ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

মুত্তাকির মর্যাদা অনেক

আমরা মুত্তাকি হতে পারছি না বিধায় ইহুদি-খ্রিস্টানদের মতো বিকল্প পথে মর্যাদার সন্ধান করে ফিরছি। আর এ জন্য আমরাও বংশ, বর্ণ, ভাষা, দেশ এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে মর্যাদার বৃত্ত গড়ে তুলেছি। এ নির্দিষ্ট বৃত্তের মধ্যেই আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। ফলে সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা ইহুদি-খ্রিস্টানদের আজ্ঞাবহ সাজতে বাধ্য হচ্ছি। অথচ তাকওয়ার মতো মানবীয় উন্নততর গুণের অধিকারীদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সব কল্যাণের ভাণ্ডার সংরক্ষিত রয়েছে বলে আল কোরআনে উল্লেখ রয়েছে।

সত্যিই মুসলিম দেশগুলোর ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান অধিকতর এমন উত্তম স্থানে রয়েছে যে, প্রতিটি মুসলিম দেশের মাটির নিচে আল্লাহ তায়ালা অফুরন্ত নিয়ামতের ভাণ্ডার মজুদ করে রেখেছেন। আমাদের গোলামি ও পরাজিত মানসিকতার কারণে আল্লাহ দান করছেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের বর্তমান মুসলিম দেশের সরকার প্রধানরা আল্লাহর ভয়ের চেয়ে সাম্রাজ্যবাদী ইহুদি-খ্রিস্টান গোষ্ঠীকেই বেশি ভয় করেন।এ জন্যই আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘লোকালয়ের মানুষগুলো যদি ঈমান আনতো ও তাকওয়া বা ভয় করতো তাহলে আমি তাদের ওপর আসমান জমিনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম, কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। সুতরাং তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য আমি তাদের পাকড়াও করলাম’ (সূরা আরাফ-৯৬)।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, এ আয়াতটি ছিল ইহুদিদের সম্পর্কে। বনি ইসরাইল জাতিকে পৃথিবীবাসীর নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করে আল্লাহ তায়ালা তাদের ইতিহাসকে অত্যন্ত সমৃদ্ধিশালী করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন : ‘হে বনি ইসরাইল! আমার সেই নিয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের দান করে ছিলাম এবং এ কথাটিও যে আমি দুনিয়ার সব জাতির ওপর তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম’ (সূরা বাকারা : ৪৮)।

পৃথিবীর ইতিহাসের দীর্ঘকালব্যাপী তারা এ নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু হটকারী কর্মকাণ্ড, অবাধ্যতা, দৃষ্টতা, গোঁড়ামি ও চরমপন্থার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাদের নেতৃত্বের আসন থেকে অপসারিত করে মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে উম্মতে মুহাম্মদীর সা. হাতে নেতৃত্বের দণ্ড তুলে দিলেন। আল কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় ইসরাইল জাতির গোঁড়ামির ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর ক্রোধ সহসা সে জাতির ওপর আছরে পড়ে এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিতে পরিণত হয়। সে বৈশিষ্ট্যগুলো আজ আমাদেরও সংক্রমিত করেছে।

ইসলাম ভারসাম্যমূলক নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ও বাঁকে ভারসাম্যপূর্ণ নীতির অনুপম শিক্ষা একমাত্র ইসলামই দিয়েছে। রাসুল সা. সমগ্র মানব সমাজকে ভেতর থেকে এমনভাবে বদলে দিয়েছিল যে, সমগ্র সমাজ ও সভ্যতায় ভারসাম্য স্থাপিত হয়েছিল। সম্মান ও মর্যাদার মানদণ্ড বদলে গিয়েছিল। তাকওয়া ছিল সে সমাজের মানুষের মর্যাদার মানদণ্ড।

তাকওয়া এমন একটা শক্তি, এমন একটা গুণ, যার ওপর ভিত্তি করে মানুষ হক ও বাতিল, ভুল ও সঠিক, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। যিনি শুধু আল্লাহর ভয়ে সেটিকেই সত্য হিসেবে মেনে নেন, যা তিনি নাজিল করেছেন। তিনি সেটিকেই সঠিক মনে করেন, যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়। যে কাজ বা প্রথা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আরও অসংখ্য ক্ষতির সৃষ্টি করে, যেসব কাজে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন, সেটিই মানুষের জন্য ক্ষতিকারক।

এ ধরনের ক্ষতিকর কাজ থেকে আত্মরক্ষা করা খুবই জরুরি। আর আত্মরক্ষার জন্য জ্ঞানের প্রয়োজন। জ্ঞানের চাহিদা মিটাবে আল কোরআন। কারণ আল কোরআন আল্লাহরই নাজিল করা। আত্মরক্ষার জন্য আত্মাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আত্মাকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দরকার বাস্তব ট্রেনিং। এ জন্য রমজানের সিয়াম নামক ট্রেনিং। একমাস জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বে পরিণত করবে। যারা এ ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে সফলতার সঙ্গে বেরিয়ে আসবে তাদেরই আমরা প্রকৃত মুত্তাকি বলব।

এ ধরনের তাকওয়া গুণসম্পন্ন মর্যাদাশীল জনগোষ্ঠী নিয়ে যে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, সেটিই হবে আল কোরআনের সমাজ, ইসলামী সমাজ ও আল্লাহর পছন্দের সমাজ। এ সমাজের প্রতিটি লোক ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর কাছে সম্মানিত হবেন। আল্লাহ আমাদের শাসকবর্গসহ সবাইকে আল্লাহর দেয়া কর্মসূচিগুলো বুঝে তা বাস্তবায়নের তাওফিক দিন। আমিন।

Category: ঈমান