ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলামে বন্ধুত্ব গ্রহণ

এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের প্রয়োজন, তেমনি সমাজে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন মানুষের মধ্যে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির। কেননা মানুষ সামাজিক জীব। সে একা থাকতে পারে না। সমাজের অন্য সবার সাথে সে মিলেমিশে থাকতে চায়। এই পারস্পারিক সম্পর্ক, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির ফলেই মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়।

একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে- ‘‘সত্সঙ্গে স্বর্গবাস, অসত্ সঙ্গে সর্বনাশ’’। সুতরাং সঙ্গ ভাল থাকলে সুন্দরভাবে বাস করা যায় আর সঙ্গ খারাপ হলে সর্বনাশ ছাড়া কিছুই হয় না। কুরআন ও হাদীসে বন্ধুত্ব এবং এর মর্যাদা সম্পর্কে বহু বাণী উল্লেখিত হয়েছে। যে কাউকেই বন্ধু বলা যায় না। বন্ধু হতে হবে উপযুক্ত, উপকারী এবং সর্বোত্তম। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-‘‘তুমি নিজেকে ওদেরই সংসর্গে রাখবে, যারা সকালে তাদের রবকে আহবান করে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য, পার্থিব জীবনের সুখ-সৌন্দর্য কামনা করে তাদের হতে তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ো না। যার চিত্তকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করেছি, সে তার আপন খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে ও যার কার্যকলাপ সীমা অতিক্রম করে, তুমি তার অনুসরণ করো না’’। [সূরা কাহ্ফঃ২৮]

মূর্খ ও অজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে মানুষের চারিত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের অধঃপতন ঘটে। পক্ষান্তরে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে মানুষের চারিত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের উত্কর্ষতা লাভ করে। হাদীসে আছে- ‘‘জ্ঞানী শত্রু, নির্বোধ বন্ধু অপেক্ষা শ্রেয়’’ [মিজানুল হিকমাহ্ঃ১০২৬৮]।

পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে, যারা অহেতুকভাবে আল্লাহর নির্দেশনাবলীর ছিদ্রান্বেষণ করে তারা হচ্ছে অনুপযুক্ত ও ধিক্কৃত বন্ধু। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘‘তুমি যখন দেখ, তারা আমার নির্দেশনাবলী সম্বন্ধে নিরর্থক আলোচনায় মগ্ন, তখন তুমি দূরে সরে পড়বে, যে পর্যন্ত তারা অন্য কথার আলোচনা না করে এবং শয়তান যদি তোমাকে বিস্মৃত করে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর অত্যাচারী সম্প্রদায়ের সাথে বসো না’’ [সূরা আন’আমঃ৬৮]।

কেয়ামতের দিন, পার্থিব উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত বন্ধুত্ব ঘোরতর শত্রুতে পরিণত হবে। এ প্রেক্ষিতে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘‘ঐদিন (কেয়ামতের দিন) বন্ধুরা পরস্পরের শত্রুুতে পরিণত হবে। তবে কেবলমাত্র তারা ব্যতীত যারা মুত্তাকী ও পরহেজগার’’। [সূরা যুখরুফঃ৬৭] সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা’য়ালা ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণকামী বন্ধুত্বকে বিশেষভাবে উত্সাহিত করেছেন। ‘‘আমি তাদের অন্তর হতে ঈর্ষা দূর করবো, তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি হয়ে আসনে অবস্থান করবে’’ [সূরা হিজ্বরঃ৪৭]।

লেখক: সায়মা রহমান