ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলামে সন্তান লালনপালন বিধি

মানবকাননের সবচেয়ে কাক্সিত ও সুরভিত পুষ্প হচ্ছে শিশু। সংসারজীবনের আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ সব কিছু আবর্তিত হয় শিশুকে কেন্দ্র করে। শিশুর হাসি যেমন মায়ের যাবতীয় দুঃখ দূর করে দেয়, তেমনি অনুপ্রাণিত করে বাবাকে সংসারযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেও। বস্তুত সংসার একটি যুদ্ধত্রে। এতে জয়ী হওয়ার প্রধান প্রেরণা হচ্ছে মানবশিশু। তবে এ কথা স্মরণ রাখা চাই, সংসারের পূর্ণতা যেমন শিশুর আগমনে, তেমনি সংসারের সার্থকতা হচ্ছে শিশুর যথাযথ পরিচর্যা ও দেখভাল করার মধ্যে।

কারণ শিশু শুধু পিতামাতার আত্মিক প্রশান্তিরই কারণ নয়; বরং ইহ ও পরকালীন সুখশান্তির বড় এবং কার্যকর মাধ্যমও। তাই শিশুকে সযতেœ ও সুষ্ঠু পরিচর্যায় বিকশিত করে তুলতে হয়। শিশুর ভবিষ্যৎ সফলতা-ব্যর্থতার মূল ভিত্তিই কিন্তু অভিভাবকদের যতœ ও পরিচর্যা। কেননা আল্লাহ তায়ালা শিশুকে নিষ্পাপ এবং ভবিষ্যৎ সফলতার যাবতীয় উপকরণ সন্নিহিত করে দুনিয়ায় পাঠান। সৃষ্টিগত কোনো যোগ্যতা ও ঘাটতি শিশু তার মায়ের পেট থেকে নিয়ে আসে না, বরং মায়ের ুদ্র গর্ভ থেকে পৃথিবী নামক এ বিশাল গর্ভে দৃষ্টি মেলার পর তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, মা-বাবা, সমাজ-সংসার ও শিালয় থেকে প্রাপ্ত শিাদীা তার ভবিষ্যৎ জীবনের গতিপথ নির্ণয় করে দেয়।

নিষ্পাপ শিশুকে ইসলাম যেমন স্নেহ-মমতা দিয়ে আগলে রাখার আদেশ করেছে, তদ্রƒপ ভবিষ্যতে সুন্দর নাগরিক ও পরকালীন উপযুক্ত পাথেয় হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তাকে শৃঙ্খলা ও শাসনের মধ্যে আটকে রাখারও আদেশ করেছে। হাদিসে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় শিশুর বিপথগামিতার জন্য পিতামাতার ভূমিকাকে মূল কারণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এক হাদিসে এরশাদ হয়েছে, ‘প্রতিটি সন্তান ইসলামের ওপর জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান কিংবা পৌত্তলিক অর্থাৎ বিপথগামী বানায়।’ (তিরমিজি)।

আরেকটি লণীয় বিষয় হচ্ছে, শুধু পিতামাতাই একটি শিশুর শিাজীবনের অভিভাবক নন, বরং তাদের সাথে সাথে পরিবার ও সমাজের অন্যরাও শিশুজীবনে বিরাট ভূমিকা রাখে। তাই তাদেরও শিশুর ভবিষ্যৎ জীবন ও সুষ্ঠু বিকাশে সচেতন হতে হবে এবং কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সবার যৌথ প্রয়াসেই শুধু একটি শিশু প্রকৃত অর্থে সুন্দর নাগরিক ও পরকালীন মুক্তির যোগ্য ব্যক্তি হয়ে গড়ে ওঠে।

তবে অভিভাবকত্বের ভূমিকা যেই পালন করুক না কেন, তাদের করণীয় হচ্ছে জাগতিক শিাদীার সাথে সাথে সন্তানকে ইলম শিা দেয়া, আমানতদারি, সততা, পরোপকারের মহত্ত্ব, কল্যাণকামিতা, প্রজ্ঞা-বিচণতা ইত্যাদি গুণ অর্জন ও লোভলালসা, হিংসাবিদ্বেষ প্রভৃতি নিকৃষ্ট স্বভাব থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় দূরে রাখা। শিশুর গালে যেমন স্নেহ-মমতার চুম্বন এঁকে দিতে হয়, তেমনি ভবিষ্যৎ সফলতার জন্যই তাকে কঠোর শৃঙ্খলা, নজরদারি ও শাসনের মধ্যে রাখতে হয়। শাসন ছাড়া একটি সন্তান কতটা দেউলিয়া হতে পারে সম্ভবত তার বড় উদাহরণ ঐশী। তাই শিশুদের এ দেউলিয়াত্ব থেকে বাঁচাতে হলে অবশ্যই ইহকালীন জীবনের ণস্থায়িত্ব ও পরকালীন জীবনের স্থায়িত্বের দীা দেয়া জরুরি। এ গুণাবলিসম্পন্ন শিশু কখনোই বিপথগামী হয় না।

অনেকের ধারণা, আখেরাতের ভাবনায় গড়ে তুললে শিশুরা বৈরাগী কিংবা দুনিয়াবিমুখ হতে পারে। এ কথা নিতান্তই ভুল। কেননা ইসলাম শিশুকে বৈরাগ্য শিা দেয়ার পপাতী নয়। হাদিসে বরং ওই সব লোকের প্রশংসা করা হয়েছে, যারা দুনিয়া ও আখেরাতের জিন্দেগি নিজ স্থানে রেখে জীবন পরিচালনা করে। হাদিসে এরশাদ হয়েছেÑ ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম নয়, যে আখেরাতের জন্য দুনিয়া পরিহার করে এবং সেও উত্তম নয়, যে আখেরাতের জন্য দুনিয়া (একেবারেই) ছেড়ে দেয়। বরং উভয়টা হাসিল করাই বাস্তবতা। কেননা দুনিয়া হচ্ছে আখেরাতের রাস্তা। আর তোমরা অন্যের গলগ্রহ হয়ে থেকো না।’ (জামে সগির)। সুতরাং বৈরাগ্য হওয়ার আশঙ্কায় শিশুকে বিপথগামী করার সুযোগ আছে কি?

