ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

জ্ঞান অর্জন কেন ফরজ ইবাদত

gghanআমরা সাধারণত সালাত, সিয়াম, হজ ও জাকাতকেই ফরজ ইবাদত বলে জানি বা মনে করি। আসলে আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি হুকুম মেনে চলার নামই হচ্ছে ইবাদত। সালাতের আগে অবশ্যই ঈমান আনতে হয় আর ঈমান আনার পূর্ব শর্ত হচ্ছে জ্ঞান। কারো বয়স যখন ১০ থেকে ১১-তে উন্নীত হয় তখন সে ভালো-মন্দসহ অনেক বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে। আর এ জ্ঞানের ভিত্তিতেই একজন বালেগ ব্যক্তি তার প্রতিপালক ও আখিরাতের প্রতি ঈমান আনে। ঈমান আনার কারণে যেকোনো ব্যক্তির ওপর সালাত আর সিয়াম ফরজ হয়। সাহেবে মাল হলে এক বছর পর জাকাত ফরজ হয়, আর শারীরিক সুস্থতা, আর্থিক সঙ্গতি ও নিরাপদ যাতায়াতের শর্তে হজ ফরজ হয়।

কিন্তু মহিলাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আরো একটি শর্ত হচ্ছে, মহরম সফরসঙ্গী, তা না হলে কোনো মহিলার ওপর হজ ফরজ হবে না। কোনো শিশু জন্মের পর থেকে বিভিন্নভাবে জ্ঞান অর্জন করতে বা বুঝতে ও শিখতে থাকে। মূলত যেকোনো শিশু পরিবারের বাবা-মা, ভাইবোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী আর আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা বা জ্ঞানলাভ করে থাকে। মুসলিম পরিবারে প্রাথমিকভাবে আব্বা-আম্মা, আপু-ভাইয়া, দাদা-দাদী, নানা-নানী ইত্যাদিসহ আল্লাহ তায়ালার নাম ও কালেমা শিখানো হয়। আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সা:-এর ওপর সর্বপ্রথম যে ওহি বা নির্দেশ নাজিল হয়েছিল তা জ্ঞান অর্জন সম্পর্কে। ইবনে মাজাহ শরিফের হাদিসে হজরত আনাস রা: থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ’।

মুসলিম কাকে বলে? সে সম্পর্কে আমরা সংক্ষেপে জেনে নিই। ‘মুসলিম’ শব্দটি মূল আরবি ‘আছলিম’ শব্দ থেকে এসেছে। আছলিম শব্দের অর্থ হচ্ছে আস্থা স্থাপন করা বা আত্মসমর্পণ করা। আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের ওপর আস্থা স্থাপন করে বা আত্মসমর্পণ করে তাকে ‘মুসলিম’ বলে। তাই, মুসলিম শব্দের আভিধানিক অর্থ দাঁড়ায় আত্মসমর্পণকারী। যেমন সূরা আল বাকারার ১৩১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, (আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দা, বন্ধু ও নবী ইব্রাহিম আ: সম্পর্কে বলছেন, যখন আমি তাকে বললাম, তুমি আমার অনুগত (বা মুসলিম) হয়ে যাও, সে (ইব্রাহিম) বলল, আমি সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য স্বীকার করে নিলাম বা আত্মসমর্পণ করলাম অথবা মুসলিম হয়ে গেলাম। অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার সৃষ্টিকর্তা বা প্রতিপালকের আনুগত্য করে বা প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পণ করে অথবা সৃষ্টিকর্তার প্রতিটি বিধিবিধান, আইন-কানুন, হুকুম-আহকাম বা আদেশ-নিষেধ মেনে চলে বা জীবনযাপন করে তাকে মুসলিম বলে। সূরা আলে ইমরানের ১০২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ করছেন, ‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে চলো, ঠিক যতটুকু তাকে ভয় করা উচিত, আর তোমরা মৃত্যুবরণ কোরো না যতক্ষণ না তোমরা ‘মুসলিম’ হবে।’

