ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার রূপরেখা

এই বিশ্ব জগতের সব কাজ-কর্ম এবং নেক আমল আল্লাহ পাকের মহব্বত (ভালোবাসা) দৃঢ় করার উপলক্ষ মাত্র। আল্লাহ পাকের সত্যিকার মহব্বত ও সন্তুষ্টি অর্জনই মানুষের সর্বোচ্চ মর্যাদার সম্বল। আল্লাহ পাকের মহব্বত অর্জনের সর্বোত্তম পন্থা হচ্ছে আল্লাহর প্রতি গভীর মনোনিবেশ করা।

এ সম্পর্কে পবিত্র আল্ কুরআনে আল্লাহ পাক বলেন, আল্লাহ পাক  তাদের ভালোবাসেন। রসূলে মকবুল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (স.)কে দুনিয়ার সব কিছু হতে ভালো না বাসে তার ঈমান (বিশ্বাস) পূর্ণ নয়। জনৈক সাহাবী একবার রসূলে পাক (স.)কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ঈমান কি? আল্লাহর নবী মুহাম্মদ (স.) জবাবে বললেন, আল্লাহ ও রাসূল (স.)-এর প্রতি সর্বাপেক্ষা অধিক মহব্বতের নাম ঈমান। আর সে ব্যক্তি ঐ পর্যন্ত সত্যিকার মু’মিন বা বিশ্বাসী হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না তার পিতা-মাতা সন্তান সন্তুতি, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ বিত্ত বৈভব হতে অর্থাত্-এ দুনিয়ার সবকিছু হতে আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (স.) কে অধিক মহব্বত করতে না পারে। একথা শুনে নবী করীম (স.) বললেন, গরিবীর জন্য তৈরী হও।

তারপর আবার সে বললো আমি আল্লাহ তায়ালাকে পছন্দ করি। একথা শুনে আল্লাহর রাসূল (স.) বললেন, তাহলে আপদ বালা-মুসিবত সহ্য করার শক্তি সঞ্চয় করো। আবার আর একবার এক সাহাবী রসূলে করীম (স.)কে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (স.) রোজ কেয়ামত কবে সংগঠিত হবে। আল্লাহর রাসূল (স.) বললেন, সেদিনের জন্য তুমি কি সংগ্রহ করেছ? সাহাবী বললো, ছালাত (নামাজ) রোজা বেশী করতে পারি নাই। তবে আল্লাহর এবং তদীয় রাসূল (স.)কে মহব্বত করি। একথা শুনে নবী করীম (স.) বললেন, নিশ্চিন্ত থাক তুমি যাদেরকে মহব্বত (ভালোবাসো) রোজ কেয়ামতে তাদের সাথেই থাকবে। হযরত আবুবকর সিদ্দিক (র.) বর্ণনা করেছেন যে, যে একবার আল্লাহর মহব্বতের স্বাদ পায় সে দুনিয়াকে ঘৃণা করতে শুরু করে। দুনিয়ার প্রতি ততো মোহ থাকে না।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি মহব্বত সব কিছুরই ঊর্ধ্বে। সুতরাং এই মহব্বত ভালোবাসা আল্লাহ প্রেম সত্যিকারভাবে প্রমাণিত হবে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার প্রতি খাঁটি হূদয় আনুগত্যের মধ্যে। যাকে মহব্বত ভালোবাসা যায়- জান প্রাণ দিয়ে তাঁর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি সাধনই করা হচ্ছে ভালোবাসার প্রকৃত পরিচয়। এটাই হবে মূলত মহব্বতের আদর্শ। এ সম্পর্কে নবী (স.) আরো এরশাদ করেছেন, আল্লাহর মরজী (ইচ্ছাতে)ই খুশী সন্তুষ্ট থাকাই বড় পরিচয় মহব্বত -ভালোবাসা প্রবল ও খাঁটি হলে অন্য কিছু দাঁড়াতে পারে না। মহব্বত-আল্লাহ প্রেমই প্রাধান্য লাভ করে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার যে সন্তুষ্ট চায় সে উচ্চ মর্যাদায়-মরতবায় পৌঁছে যায়। কেননা সে তো যে কোন কুরবানী ত্যাগের পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি-রাজি খুশিই তালাশ করে। এবং দুনিয়ার যে কোন দু:খ-কষ্টে অম্লান বদনে রাজি থাকে এবং আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (স.)-এর আদেশ নিষেধগুলো নিখুঁতভাবে যথাযথভাবে আদায় করে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি মহব্বত-ভালোবাসার বাস্তব দৃষ্টান্ত অগণিত রয়েছে। যে বা যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর খুশীতে খুশী থাকে। এবং আল্লাহর জন্যই যত কঠিনই ঘোরতর কষ্ট মুসিবত আপতিত হোক না কেন- তা হাশি মুখে বরণ করে নেয়।

মানুষের একমাত্র মহব্বত ভালোবাসার লক্ষ্য হলো কেবলমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আল্লাহ ব্যতীত মহব্বত বা ভালোবাসার উপযুক্ত আর কেউ নেই। তাই যে এই নশ্বর জীবন ও দুনিয়াকে ভালোবাসে এবং মহান স্রষ্টা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালাকে ভুলে যায়- তার মতো অভাগা কপালপোড়া জাহেল আর কেউ নেই। আবার লক্ষ্য করুন- যারা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এবং সেই সাথে অন্যান্য সবাইকে মনে প্রাণে ভালোবাসে সে মূলত যথার্থ পথে রয়েছে। পিতা-মাতা, ভাই, ভগ্নি, স্ত্রী-পুত্র, আত্মীয়-স্বজন এবং গরীব দু:খীজন ও অন্য সবাইকে মানবতার দৃষ্টিতে যথারীতি ভালোবাসে সে মূলত আল্লাহ তাবারক তায়ালার তাবেদারী করে এবং এসবের প্রতি ভালোবাসা ও কর্তব্য পালন বস্তুত: আল্লাহকেই মহব্বত-ভালোবাসার নামান্তর।

অতএব আসুন, আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (স.)-এর হুকুম-আহকাম পালন করে সত্যিকারভাবে মহান স্রষ্টা রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আখেরাতের অপার সুখ ও শান্তিময় জীবনের অন্বেষায় সচেষ্ট হই। আমাদের চলমান জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমরা যেন আল্লাহ এবং রসূল (স.) এর প্রতি ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি।

লেখক: মাওলানা শাহ আবদুস সাত্তার