ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

অজুর কল্যাণে …

অজুর কল্যাণে ...পূর্ণাঙ্গ ‘অজু’ পবিত্রতা অর্জনের উপায়। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মাসনুন তরিকায় অজু করা হলে তা একটি নেক আমলও বটে। এটি অতি সহজ আমল, যা আমরা সবাই করি এবং দিনে একাধিকবার করি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে অজুর প্রয়োজন হয়। আমরা যদি একটু খেয়াল করে মাসনুন তরিকায় এই সহজ ও প্রয়োজনীয় আমলটি সম্পাদন করি তাহলে অতি সহজে আমরা পেতে পারি অনেক বড় বড় পুরস্কার। হাদিসে আছে হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে যে কোনো ব্যক্তি অজু করে এবং পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করে অতঃপর বলে—(অযু শেষের দোয়া) তবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেয়া হবে। যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা, সে প্রবেশ করতে পারবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৪; জামে তিরমিযি, হাদিস ৫৫)।

এটি একটি সুসংবাদবাহী সুন্দর হাদিস। এখানে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজুর ফরজ, সুন্নাত ও আদবের প্রতি লক্ষ্য রেখে উত্তমরূপে অজু করার এবং অজুর শেষে দোয়া পড়ার একটি সহজ আমলের কথা বলেছেন। যা দেহকে সজীব ও পবিত্র করে, মনে প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা দান করে। এই সহজ আমলের জন্যও আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করবেন বলে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে। তার জন্য জান্নাতের কটি দরজা খুলে দেয়া হবে এবং সে নিজের ইচ্ছামতো যে কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে।

অন্যান্য হাদিসে অজুর আরও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন হজরত ওসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি অজু করে এবং উত্তমরূপে অজু করে, তার শরীর থেকে, এমনকি নখের নিচ থেকেও গুনাহগুলো বের হয়ে যায় (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৫)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে আছে, নবীজী বলেছেন, মুসলিম বা মুমিন বান্দা যখন অজু করে, যখন সে মুখমণ্ডল ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে বা পানির শেষ কাতরার সঙ্গে ওইসব গুনাহ বের হয়ে যায় যা সে দু’চোখ দ্বারা করেছিল। যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে ওইসব গুনাহ বের হয়ে যায় যা সে হাত দ্বারা করেছিল। যখন সে দুই পা ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে ওইসব গুনাহ বের হয়ে যায় যার দিকে সে চলেছিল। এভাবে সে গুনাহ থেকে পাকসাফ হয়ে যায় (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৪)।

অন্য হাদিসে এসেছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের সামনে হাউজে কাউসারের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, মানুষ যেমন তার হাউজ থেকে অন্য মানুষকে সরিয়ে দেয়, তেমনি আমিও সেদিন কিছু মানুষকে সরিয়ে দেব। সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, সেদিন কি আপনি আমাদের চিনতে পারবেন? নবীজী ইরশাদ করলেন, বল তো, কারও যদি হাতে ও পায়ে সফেদ চিহ্নবিশিষ্ট কিছু ঘোড়া থাকে এবং সেগুলোকে অসংখ্য কালো রঙের ঘোড়ার মাঝে ছেড়ে দেয়া হয় তবে সেই ব্যক্তি কি তার ঘোড়াগুলো চিনতে পারবে না? সাহাবারা বললেন, হ্যাঁ, পারবে। ইয়া রাসুলাল্লাহ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তেমনি তোমাদেরও এমন কিছু চিহ্ন হবে যা অন্য কোনো উম্মতের হবে না। কিয়ামতের দিন তোমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও অজুর কারণে ঝলমল করতে থাকবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৪৬-২৪৯ অবলম্বনে)।

অন্য একটি সহিহ হাদিসে আরও একটি সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শুনতে পেয়েছি যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলিম যখন সুন্দরভাবে অজু করে অতঃপর চেহারা-মন উভয়কে আল্লাহ অভিমুখী করে দণ্ডায়মান হয় এবং দু’রাকাত নামাজ আদায় করে, তখন তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩৪)

উপরের হাদিসগুলো থেকে অজু ও আনুষঙ্গিক কয়েকটি আমলের নির্দেশ পাওয়া যায়—১. মাসনুন তরিকায় উত্তমরূপে অজু করা। ২. অজুর পর হাদিসে উল্লিখিত দোয়া পাঠ করা। ৩. দু’রাকাত তাহিয়্যাতুল অজুর নামাজ পড়া। আমলগুলো খুবই সহজ কিন্তু বিনিময়ে রয়েছে বড় বড় কয়েকটি সুসংবাদ। ১. অজুর পানির সঙ্গে গুনাহগুলো বের হয়ে যাবে। ২. কিয়ামতের দিন অজুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো ঝলমল করবে। ৩. জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। ৪. জান্নাতের সবক’টি দরজা উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। অতএব সবার উচিত, মাসনুন তরিকায় আমলটি করে এসব পুরস্কার লাভে প্রতিযোগিতা করা।