মানুষ সৃষ্টির আগে আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের ডেকে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আর (হে নবী! স্মরণ করুন) যখন আমি ফেরেশতাদের ডেকে বললাম, আমি পৃথিবীতে আমার ‘খলিফা’ বা প্রতিনিধি পাঠাতে চাই’। এমন ঘোষণার পর আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন তাঁর খিলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্য বা দুনিয়াতে তাঁর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। আল্লাহ তায়ালার এমন ঘোষণা সূরা আল বাকারার ৩০ নম্বর আয়াতসহ আল কুরআনের আরো কয়েকটি সূরার বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ আছে। আল্লাহ তায়ালা আরো ঘোষণা করেছেন, ‘আমি জিন ও ইনসান (মানুষ) সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য,’ যার উল্লেখ আছে আল কুরআনের সূরা আজ যারিয়াতের ৫৬ নম্বর আয়াতে।

মানুষ তার সৃষ্টিকর্তার বা প্রতিপালকের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে তাঁর সম্পর্কে অবশ্যই জানতে হবে বা জ্ঞান অর্জন করতে হবে। মানুষ তার প্রতিপালকের ইবাদত বা গোলামি বা দাসত্ব করতে হলেও কিভাবে কী করতে হবে সে সম্পর্কেও তাকে অবশ্যই জানতে বা জ্ঞান অর্জন করতে হবে। যেহেতু আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনের বিভিন্ন সূরার বিভিন্ন আয়াতে নিজেকে মহাজ্ঞানী বলে উল্লেখ করেছেন, সেহেতু যে মানুষ তার মহাজ্ঞানী প্রতিপালকের বা সৃষ্টিকর্তার প্রতিনিধিত্ব ও গোলামি করবে, সে মানুষকে অবশ্য অবশ্যই ন্যূনতম হলেও সে মহাজ্ঞানী প্রতিপালক বা সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। তাই, এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, ‘মুসলমান হওয়ার জন্য জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।’

জ্ঞান শব্দের আরবি হচ্ছে ‘ইলম’ যা কুরআনের একটি পরিভাষা। ‘ইলম’ শব্দটি আরবি ‘আলামত’ শব্দ থেকে নির্গত হয়েছে। ‘আলামত’ শব্দের অর্থ হচ্ছে, প্রত্যক্ষ দর্শন বা বাস্তবে বোঝানো অথবা কোনো নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি ইঙ্গিত বা ইশারা করা। আল কুরআনের ভাষায় প্রত্যক্ষ জ্ঞান বা প্রত্যক্ষ দর্শনকে ‘য়াইনুল ইয়াক্কিন’ বা নিজ চোখে দর্শন অথবা প্রত্যক্ষ জ্ঞান বলা হয়েছে। আমাদের সমাজে, দেশে বা সারা দুনিয়ায় আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ অসংখ্য মানুষ আছেন। এসব মানুষের মধ্যে অবশ্যই সবাই মুসলমান বা ঈমাদার নন। মুসলমানের ঈমানদার মানুষের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে স্বতন্ত্র কিছু আলামত, ইশারা বা ইঙ্গিত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর সে স্বতন্ত্র আলামত, ইশারা বা ইঙ্গিত হলো মুসলমানের মধ্যে তার সৃষ্টিকর্তা, প্রতিপালক বা রব সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা বা জ্ঞান থাকবে।

দুনিয়ার মানুষের মধ্যে যে বা যারা আল্লাহ তায়ালার হুকুম মেনে তাঁর আনুগত্যের ঘোষণা দেয় তাকে মুসলিম বলা হয়। তাই, মুসলিম হতে হলে অবশ্যই জ্ঞান অর্জন করতে হয়। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টির সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ‘মানুষ’ কে দুনিয়ায় তাঁর খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম তাঁর বান্দা, খলিফা ও নবী হজরত আদম আ:-কে সৃষ্টি করার পর আল্লাহ তায়ালা তাঁর অন্যান্য সব সৃষ্টি সম্পর্কে হজরত আদম আ:-কে প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে জ্ঞান দান করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা হজরত আদম আ: কে জিন ও ফেরেশতাদের সামনে জ্ঞানের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার পর জিন ও ফেরেশতাদের আনুগত্যের নিদর্শন স্বরূপ হজরত আদম আ: কে সেজদা করতে বলেছিলেন।

