ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলামের শাশ্বত রূপ

এটা অনস্বীকার্য যে, শিক্ষিত মুসলমানেরা প্রত্যেকেই মনে করেন যে, ‘Islam is a complete code of life’ অর্থাৎ ‘মানুষের জীবন পরিক্রমায় ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা’। তারা ইসলামকে কেবল মানবকেন্দ্রিক চিন্তাধারায় পরিচালনার পক্ষপাতী। আরো বিশেষভাবে মনে করে, ইসলাম হচ্ছে কেবল মুসলমানদের সম্পদ এবং জীবনব্যবস্থা, এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মুসলমানদের প্রতি একটি সঙ্কলিত নির্দেশনা। তারা অনেকটা গণ্ডিভূত দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামকে দেখেন।

আসলে কি ইসলাম তা-ই? ইসলামের সার্বজনীন বিশেষ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমার এই আলোচনা। দু’টি প্রশ্নকে সামনে রেখে এই আলোচনা অবতারণা করছি

১. ইসলাম কী?              

২. ইসলামের বয়স কত?

আমার মতে, ইসলাম সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্য একটি শাশ্বত জীবন পরিক্রমা। এটা কোনো নির্দিষ্ট সৃষ্টি তথা মানুষের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়। এর সার্বজনীন স্বরূপ উপলব্ধির সুযোগ আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মানুষকে দিয়েছেন। কুরআনের ভাষায় এটা স্পষ্ট যে, আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মহাবিশ্ব সৃষ্টির আগে নিজেকে গুপ্ত রেখেছিলেন। কোনো একপর্যায়ে তিনি সৃষ্টির মাধ্যমে তার ‘কুদরত’ অর্থাৎ সৃষ্টি-ক্ষমতাকে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। যেহেতু তাঁর এ সম্পর্কে কারো সাথে পরামর্শ করার প্রয়োজন নেই সেহেতু ‘কুন’ আদেশ দিয়ে সাথে সাথেই সৃষ্টি শুরু করিয়ে দেন। তাঁর সবচেয়ে বড় সৃষ্টি হলো এই মহাবিশ্ব, এটাকে ইংরেজিতে মানুষ Universe or Multiverse চিন্তা করে আসছে। তাদের পরিসমাপ্ত জ্ঞানে কোনটি সঠিক তা আজো স্থির করতে পারছে না। এর মধ্যে ুদ্রতম সৃষ্টি হলো একটি পরমাণুতে যেসব Particle রয়েছে তাদের মধ্যে ুদ্রতমটি।

ধাপে ধাপে এই ুদ্রতম সৃষ্টি সম্পর্কে মানুষের গবেষণালব্ধ জ্ঞান আরো এগিয়ে চলেছে। কবে সেটা শেষপর্যায়ে গিয়ে পৌঁছবে সেটি অনুমান করাও সম্ভব নয়। আরো আশ্চর্যের বিষয় যে, আজো মানুষের এই সীমিতজ্ঞানেও এটা ধরা পড়েছে যে, ওই ুদ্রতম সৃষ্টিকে পরম মহিমান্বিত মহা পরাক্রমশালী স্রষ্টা নির্মাণ একক (Building block) হিসেবে ব্যবহার করে সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। কাজেই প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুই নানা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভরপুর। ওই প্রতিটি ুদ্রতম সৃষ্টিকণা মহাবিশ্বের মতো সুশৃঙ্খলভাবে নিয়মমাফিক তার জীবনপরিক্রমা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিটি সৃষ্ট বস্তু কিভাবে তার জীবনপরিক্রমা চালিয়ে যাবে, সেই নির্দেশিত নিয়মকানুন ইত্যাদিকে সামষ্টিকভাবে ‘ইসলাম’ বলে চিহ্নিত করা যায়। এটি একটি আরবি শব্দ। সাধারণভাবে এটার বাংলায় অনুবাদ করা হয় ‘শান্তি’। এর মাধ্যমে মুসলমানেরা একে অপরের প্রতি সালাম বিনিময় করেন। তওরাতের ভাষায় এটাকে বলা হয় ‘সলম’ যার ইংরেজি অর্থ দাঁড়ায় Diseiplined, Orderly etc. যেহেতু ইসলামের মূল বিষয় হচ্ছে, সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা, সেখানটায় সবাই যেখানে শৃঙ্খলা মেনে চলবে সেখানে শান্তি বা প্রশান্তির আবহ সৃষ্টি নিশ্চিত হয়ে যাবে। এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে এটাও নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সৃষ্টির বয়স যত ইসলামেরও বয়স তত। এ পর্যায়ে একটি কথা বলে রাখা ভালো বলে আমি মনে করি, অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তি স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করেন। আমি এই প্রশ্ন নিয়ে অন্যত্র বিশদ আলোচনা করার ইচ্ছা রাখি। বিজ্ঞানের তথ্য-উপাত্ত দিয়েই এক স্রষ্টার অস্তিত্ব ধনাত্মকভাবে প্রমাণযোগ্য।

মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের সূচনা সম্পর্কে অনেকের অনেক রকম ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই বিশ্বের প্রথম মানব-মানবী হজরত আদম আ: ও তার সঙ্গিনী বিবি হাওয়া আ:-কে পৃথিবীতে পাঠানোর সময় তাদের ওপর যে নির্দেশ ছিল সেটাই ইসলাম। আবার কেউ কেউ মনে করেন, পরবর্তী-পর্যায়ে হজরত নূহ আ:, হজরত দাউদ আ:, হজরত মূসা আ:, হজরত ইব্রাহিম আ:, হজরত ঈসা আ: ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর সময়কাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তাঁর উম্মতদের চলার যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটাই ইসলাম। দুই লাখ ২৪ হাজার মতান্তরে এক লাখ ২৪ হাজার পয়গাম্বরের ওপরে জারিকৃত নির্দেশাবলির সমষ্টি হচ্ছে ইসলাম।