কারো কারো ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য করে থাকে। সে ক্ষেত্রে আঁশজাতীয় খাবার সাথে খেলে আর কোনো সমস্যা দেখা দেয়ার কথা নয়। রোজায় সুষম খাবার পরিমাণমতো গ্রহণ করলেই শরীর সুস্থ থাকবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুষম খাবার খেয়ে রোজা রেখে ইফতারের আগে হাত-পা সঞ্চালন জাতীয় হাল্কা ব্যায়াম এবং সময়মতো নামাজ আদায় করলেই অতিরিক্ত ওজন সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা রোজা থেকে ওজন কমানোর সুযোগ পাবেন বলেও উল্লেখ রয়েছে এই নিবন্ধে। রোজার সময় গভীর নিদ্রার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাই তারাবির নামাজের পর দ্রুত ঘুমাতে যাওয়াই উত্তম।

Category: রোজা