ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

সাহরি ও ইফতারের তাত্পর্য

পবিত্র মাহে রমজানের বেশ আগ থেকেই চলে রমজানের প্রস্তুতি। সাহরি ও ইফতার রমজানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সাহরি ও ইফতার রমজানের আবহ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মানুষের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এটি এক বিশেষ নিয়ামত। এটি পালন শুধু কর্তব্য নয়, আনন্দও বটে। এতে আল্লাহর প্রতি বান্দাহর আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

সাহরি ও ইফতারের আনুগত্যের এ দৃষ্টান্ত সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে সাহরি ও ইফতার কোনোটিই মানুষের মনগড়া বিধান নয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এর যথেষ্ট তাকিদ রয়েছে। সাহরি খাওয়া প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা রাতের অন্ধকার প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত পানাহার কর।’ (বাকারা-১৮৭)

সাহরি চৈন্তিক দৃষ্টিতেই কেবল গুরুত্বের দাবি রাখে না, বরং তা আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সুন্নত। এতে বরকত রয়েছে, রয়েছে অনেক ফজিলতও। সাহরি খাওয়া সম্পর্কে হজরত রাসূলে করিম (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরি খাওয়ার মধ্যে রয়েছে বরকত।’

হোক না সামান্য একটু পানি, রুটি, খেজুর কিংবা শরবত। তবুও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এ মহান সুন্নত থেকে বিমুখ না হওয়ার তাকিদ এসেছে। এমনকি কেউ যদি যেকোনো কারণে সময়মত উঠে সাহরি না খেতে পারে তার জন্যও রাসূল (সা.)-এর বাণী, ‘তোমাদের কেউ যখন ফজরের আজান শোনে, আর এ সময় তার হাতে খাদ্যের পাত্র থাকে, সে যেন আজানের কারণে খাদ্যগ্রহণ বন্ধ না করে, যতক্ষণ না সে স্বীয় প্রয়োজন পূর্ণ করে।’ (আবু দাউদ)

রোজাদারদের প্রতি আল্লাহতায়ালা কঠিন কোনো নীতি গ্রহণ করেননি। বরং রোজাদারদের যাতে কষ্ট না হয় সেজন্য তিনি দেরি করে সাহরি এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করার নির্দেশ করেছেন। ইফতার রোজাদারের জন্য একটি আনন্দঘন মুহূর্ত। ইসলামি পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, কামাচার ও পাপাচার থেকে বিরত থেকে সূর্যাস্তের পর কিছু খেয়ে বা পান করে রোজা সমাপ্ত করার নামই ইফতার।

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই ইফতার করা সুন্নত। এর আগমুহূর্তে খাবার সামনে নিয়ে বসে থাকাও মুস্তাহাব। তবে সময় হয়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত ইফতার গ্রহণ করাই উত্তম। খেজুর বা খোরমা দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। না হলে অন্য কোনো ধরনের মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য বা শুধু পানি দিয়ে হলেও ইফতার করা যায়। এর ফজিলত ও তাকিদ দিয়ে রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ দ্রুততার সীমা রক্ষা করে ইফতার করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।’ অন্য হাদিসে তিনি বলেন, মানুষ ততদিন কল্যাণের পথে থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে।’ (বুখারি)

সাহরি দেরিতে করা উত্তম। নবী করিম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামেরও এমনটিই আদত-অভ্যাস ছিল। যদি কেউ আগেভাগে সাহরি খেয়ে ফেলে তবে সে নিজের পক্ষ থেকেই রোজার সময় বাড়িয়ে নিল। এতে তার অনেক কষ্টও হতে পারে। অবশ্য আল্লাহতায়ালা এমনটি নির্দেশ দেননি। তার এ মনগড়া অভ্যাসের জন্য সে গুনাহগার হবে। ইফতারের এ বিধান ইসলাম ধর্মেরই অনন্য বৈশিষ্ট্য। ইফতারের এ আনন্দ, তৃপ্তি ও পরম সুখ অনুভব অন্য যেকোনো ধর্মের জন্য ঈর্ষণীয় ব্যাপার। ইফতারে ভ্রাতৃত্ববোধ, অন্তরনিঃসৃত ভালোবাসার ছোঁয়া এবং আধ্যাত্মিক ভাবের যে প্রতিফলন ঘটে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ইসলামে রোজার জন্য ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটা সময়সীমা বাধা আছে। কেউ যদি বেশি ফজিলত পাবার আশায় বিলম্বে ইফতার করে, তবে সে ভুল করবে। কেননা বিলম্ব করে নিজেদের ইচ্ছেমতো ইফতার করে ইহুদি-খ্রিস্টানরা। এজন্য তারা বঞ্চিত হয়েছে ইফতারের বরকত ও আল্লাহর রহমত থেকে। কেননা সাহরির মতো ইফতারেরও অনেক ফজিলত রয়েছে, এমনকি অন্যকে ইফতার করানোর মধ্যেও রয়েছে সীমাহীন পুণ্য। ইফতারের আগমুহূর্তে আল্লাহতায়ালা মানুষের দোয়া কবুল করেন। তাই এ সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করে উভয় জাহানের কল্যাণ অর্জনের বিকল্প নেই।

Category: রোজা