ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ঈমান নবায়ন করা জরুরি

ঈমানের মতো মহাসম্পদ লাভের পরও মুসলমানদের ধর্মপালনে উদাসীনতা, ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চললে প্রগতিশীল হওয়া যায় না মনে করা, ধর্ম মেনে চললে তথাকথিত কিছু মুসলমান কী ভাববে এজাতীয় হীনম্মন্যতার মূলে রয়েছে মুসলমানদের দুর্বল ও নাবালকি ঈমান। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ বুঝেশুনে ঈমান আনার পরিবর্তে ঈমান ও ইসলামরূপী মহা সৌভাগ্য লাভ করেছেন জন্মগতভাবে এবং শৈশবে। শৈশবে কালেমা পড়লেও কালেমার মধ্যে কী স্বীকৃতি দিয়েছেন, আল্লাহর সাথে কী ওয়াদা করেছেন তা বোঝেননি, বোঝার চেষ্টাও করেননি, কেউ বোঝায়নি। এমনকি পরবর্তীকালে তা বুঝতে ক’জনই বা চেষ্টা করেছেন!

অনেক কিছু বুঝলাম, পড়লাম; কিন্তু শৈশবে মুখস্থ করা কলেমাগুলো কি আমি এখন পারি? কলেমাগুলোর অর্থ আদৌ কি আমি জানতে ও বুঝতে চেষ্টা করেছি? ‘ওয়াকাবিলতু জামিয়া আহকামিহি ওয়া আরকানিহি’ বলে আমি কি ‘আল্লাহর সমস্ত আহকাম ও আরকান মেনে নিলাম’ স্বীকারোক্তিটি স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে দিইনি? সব কিছু মেনে নিলাম, আল্লাহর আদেশ-নিষেধ সব মেনে চলব, ধর্মের সমস্ত বিধিবিধান মেনে চলব এ ওয়াদার পর ধর্মবিমুখ হওয়ার কোনো সুযোগ বা অবকাশ কি কোনো মুসলমান নরনারীর আছে? কাজেই সর্বাগ্রে প্রয়োজন সবল ‘ঈমান নবায়ন’। ঈমান নবায়নের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘আখিরাত সম্পর্কে কি তোমাদের জ্ঞান লোপ পেয়েছে, না তোমরা সন্দেহের মধ্যে রয়েছে, না অন্ধ?’ (সূরা আন নমল : ৬৬)।

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং যে কিতাব রাসূলের প্রতি নাজিল করেছেন তার প্রতি।’ (সূরা নিসা : ১৩৫)। ঈমানদারদের ঈমান আনার জন্য আল্লাহ বলেছেন বুঝে শুনে ঈমান আনার জন্য, কারণ যেনতেন ঈমান আল্লাহর কাছে গ্রহণীয় নয়। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা: বর্ণনা করেছেন, রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের অন্তরের মধ্যে ঈমান পুরনো ও জীর্ণ হয়ে যায়, যেমন পরিধেয় বস্ত্র পুরনো ও জীর্ণ হয়ে যায়। সুতরাং আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকবে যেন তিনি ঈমান নবায়ন করে দেন।’ (হাকেম)।

কাজেই ধর্মপালনে সব ধরনের জড়তা, হীনম্মন্যতা দূর করে ঈমানি বলে বলীয়ান হওয়ার জন্য ঈমানকে নবায়ন করতে হবে। এ জন্য ধর্মীয় অন্ধত্বের অবসান ঘটানোর জন্য ধর্ম সম্পর্কে, কুরআন-হাদিস সম্পর্কে জানতে হবে। বিশেষ করে কালেমাগুলোর অর্থ, নামাজে যা যা পড়া হয় সেগুলোর অর্থ, দৈনন্দিন করণীয়গুলোর ব্যাপারে ধর্মীয় নির্দেশাবলি নতুন করে জানতে হবে। ঈমানদারদের সম্বোধন করে আল্লাহ ‘ঈমান আনো’ যে কথাটি বলেছেন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এ কারণে বুঝে শুনে ঈমান আনতে হবে আর ঈমানের দাবি অনুযায়ী আমল করতে হবে। কুরআন ও সহি হাদিস অধ্যয়নের মাধ্যমে ও আমলের মাধ্যমে সবল ঈমানের অধিকারী হওয়া এবং ঈমান নবায়ন সম্ভব ও সহজ। মনে রাখতে হবে, মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমরা নেক কাজে এবং তাকওয়া, খোদাভীতির ব্যাপারে একে অপরকে সাহায্য করো।’ (সূরা মায়িদা : ২)।

Category: ঈমান