ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

আচরণ কেমন হওয়া উচিত

একজন মুসলমান হিসেবে মহান আল্লাহ তায়ালার ইবাদত-বন্দেগি করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সৃষ্টিকর্তার গোলামির পর আল কুরআনে যে ব্যাপারে তাগিদ দেয়া হয়েছে তা হলো- পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে ঘোষণা করেন- ‘আর তোমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক কোরো না, আর মাতাপিতার সাথে সদয়-সদ্ব্যবহার করো, কাছের আত্মীয়দের সাথেও সদ্ব্যবহার করো, এতিম ও মিসকিনদের সাথেও সদ্ব্যবহার করো, নিকটবর্তী প্রতিবেশীদের সাথে সদ্ব্যবহার করো ও দূরবর্তী প্রতিবেশীদের সাথেও সদ্ব্যবহার করো; একই মজলিসের সাথী, মুসাফির ও দাস-দাসীদের সাথেও সদ্ব্যবহার করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ দাম্ভিক-গর্বিতজনকে পছন্দ করেন না।’(সূরা নিসা, আয়াত ৩৬)।

আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগির পরে সর্বপ্রথম অধিকার হলো পিতামাতার। কারণ এ পৃথিবীতে পিতামাতা ছাড়া আমাদের আগমন অকল্পনীয়। আমাদের আগমনের পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছেন যারা তারা হলেন পিতামাতা। সুতরাং আল্লাহর ইবাদতের পর পিতামাতার হকই সবচেয়ে বেশি। পিতামাতার হক সম্পর্কে তিরমিজি শরিফের এক রেওয়ায়েতে এসেছে- আল্লাহ তায়ালার সন’ষ্টি, পিতামাতার সন’ষ্টির মধ্যে এবং আল্লাহর অসন’ষ্টি পিতামাতার অসন’ষ্টির মধ্যে নিহিত রয়েছে। অন্য রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে, রাসূলে করিম সা: ইরশাদ করেন- যে পুত্র স্বীয় পিতামাতার অনুগত, সে যখনই নিজের পিতামাতার প্রতি সম্মান ও মহব্বতের দৃষ্টিতে তাকায়, তখন প্রতিটি দৃষ্টিতে সে একটি করে মকবুল হজের সওয়াবপ্রাপ্ত হয়।

দ্বিতীয় পর্যায়ে যাদের হক তারা হলেন নিকট আত্মীয়স্বজন। এ ব্যাপারে একটি হাদিসের উদ্ধৃতি প্রণিধানযোগ্য। রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেছেন, সদকার মাল সাধারণ গরিব-মিসকিনকে দান করলে তাতে শুধু সদকার সওয়াবই পাওয়া যায়, অথচ তা যদি নিজের রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়-আপনজনকে দান করা হয়; তাতে দু’টি সওয়াব পাওয়া যায়। একটি হলো সদকার সওয়াব এবং অন্যটি আত্মীয়তার হক আদায় করার সওয়াব।

তৃতীয় পর্যায়ে যাদের হকের কথা বলা হয়েছে তারা হলো এতিম মিসকিন। অনাথ শিশু এবং অসহায় মানুষের সাহায্য-সহায়তাকেও এমনই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে ইসলাম, যেমন বিবেচনা করা হয় আত্মীয়-আপনজনের বেলায়।

চতুর্থ পর্যায়ে হক হলো নিকটবর্তী প্রতিবেশীদের হক। হাদিসের দৃষ্টিতে প্রতিবেশীর হক তিন ধরনের। এক. এমন অমুসলিম যাদের সাথে কোনো আত্মীয়তা নেই। দুই. যারা প্রতিবেশী হওয়ার সাথে সাথে মুসলমানও বটে। তিন. যারা প্রতিবেশী মুসলমান এবং সেই সাথে আত্মীয়ও বটে।

পঞ্চম পর্যায়ে সহকর্মীদের হক। প্রতিবেশীর পরে সবচেয়ে বড় হক হলো সহকর্মীদের। আপনার কোনো কথায় বা কাজে নিকটতম প্রতিবেশীরা যেন কোনো রকম কষ্ট না পায়। এমন কোনো কথা বলা যাবে না, যাতে সে মর্মাহত হতে পারে। এমন কোনো আচরণ করা যাবে না, যাতে তার কষ্ট হতে পারে।

ষষ্ঠ পর্যায়ে মুসাফিরের হক। মানবীয় সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তার হকও অপরিহার্য করে দিয়েছে ইসলাম। সামর্থ্য ও সাধ্য অনুযায়ী তার সাথে সদ্ব্যবহার করা। এবং সপ্তম পর্যায়ে হক হলো গোলাম বা বাঁদীদের। রাসূলে করিম সা:-এর নির্দেশ ও বিধিবিধান দাস-দাসী, চাকর ও চাকরানীর ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য। তাদের হকও একই রকম। নির্ধারিত ভেতনভাতা, খানাপিনা প্রভৃতির ব্যাপারে বিলম্ব বা কার্পণ্য করা যাবে না। তাদের ওপর সাধ্যাতীত কোনো কাজও চাপিয়ে দেয়া যাবে না।

এভাবে আল্লাহর ইবাদতের পরে প্রতিটি হকেরই গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও গুরুত্ব। শুধু পিতামাতা কিংবা নিকটাত্মীয় নয়; প্রতিবেশী, সহকর্মীদের সাথেও সৎ আচরণ করার তাগিদ দিয়েছে আল কুরআন। তাদের বড় কোনো সহযোগিতা করতে না পারলেও অন্তত তাদের জন্য দোয়া করা বা কল্যাণ কামনা করা দরকার। তাদেরকে অনিষ্টতার হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করা দরকার।

একজন মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই হিসেবে এমন আচরণই করা উচিত। সামর্থ্যানুযায়ী আত্মীয়-আপনজনদের কায়িক ও আর্থিক সেবাযত্ন করা, তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা এবং তাদের খবরাখবর নেয়াও অন-র্ভুক্ত। তাই আসুন, গর্ব-অহঙ্কার থেকে নিজেদের বিরত রেখে সবার সাথে সদ্ব্যবহার করি।