ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলামে যৌতুকের স’ান নেই

একবিংশ শতাব্দীর এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগেও ব্যাপকভাবে যৌতুকের বিস্তার ঘটে চলছে। এই যৌতুক প্রথা মুসলমানদেরও কোনো সংস্কৃতি নয়। অথচ মুসলমান পরিচয়ের বহু মানুষ যৌতুক নামের ইসলামবিরোধী এই সংস্কৃতি লালন করছে। মুসলমানেরা কুরআন-হাদিসের শিক্ষা থেকে দূরে থাকার কারণে এ ধরনের প্রথার বিস্তার ঘটেছে।

যারা যৌতুক নিচ্ছে, তারা সবাই যে মূর্খ তা-ও নয়। বেশির ভাগই কম-বেশি লেখাপড়া জানেন। এসব যৌতুকলোভী ব্যক্তি অবশ্যই বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে লেখাপড়া করেছেন। হয়তো সবাই উচ্চ ডিগ্রি গ্রহণ করতে পারেননি। আবার উচ্চ ডিগ্রিসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যেও যৌতুক গ্রহণের খবর পাওয়া যায়, তবে সবাই নয়। তারা ছাত্রজীবনের ক্লাসগুলোতে যৌতুক নেয়া একটি জঘন্য অপরাধ, সে সম্পর্কে কি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন? অবশ্যই সে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেননি। কারণ শিক্ষাব্যবস’ায় যৌতুকের কুফল সম্পর্কে তেমন উপযুক্ত পাঠের ব্যবস’া নেই।

রাষ্ট্র যারা পরিচালনা করেন তারা সেই ব্যবস’া রাখেননি। যৌতুকের কুফল সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান নিতে হলে কুরআন ও হাদিস অধ্যয়ন করতে হবে। কিন’ প্রচলিত শিক্ষাব্যবস’ায় কুরআন হাদিসকে দূরে রাখা হয়েছে। কুরআন হাদিসেই নারীর মর্যাদা সম্পর্কে পূর্ণ শিক্ষার ব্যবস’া আছে। রাসূল সা: আইয়ামে জাহেলিয়াতের সময় নারীকে গর্ত থেকে তুলে রানীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।

ইসলামী বিধানে পুরুষ নারীকে বিয়ে করলে তাকে (পুরুষকে) মোহরানা আদায় করতে হয়। সেখানে যৌতুক নামের কোনো বিষয়ের স’ান নেই। লাখ লাখ মাদরাসা শিক্ষার্থী উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বড় বড় আলেম হচ্ছেন। তারা কি যৌতুকের কুফল সম্পর্কে সমাজের (কুরআন-হাদিসের শিক্ষা পায়নি) এমন লোকদের সচেতন করতে সক্ষম হয়েছেন? তারাও সক্ষম হননি এ ব্যাধি সম্পর্কে সাধারণকে সচেতন করতে। পরকালে মহান আল্লাহ এসব আলেমকে ছাড়বেন না। তবে অনেক বিচক্ষণ আলেম সমাজের কিছু লোককে সচেতন করতে সক্ষম হচ্ছেন। তাদের মতো অন্য আলেমদেরও এ ব্যাপারে কাজ করা দরকার।

কিছু প্রগতিবাদী নারী নেত্রী নারীদের সমান অধিকারের নামে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপ দিয়ে নারীদের প্রভাবিত করছেন। যার ফলে নারীরা আরো বেশি অধিকারহীন হচ্ছেন। আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহই নারীদের উপযুক্ত অধিকার দান করেছেন। এর চেয়ে বেশি অধিকার কেউ দিতে পারে না। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন- ‘আর স্ত্রীদের তাদের মোহর সন’ষ্ট চিত্তে দাও।’ (নিসা-৪)। মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘আর তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) কষ্ট দেয়ার জন্য আটকিয়ে রেখো না, এতে তোমাদের বাড়াবাড়ি করা হবে।

যে এরূপ করবে সে নিজের ওপরই জুলুম করবে’। (বাকারা-২৩১) আমাদের দেশে তিন লাখেরও অধিক মসজিদ আছে। এই মসজিদের সম্মানিত ইমামরা যদি নিয়মিত যৌতুকের কুফল সম্পর্কে কুরআন-হাদিসের বাণী থেকে মুসল্লিদের প্রশিক্ষণ দেন, তাহলে দেশ থেকে যৌতুক নামের ব্যাধি পালিয়ে যাবে। ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম, সেখানে নারীর কাছ থেকে যৌতুক আদায় করার প্রশ্নই আসে না।

লেখক : সাইফুল ইসলাম তানভীর