ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

আগে সালাম পরে কালাম

salam1তিনি ছিলেন উম্মতের প্রতি অনুরাগী। ছোটবড় সবাইকে সালাম দিতেন। কেউ তাকে আগে সালাম দেয়ার সুযোগ পেত না। সালামকালে মুখে মিষ্টি হাসির রেখা লেগে থাকত। আরবি প্রবাদ আছে ‘আগে সালাম পরে কালাম’। এ ছাড়া কথা বলার আগে সালাম বিনিময় করার প্রতি রাসূল সা: সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। ইসলাম শান্তির ধর্ম। সালাম অর্থ শান্তি। কোনো গোত্রে বা সম্প্রদায়ের মাঝে যদি কোনো ধরনের ফাটল দেখা দেয়, তখন সালাম তার সংযুক্ততার মাধ্যম বানাতে হয়। সালামে রয়েছে অনেক ফজিলত।

যে ব্যক্তি দৈনিক ২০ জনকে সালাম দেবে ওই দিন সে ইন্তেকাল করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। যে ব্যক্তি আগে সালাম দেবে তার জন্য জান্নাতে একটি পরোয়ানা লেখা হবে। আগে সালাম দেয়ার দ্বারা অহঙ্কার (বড়ত্ব ভাব) দূর হয়। আর যে ব্যক্তি সালাম নেবে তার জন্য ১০ নেকি। সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব। শুনিয়ে দেয়া উত্তম।

আমাদের সমাজে যত অনাচার-অনিয়ম রয়েছে তার মূলে কাজ করছে অহঙ্কার; যা একটি মানুষের হায়াতকে সংপ্তি করে দেয়। আর এ সালাম অহঙ্কারকে জ্বালিয়ে দেয়। সালামের মাধ্যমে দু’জনের ভেতর গভীর মহব্বত সৃষ্টি হয়। সালামের গুণে শত্র“র অন্তরে মিত্র ভাব সৃষ্টি হয়। কাউকে বন্ধুতে পরিণত করার মাধ্যম হলো তাকে বেশি বেশি সালাম দেয়া। সালামের বরকত যার মধ্যে প্রবেশ করবে, সেই আল্লাহর কাছে প্রিয়পাত্র হিসেবে পরিণত হবে। এ জন্য সালাম দেয়ার ক্ষেত্রে রাসূল সা:-এর কাছে দল-মত শ্রেণিবিভক্তি এক সমান ছিল। রাসূল সা: ছোটদের সালাম দিতেন যেন তারা সালাম শিখতে পারে। বড়রাও ছোটদের সালাম দেয়ার মাধ্যমে তাদের কিশোর মন সুন্নতের শ্র“তিমাধুর্যে আপ্লুত হয়ে ওঠে। এ জন্য সালামের ক্ষেত্রে মুসলমানদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ বা পৃথকতা নেই।

অথচ আমাদের আজকের অবস্থা বিবেচনা করলে আমরা চৌদ্দ শ’ বছরের সেই সুন্নতি রাজ্য থেকে অনেক দূরেই পড়ে যাই। অন্যান্য সুন্নত অনাস্থাশীলতার হাওয়া সালামকেও ঘ্রাস করে নিয়েছে। ফলে আমরা পিছিয়ে পড়েছি এ সুন্নত পালনের আগ্রহ-উদ্দীপনা থেকে। এখন কেউ কাউকে তেমন সালাম দিতে চায় না। কাছে এলেও একটা ভাব নিয়ে সালামের অপোয় থাকে। অথচ তার নিজের প থেকে সালাম বিনিময় হলেই আগন্তুক সালাম দিয়ে মোসাফাহাও করতেন। অথবা আগন্তুক নিজেই সালাম দিতেন। কারণ সালামের প্রতি মানুষ ভীষণ দুর্বল। এ কারণে খুব সহজ উপায়ে কাউকে কাছে টানতে হলে সালামকে মাধ্যম বানাতে হয়। এভাবে এক দিন, দুই দিন করে সালামের বরকতে দূরবর্তী ব্যক্তিও অনায়াসে কাছে ভিড়ে যায়।

আর বর্তমান যান্ত্রিক যুগের মেজাজ বা স্টাইল হলো সালামের পরিবর্তে ‘হ্যালো’ বলে সম্বোধন করা। উপস্থিত কারো সাথে কথা বলার আগে সালাম না দিয়েও বলা হয় ‘হ্যালো’। সালাম দিলেও শুদ্ধতার প্রতি তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় না। অনেকে স্টাইল করতে গিয়ে বলে ফেলে স্লামালেইকুম। সালাম বিকৃত ছাড়া এর কোনো অর্থ হয় না। ইচ্ছে করলে সহজেই শুদ্ধটি বলা যায় ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ’ অথবা শেষ অংশসহ পুরোটা একত্রে বলা যায় ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’। এ শুদ্ধ সালাম কত শ্র“তিমধুর। শুদ্ধভাবে সালাম দেয়ার দ্বারা রাসূলের সুন্নতি বরকত সহজে অর্জন করা যায়।

গৃহে প্রবেশ করার আগে সালাম দেয়া সুন্নত। চাই তা নিজের ঘর হোক বা অন্যের ঘর হোক। কোথাও সফরে বের হলে গন্তব্যে পৌঁছে আগে স্থানীয়দের সাথে সালামের মাধ্যমে কুশলবিনিময় করা। সালামের ব্যপারে ছোটদের বেশি বেশি তাগিদ দেয়া। স্বামী স্ত্রীকে সালাম দেবেন। ভাই বোনকে সালাম দেবেন। ছোট বড়কে সালাম দেবে। বক্তা ভাষণ দেয়ার আগে শ্রোতাদের সালাম দেবেন। শ্রোতা বক্তাকে সালাম দেবেন। ক্রেতা খরিদ্দারকে সালাম দেবেন। ছাত্ররা শিককে সালাম দেবেন। সন্তান মা-বাবাকে সালাম দেবেন। সাগরেদ ওস্তাদকে সালাম দেবেন। সর্বোপরি অন্যরা বৃদ্ধদের সালাম দেবেন। সালাম মানবাত্মায় গভীর মহব্বত তৈরিতে অনেক বড় সহায়ক। সালাম দেয়ায় অন্তরের কালি দূূর হয়।

সালাম মানুষের ময়দানে সম্প্রীতি দুর্গ তৈরি করে। একনিষ্ঠভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সালামের এই সুন্নতকে জিন্দা করার ব্যাপারে যতœশীল হওয়া উচিত। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধনের ক্ষেত্রে সালামের ওপর ব্যাপক আমল সময়ের অনিবার্য দাবি। এ ক্ষেত্রে সালাম হতে পারে অনেক বড় মাধ্যম।