ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

সুন্নত পালনের ফজিলত

sunnahসমাজ বদলের সুশীল মাধ্যম সুন্নতে নববী। আলোকিত মানুষ গড়ার শক্তিশালী মিটারগেজ। সর্বজনীন বিপ্লব যার মূল শক্তি। কারণ এখান থেকেই একমাত্র মানুষের কল্যাণে বাস্তবায়ন হয় সভ্যতার। যাচাই করা হয় সত্য-মিথ্যার। নির্ণয় করা হয় হক-বাতিলের। শরিয়তের মাপকাঠিতে মানুষের চারিত্রিক শিষ্টাচার তথা মানবিক গুণাবলিকে জীবনের প্রয়োজনে তুলে ধরতে হবে। নীতি ও আদর্শের পথ ধরে সত্যের মানদণ্ডে একটি নৈতিক রাজ্য আবিষ্কার করতে হবে। তবেই সুন্নতের চাপ পড়বে মানুষের অন্তরে, মনমননে চিন্তার বাহনে। তখনই ধীরে ধীরে মানুষের জীবন পাল্টে যাবে ১৪ শ’ বছর আগের সোনালি রঙধনুতে। যে সাম্রাজ্য বিশ্বনবীর শুভ আগমনের বরকতে উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়তা লাভ করেছিল।

সুন্নতওয়ালা খোদাভীরু অন্তর দুনিয়ার জন্য অনেক বড় রহমত। যে দিলে জিকির নেই সে দিল মুর্দা। যে জীবনে সুন্নত নেই সেই জীবন দুর্ভাগা। ঠিক সে পথ ধরে এটাও অস্বীকার করা যায় না যে, যার হাতে অন্যের নিরাপত্তা নেই সেই হাত অভিশপ্ত। যে মাথায় সুন্নতে রাসূলের আদর্শ এবং দ্বীনের ফিকির নেই সেই মাথা শয়তানের। যে সময় আলাহর স্মরণ কিংবা বিশ্বনবীর তরিকা থেকে খালি থাকে সেই সময় আপসোস, পরিতাপ ও অনুশোচনার।

একটি জীবনের প্রতিটি স্তরে বা েেত্র যদি সুন্নতে নববীর শিকড়কে বিস্তীর্ণ করে দেয়া যায় তবে সে জীবন অনায়াসে হুব্বে রাসূলের উজ্জ্বলতা লাভ করবে। সজীব হয়ে উঠবে তার জিন্দেগি ও চলার পথ। কারণ সুন্নত একটি বিপ্লবের নাম। যেই বিপ্লব নীরব। যে বিপ্লবের বিজয় সহজে অর্জিত হয় না। নিজের মধ্যে এর বাস্তবায়ন করাই হলো আসল বিজয় অর্জন। অন্যের মধ্যে সুন্নতের ব্যাপকতা দিয়ে নিজেকে বিজয়ী ভাবা যাবে না। একমাত্র নিজের জীবনের প্রতিটি েেত্র যদি সুন্নতের সর্বদিক বা অনুষঙ্গ চলে আসে তবে তা দিয়ে নিজের বিজয় নিশ্চিত করা যাবে।

অন্যথায় মানুষ সুন্নতের জয়গায় সুন্নতকে রেখে মরীচিকার পেছনে দৌড়াতে থাকবে। ভুলে যেতে থাকবে বিশ্বনবীর আনীত সরল সঠিক জীবনব্যবস্থা। দূরে সরে যেতে থাকবে নৈতিকতা ও শিষ্টাচার এমনকি আনুষঙ্গিক ভালো কাজগুলো থেকে। কারণ ইসলামের কল্যাণ সর্বজনীন। চাই তা গোটা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য হোক কিংবা তার বাইরে হোক। পৃথিবীতে এমন কোনো জাতি বা গোষ্ঠী নেই যারা ১৪ শ’ বছর আগের স্বয়ংসম্পূর্ণ ন্যাশনাল জীবনব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে উন্নতি সাধন করেছে। প্রত্যভাবে বিরূপভাব প্রকাশ করলেও পরোভাবে ইসলাম নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠরা চিন্তাশক্তি ব্যয় করে যাচ্ছে। বলা যায় তাদের ভাবনা এবং গবেষণার টেবিল এ দিক থেকে প্রায় ব্যস্ত।

আমরা যেমন ইসলামী অনুশাসন ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ছাড়া সমৃদ্ধ হতে পারিনি, ঠিক বিধর্মী বিজ্ঞানীরাও। এ জন্য অমুসলিমরা তাদের গবেষণায় এটাকে সর্বপ্রথম শিরোনাম করে রেখেছে। যদিও তাদের বাচনভঙ্গি ইসলামবিদ্বেষী। তারা শুধু সুন্নতের নামটা ফেলে দিয়ে সেটাকে জীবনের অঙ্গে অঙ্গে জড়িয়ে নিয়েছে। এর পেছনে কারণ একটাই, সুন্নত দ্বারা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক এমনকি আন্তর্জাতিক জীবনের সর্বেেত্র উপকৃত বা সফলতা অর্জন করা যায়। অথচ মুসলমান এর থেকে আজ প্রায় বিমুখ। যারা সুন্নত আঁকড়ে ধরেছেন তারা এই জগতে বিপ্লবের পথে চির অমর হয়েছেন। আর নিজের ঘরের লোক হয়ে যদি ঘরের ছামানপত্রের ব্যবহার না করে তবে তো অন্য গৃহের বাসিন্দারা ব্যবহার করে তা থেকে উপকৃত হবেই। এ জন্য বিজয় বা আদর্শিক বিপ্লব আমাদের পদ্বচুম্বন করে না।

যত দিন মুসলিম সম্প্রদায়ের চিন্তাচেতনায় সুন্নতে নববীর যথাযথ আমল আসবে না তত দিন তাদের উন্নতিতে চরম ধস নামবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ মুসলিম হয়ে নিজেকে যে চিনতে পারে না সে তো পরাজিত এক মৃতদেহ। তার দ্বারা আর যাই কিছু হোক বা না হোক সামাজিক অবকাঠামো ত্র“টিযুক্ত হয়ে যাবে। কলঙ্কিত হবে আপন সম্প্রদায়। দূষিত হবে সততার দেয়ালে অঙ্কিত জীবনের রূপরেখা। এ প্রবণতা যত দিন আমাদের ভেতরে কাজ করবে তত দিন আমাদেরকে পিছিয়ে থাকতে হবে। আর এই পিছিয়ে পড়ার মোকাবেলা করতে হলে প্রয়োজন এক দল সুন্নতে নববী অনুসারী খোদাভীরু আল্লাহর সৈনিক। যাদের দেখে জালিমের বুক কেঁপে উঠবে। মিথ্যাবাদীর মুর্দা দিলে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। নিষ্ঠাবান ধার্মিক ব্যক্তিরাই সুন্নতে নববীর এই পূর্ণাঙ্গ বিজয় নিয়ে আসতে পারে।