ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

আল্লাহর পথে দাওয়াত

তাবলিগ আরবি শব্দ। এর বাংলা অর্থ প্রচার। তাবলিগে দ্বীন অর্থ দ্বীনের প্রচার। তাবলিগ জামাত সারা বিশ্বে এ কাজটি করে চলেছে। তাবলিগ করেছেন সব নবী। আদম আ: থেকে শুরু করে সব নবীই এ কাজ করেছেন তাদের নিজ নিজ জাতির কাছে। তাবলিগ করতে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহই নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর দ্বীন ইসলাম। এই দ্বীন ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করতে আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করেনÑ ‘(হে নবী!) তোমার প্রতিপালক প্রভুপ্রদত্ত পথে আহ্বান করো, হিকমতের সাথে এবং সুন্দর সুন্দর উপদেশ দিয়ে।’

কুরআনের অন্য আয়াতে রয়েছে, ‘ওমা আলইনা ইল্লাল বালাগ’ অর্থাৎ নবীরা তাদের জাতির কাছে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, আমাদের দায়িত্ব তো আল্লাহর বাণী প্রচার করা। এখানে দ্বিতীয় আয়াতে বাল্লেগ শব্দটি থেকেই তাবলিগ শব্দটির উৎপত্তি। কাজেই আমরা বুঝতে পারি, দ্বীনের দাওয়াত দান করা আমাদের সবারই দায়িত্ব।

কিভাবে দাওয়াত দেবো : দাওয়াত দিতে হবে হিকমতের সাথে। এ বিষয়টি প্রথম আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে। সেখানে দু’টি শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছেÑযেমন হিকমত ও মাওয়ায়েজ। অর্থাৎ স্থান-কাল-পাত্রভেদে অত্যন্ত উপযুক্ত কৌশল প্রয়োগে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকতে হবে। জোর করে মানুষকে এ পথে ডাকার কোনো বিধান নেই। অর্থাৎ মানুষের মনোজগতে আল্লাহর কথা অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্যভাবে তুলে ধরতে হবে। আল্লাহও স্বয়ং যুক্তি দিয়ে ভালো-মন্দ পার্থক্য বুঝিয়ে মানুষকে আমালে সালেহ করার কথা বলেছেন।

আমালে সালেহ আল্লাহ কর্তৃক প্রয়োগকৃত একটি ভাষা। অর্থাৎ মানবকল্যাণে এবং ব্যক্তিকল্যাণে যে কাজ যথাযথ সঠিক, তাকেই আমালে সালেহ বলে। যেমনÑ আরবিতে সালেহ শব্দের অর্থ ঠিক করে দেয়া বা সচল করে দেয়া। যেমন কারেন্টের তার ছিঁড়ে গেলে তা যদি মিস্ত্রি ঠিক করে দেয়, তাহলে তাকে আরবিতে বলে সালুহাত কাহরুবাইয়া; অর্থাৎ বিদ্যুৎ সচল করে দেয়া হয়েছে। এখানে আমরা বুঝতে পারলাম, যখন যে কাজ করা উচিত, তাকে আমালে সালেহ বলে।

আবার দেখুন, শিক্ষক বা অভিভাবকের আদেশ যথাযথ পালন করাকে বলা হয় আমালে সালেহ। ধরুন, আপনার বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলে সন্তান কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করানো হলো আমলে সালেহ।

আবার পথের পাশে একজন কনকনে শীতে কষ্ট পাচ্ছেন, তাকে তার শীত নিবারণের জন্য কিছু টাকা-পয়সা দেয়া বা শীতবস্ত্র কিনে দেয়ার নাম আমলে সালেহ। এ ছাড়া একজন না খেয়ে জীবনযাপন করছে, তাকে খাবারের সংস্থান করে দিলে বা বিনা স্বার্থে অর্থ সাহায্য দিলে সেটাকে আরবিতে বলা হয় আমালে সালেহ।

কাউকে ভালো কিছু শিখিয়ে দিলেন বা সদুপদেশ দিলেন,্ এটাও কিন্তু আমালে সালেহ। মোট কথা, মানুষের কল্যাণে আপনি যে কাজ করলেন, সেটাই আমলে সালেহ হিসেবে গণ্য। আর যে কথা উপদেশমূলক বলেছেন, সেটি হচ্ছে মাওয়ায়েজ।

যথা সময়ে যথাযথ কাজ আনজাম দেয়ার যে পদ্ধতি অনুসরণ করলেন তাকেই কৌশল বা হিকমত বলে। এ কথাই কুরআনের হিকমত শব্দটির উচ্চারণ করা হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবীর কাজ দেখুন। এক বুড়ি রাসূলের পথে শুধু কাঁটা বিছিয়ে রাখত। একদিন নবী দেখতে পান পথে কাঁটা নেই। নবীজী জানতে পারেন সে অসুস্থ। নবীজী সেই বুড়িকে দেখতে গেলেন। বুড়ি তো অবাক। নবীজীর এমন মহানুভবতা দেখে বুড়ি নবীজীর বিরোধিতা ছেড়ে দিয়ে লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ পড়ে ঈমান আনলেন।

এ ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, নবী তাকে ঈমান আনার আহ্বান জানাতে যাননি। গিয়েছেন তার খোঁজখবর নিতে। নবীজীর এ হিকমত অবলম্বনে বুড়ি ঈমান এনে জান্নাতি হয়ে গেলেন। এমনি বহু উদাহরণ রয়েছে। তাই দ্বীনের পথে আহ্বান করতে নবীর শিক্ষাই আমাদের জন্য অবশ্য করণীয়।