যুগে যুগে যত নবী-রাসূল দুনিয়ায় এসেছেন আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে ওহির মাধ্যমে জ্ঞান দান করেছিলেন। কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি যে, যুগে যুগে যত নবী-রাসূল দুনিয়ায় এসেছেন তাদের সবারই ওপর ওহি ও আসমানি কিতাব নাজিল হয়েছিল। পৃথীবির সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ ও নবী মুহাম্মদ সা:-এর ওপর আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম যে ওহি বা নির্দেশ নাজিল হয়েছিল তাও ছিল জ্ঞান অর্জনসংক্রান্ত। আল্লাহ তায়ালা হজরত জিবরাইল আ:-এর মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ সা:-কে সর্বপ্রথম নির্দেশ করেছিলেন বা ওহি পাঠিয়েছিলেন, এই বলে যে, ‘(হে নবী! আপনি) পাঠ করুন আপনার ‘রব’ বা প্রতিপালকের নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন’, যা আল কুরআনের সূরা আল আলাকের প্রথম আয়াতে উল্লেখ আছে।

জ্ঞান অর্জনের হাকিকত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা আল বাকারার ২৬৯ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে (একান্তভাবে) তাঁর পক্ষ থেকে (ওহির বা কুরআন-সুন্নাহর) বিশেষ জ্ঞান দান করেন, আর যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালার এই (ওহির বা কুরআন-সুন্নাহর) বিশেষ জ্ঞান দেয়া হলো সে যেন মনে করে তাকে সত্যিকার অর্থেই প্রচুর কল্যাণ দান করা হয়েছে, আর প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া আল্লাহ তায়ালার এসব কথা থেকে অন্য কেউ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না।’ আল্লাহ তায়ালা সূরা আল ফাতির-এর ২৮ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই জ্ঞানী লোকেরাই আমাকে বেশি ভয় করে চলে আর আল্লাহ তায়ালা মহাপরাক্রমশালী ও ক্ষমাশীল’। আল্লাহ তয়ালা সূরা আঝ ঝুমারের ৯ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে ? বুদ্ধিমান লোকেরাই তো (আল্লাহ তায়ালার) নসিহত গ্রহণ করে থাকে।’

জ্ঞান অর্জনের ফজিলত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা মুজাদালার ১১ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে আর যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে উচ্চ মর্যাদা দেবেন আর তোমরা যা কিছু করো না কেন আল্লাহ তায়ালা সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত।’ তিরমিজি শরিফের হাদিসে হজরত আবু হুরায়রাহ রা: থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘রাসূল সা: বলেছেন, মুনাফিকের মধ্যে দু’টি চরিত্রের সমাবেশ ঘটতে পারে না, এর একটি হচ্ছে নৈতিকতা ও সৎ চরিত্র আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, দ্বীনের সুষ্ঠু জ্ঞান।’ তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ শরিফের হাদিসে হজরত ছাখবারা আজদি রা: থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দ্বীনী-ইলম অন্বেষণ করে এটা তার পূর্বকৃত গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ।’

জ্ঞান অর্জন না করার পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা ত্বাহার ১২৪ থেকে ১২৬ নম্বর আয়াতে বলছেন, ‘আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ (আর কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জন্য (জীবনে) বাঁচার সামগ্রী সঙ্কুচিত হয়ে যাবে, সর্বোপরি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ বানিয়ে উঠানো হবে। সে তখন বলবে, হে আমার মালিক, তুমি আজ কেন আমাকে অন্ধ বানিয়ে উঠালে? আমি তো দুনিয়াতে চক্ষুষ্মান ছিলাম! আল্লাহ বলবেন, আসলে তুমি এমনিই অন্ধ ছিলে! (দুনিয়াতে) আমার আয়াত তোমার কাছে পৌঁছে ছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে, তাই আজ আমি তোমাকে ভুলে গেলাম।’

কেউ বিশ্বাস করুক আর নাই করুক, হাশরের দিন আল্লাহ তায়ালা সব মানুষকে একত্র করে তাদের হাতে প্রত্যেকের আমলনামা দিয়ে বলবেন, ‘আজ তুমি তোমার আমলনামা পাঠ করো, তোমার হিসাব করার জন্য তুমিই যথেষ্ট।’ যারা দুনিয়াতে আল কুরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে না, আল কুরআনের আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে না তারা যখন অন্ধভাবে হাশরের মাঠে উঠবে, তখন কী অবস্থা হতে পারে তা অবশ্যই চিন্তা করার বিষয়।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, আল্লাহ তায়ালাকে জানার জন্য, আল্লাহর পথে চলার জন্য, তাঁর প্রতিনিধির বা খলিফার দায়িত্ব পালন করার জন্য, ঈমানের দাবি পুরনের জন্য, মুনাফিকি থেকে বাঁচার জন্য অবশ্যই আমাদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আমরা ইসলামের সীমারেখা, হালাল, হারাম, হক-বাতিল, আল্লাহ তায়ালার বিধিবিধান বা আইন-কানুন, আদালত, বিচারক, সাক্ষী আর উকিল-মুক্তারের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে জানতে পারি। আরো আমরা জানতে পারি ব্যবসায়-বাণিজ্য, উৎপাদন আর চাষাবাদ ইত্যাদি বিষয়ে। মূলত দুনিয়া ও আখেরাতের সব কল্যাণের মূল হচ্ছে জ্ঞান।

আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণেই মূলত ‘ইবাদত’ তথা আমাদের কাজ বা আমল সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই বললেই চলে। আমরা অনেকটা আন্দাজ ও অনুমাননির্ভর অথবা শোনা কথার ওপর ইবাদত বা আমাদের আমলকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছি। যেমন- ইবাদত বলতে আমরা শুধু সালাত, সিয়াম, হজ ও জাকাতকেই বুঝি। মুসলমান হওয়ার জন্য কুরআন ও হাদিসের জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। আমরা কি কেউ এই ফরজ আদায়ের ব্যাপারে সচেতন আছি? আমরা নিজেরা যেমন কুরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জন থেকে উদাসীন তেমনি আমাদের সন্তানদের ব্যাপারেও আমরা সম্পূর্ণভাবে উদাসীন। আমরা আমাদের সন্তানদের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বানানোর জন্য যেভাবে চেষ্টা সাধনা করছি, তার সিকি ভাগও কি দ্বীনী ইলম তথা ইসলামি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মুসলমান বানানোর জন্য চেষ্টা সাধনা করছি? অথচ আল্লাহ তায়ালা সূরা আলে ইমরানের ১০২ নম্বর আয়াতে নির্দেশ করছেন, ‘হে ঈমানদারগণ তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে চলো, যতটা তাঁকে ভয় করা উচিত, আর তোমরা মৃত্যুবরণ করো না যতক্ষণ তা তোমরা ‘মুসলিম’ হবে’।

আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ হচ্ছে ‘মুসলিম’ হওয়ার আর বাবা-মার দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানকে ‘মুসলিম’ বানানো। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে বা বানাতে আল্লাহ তায়ালা বলেননি। আমরা যদি সন্তানদের ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার বানাতেই ব্যস্ত থাকি আর কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান অর্জন থেকে বঞ্চিত রাখি, তাহলে আমাদের সন্তানেরা কিভাবে মুসলমান হিসেবে গড়ে উঠবে? আর এই সব সন্তান যদি বাবা-মা বা অভিবাবক আর শিক্ষক বা ওস্তাদদের কারণে ইসলামি শিক্ষা থেকে বিমুখ হয়ে জাহান্নামিদের দলভুক্ত হয়ে যায় তাহলে এর ভয়াবহ পরিণতি থেকে আমরা কেহই কিন্তু রক্ষা পাবো না। কারণ হাশরের দিন জাহান্নামিরা আল্লাহ সোবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে সর্ব শেষ ফরিয়াদ করবে, ‘হে আমাদের মালিক, যেসব জিন আর মানুষ দুনিয়াতে আমাদের গোমরাহ করেছিল, আজ তুমি তাদের এক নজর দেখিয়ে দাও, আমরা তাদেরকে পাদদলিত করব যাতে করে তারা আরো বেশি লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়।’ যার উল্লেখ আছে, সূরা হা-মীম আস সাজদার ২৯ নম্বর আয়াতে।

তাই, আমাদের সবার উচিত সন্তানদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার বানানোর সাথে সাথে মুসলমান হিসেবে জীবন যাপন করার জন্য কুরআন ও হাদিসের জ্ঞান অর্জন করে সে অনুযায়ী পরিবার-পরিজনসহ জীবন যাপন করা। কারণ রাসূল সা: বলেছেন, ‘আমি তোমাদের জন্য দু‘টো জিনিস রেখে যাচ্ছি, যে বা যারা এ দু‘টো আঁকড়ে ধরবে তারা সঠিক পথ পেয়ে যাবে, আর সে দুটো হচ্ছে- আল্লাহ তায়ালার কালাম বা আল কুরআন আর তাঁর রাসূলের সুন্নাহ বা হাদিস।’ আসুন জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জেনে তা যথাযথভাবে পালনে সচেষ্ট হই।