ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

সংখ্যাতত্ত্বে শবেকদর

অন্যান্য উম্মতের শত শত বছর, হাজার বছর পর্যন্ত হায়াত ছিল। এই হায়াত দিয়ে তারা আল্লাহ তালার প্রিয় বান্দা হওয়ার জন্য অনেক বেশি নেক আমল করতে পারত। রাসূল সা:-এর উম্মতের হায়াত কম, তাই আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই উম্মতকে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাত উপহার দিয়েছেন। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রিয় বান্দা হওয়া সম্ভব।

লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে পবিত্র কুরআন মজিদ নাজিল হয়েছে। লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ফজিলত রয়েছে, তার মধ্যে প্রধান ও বিশেষ ফজিলত তিনটি। এই বিশেষ ফজিলতের একটা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা কদরের মধ্যে বলেছেনÑ আমি লাইলাতুল কদরে কুরআন নাজিল করেছি (সূরা কদর)। 

তবে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাত কোন তারিখে হবে তা নির্দিষ্ট নয়। তবে পবিত্র রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতকে তালাশ করতে বলা হয়েছে। আরো স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতের কথা। বিজোড় শব্দটি একটি গাণিতিক ভাষা। যে অঙ্ক বা সংখ্যা দুই দ্বারা বিভাজ্য নয় তাকে বিজোড় অঙ্ক বা সংখ্যা বলে। বিজোড় অঙ্ক বা সংখ্যা গুলোহলোÑ ১, ৩, ৫, ৭, ৯ (১ হতে ৯, অঙ্ক) ১১, ১৩, ১৫, ১৭, ১৯, ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯… (সংখ্যা)। রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় সংখ্যাগুলো-২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯। রমজানের শেষ ১০ দিনের এই সংখ্যাগুলোকে যদি যোগ করে দেখি, সে ক্ষেত্রেও আমরা বিজোড় অঙ্ক বা সংখ্যা পাবো। যেমনÑ রমজানের ২১ রাতের ক্ষেত্রে ২+১=৩ রমজান, রমজানের ২৩ রাতের ক্ষেত্রে ২+৩=৫ রমজান, রমজানের ২৫ রাতের ক্ষেত্রে ২+৫=৭ রমজান, রমজানের ২৭ রাতের ক্ষেত্রে ২+৭=৯ রমজান, রমজানের ২৯ রাতের ক্ষেত্রে ২+৯=১১ রমজান। অর্থাৎ রমজান মাসের ৩০ দিনের মধ্যে, ১৫ দিন বিজোড় অঙ্ক বা সংখ্যা ও ১৫ দিন জোড় অঙ্ক বা সংখ্যা। আর যদি রমজান মাস ২৯ দিন হয় তা হলেÑ ১৫ দিন বিজোড় অঙ্ক বা সংখ্যা এবং ১৪ দিন জোড় অঙ্ক বা সংখ্যা। পবিত্র ইসলাম ধর্মে বিজোড় সংখ্যার ব্যবহার, * একটু আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে কুরআন নাজিল হওয়ার জন্যই এই রাতের ফজিলত বেশি। আল্লাহ তায়ালার বাণী এবং শ্রেষ্ঠ বাণী রমজান মাসে এই রাতে নাজিল হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেনÑ লাইলাতুল কদর কী, শবেকদরের ফজিলত কী, তা কি তুমি জানো? শবেকদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (সূরা কদর)। লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাত হাজার মাস ইবাদত করার চেয়েও বেশি উত্তম। রাসূল সা:-এর ২৩ বছরের নবুয়তি জিন্দেগিতে বিভিন্ন সময়ে বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুসারে আস্তে আস্তে কুরআন মজিদ নাজিল হয়েছে। বর্তমান সময়ে একজন মানুষ কতটি রমজান পেতে পারে? একজন মানুষ তার জীবন কতটি লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাত পেতে পারে এবং কী পরিমাণ সওয়াবের অধিকারী হবে পারে? এই উত্তর খুঁজতে হলে গাণিতিক বিশ্লেষণে যেতে হবে। প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেয়া চেষ্টা করছি, তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর সম্মানিত পাঠক নিজেরা নিজের মতো করে ভাববেন। আমাদের প্রিয় রাসূল সা: ৬৩ বছর দুনিয়ায় ছিলেন। এই উম্মতের সর্দার, সব জাহানের সর্দার, সব নবী-রাসূলের সর্দার যখন ৬৩ বছর ছিলেন। তখন আমাদের জিন্দেগি কত বছরের তা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কল্পনা করে নিন।

রাসূল সা:-এর ২৩ বছরের নবুয়তি জিন্দেগি। ধরি ২৩টা বছর ২৩টা রমজানে যদি লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´২৩=২৩০০০ মাস অর্থাৎ ১৯১৬ বছর আট মাস। যদি ২১টা বছর ২১টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´২১=২১০০০ মাস অর্থাৎ ১৭৫০ বছর। যদি ১৯টা বছর ১৯টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´১৯=১৯০০০ মাস, অর্থাৎ ১৫৮৩ বছর চার মাস। যদি ১৭টা বছর ১৭টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´১৭=১৭০০০ মাস, অর্থাৎ ১৪১৬ বছর আট মাস। যদি ১৫টা বছর ১৫টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´১৫=১৫০০০ মাস, অর্থাৎ ১২৫০ বছর। যদি ১৩টা বছর ১৩টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহতালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´১৩=১৩০০০ মাস, অর্থাৎ ১০৮৩ বছর চার মাস। যদি ১১টা বছর ১১টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´১১=১১০০০ মাস, অর্থাৎ ৯১৬ বছর আট মাস। যদি ৯টা বছর ৯টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´৯=৯০০০ মাস অর্থাৎ ৭৫০ বছর। যদি ৭টা বছর ৭টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´৭=৭০০০ মাস, অর্থাৎ ৫৮৩ বছর চার মাস। যদি ৫টা বছর ৫টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´৫=৫০০০ মাস, অর্থাৎ ৪১৬ বছর আট মাস। যদি ৩টা বছর ৩টা রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´৩=৩০০০ মাস, অর্থাৎ ২৫০ বছর।

আমাদের জীবনে যদি একটা রমজান মাসের একটা লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাতে আমাদের ইবাদত আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয়। তা হলে আমাদের বয়স হচ্ছেÑ ১০০০´১=১০০০ মাস, অর্থাৎ ৮৩ বছর চার মাস, যা একজন মানুষের গড় আয়ু অপেক্ষা বেশি। যা সারা জীবনের গুণাহ ও পাপ আল্লাহ তায়ালা মাপ করে দিতে পারেন। তাই আসুন, এই রমজানে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাত তালাশ বা ইবাদত করি। একজন মুমিন বান্দা সম্পূর্ণ রমজান ধরে লাইলাতুল কদর বা শবেকদরের রাত পাওয়ার আশায় এবাদত করবে।

Category: রোজা