নিজ সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গঠন করতে পারাই পিতামাতার জীবনের সার্থকতা। আর প্রতিটি শিশুকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা একটি দেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর সে জন্যই পৃথিবীতে এ যাবৎ স্বারিত সনদগুলোর মধ্যে শিশু অধিকার সনদ অধিক গুরুত্ব পেয়েছে এবং নজিরবিহীন ঐকমত্য লাভ করেছে। পৃথিবীর সব দেশ শিশু অধিকার সনদে স্বার করেছে এবং বাংলাদেশসহ ৭০টিরও বেশি দেশ সনদের ধারাগুলোর ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করেছে।

ইসলাম মানবশিশুর সার্বিক বিকাশের জন্য যে অধিকার প্রদান করেছে, সেগুলো সংরণ করা গেলে এবং যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, সেগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন করা গেলেই শুধু শিশু অধিকার রা করা সম্ভব। ইসলাম শিশুর জন্মের আগে থেকেই তার অধিকার সংরণের তাগিদ দিয়েছে। কারণ মেধাহীন, বিকলাঙ্গ একটি শিশু জন্মের পর যতই তার পরিচর্যা করা হোক না কেন দেশ ও সমাজ তার দ্বারা উপকৃত হওয়ার পরিবর্তে তিগ্রস্ত হবে বেশি। তাই মায়ের গর্ভধারণের দিনণ নির্ধারণ থেকে শুরু করে শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত মায়ের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পরিচর্যাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শিশু অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর পিতার দায়িত্ব হলো গর্ভধারিণীর খোরপোষের উত্তম ব্যবস্থা করা।’ (সূরা বাকারা : ২৩৩)।

শিশুরা আল্লাহর দেয়া শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। তারা শুধু মায়ের কোলকেই আনন্দে ভরিয়ে দেয় না; মানবজীবনের সৌন্দর্য ও সার্থকতায় ছন্দও জোগায়। এ নিয়ামতের সুফল দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই ভোগ করা যায়। তবে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে তারা আবার পরীার বস্তুতেও পরিণত হতে পারে। যেমনÑ আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রাখো, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহর দেয়া এক পরীা।’ (সূরা আনফাল : ২৮)। তাই শিশুসন্তান প্রতিপালনের ব্যাপারে ইসলামের স্বতন্ত্র ও সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘প্রতিটি শিশুই ফিতরাতের (ইসলাম) ওপর জন্মগ্রহণ করে। তারপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়।’ (বুখারি)।

শিশু জন্মের পর উত্তমরূপে গোসল করিয়ে তার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দিতে হয়। ইবনে আব্বাস রা: বলেন, ‘হাসান ইবনে আলী রা:-এর জন্মগ্রহণের দিন রাসূলুল্লাহ সা: তার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দিয়েছিলেন।’ (বায়হাকি)।

নবজাতকের তৃতীয় সুন্নত কাজ হলো ‘তাহনিক’ করা, অর্থাৎ খেজুর চিবিয়ে সে চর্বিত খেজুরের কিছু অংশ নবজাতকের মুখে লাগানো, যাতে এর কিছু রস তার পেটে পৌঁছে যায়। খেজুর না পেলে মিষ্টিদ্রব্য দিয়েও তাহনিক করা যায়। আসমা রা: বলেন, ‘আমার ছেলে জুবাইর ভূমিষ্ঠ হলে আমি তাকে রাসূলুল্লাহ সা:-এর কাছে নিয়ে এসে তাঁর কোলে রাখলাম। রাসূলুল্লাহ সা: খেজুর চিবিয়ে কিছু রস তার মুখে দিলেন।’ (বুখারি)।

অতঃপর শিশুকে মায়ের বুকের শালদুধ পান করাতে হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মুসার মাকে নির্দেশ দিলামÑ তাকে দুধ পান করাও।’ (সূরা আল কাসাস : ৭)। ইসলাম শিশুকে মায়ের দুধ পান করানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মায়েরা তাদের শিশুকে পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে।’ (সূরা আলে ইমরান : ২৩৩)। মাতৃদুগ্ধ দানের প্রতি উৎসাহিত করে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘আল্লাহ স্তন্যদানকারী ও গর্ভবতী মহিলাদের থেকে রমজানের রোজা রাখার বাধ্যবাধকতাও উঠিয়ে দিয়েছেন।’ (আবু দাউদ)।

নবজাতকের জন্য পিতামাতার আরো একটি বিশেষ কর্তব্য হলো অন্তত জন্মের সপ্তম দিবসে তার জন্য একটি শ্রুতিমধুর ও অর্থবোধক নাম রাখা। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সা:-এর বাণীÑ ‘পিতার ওপর নবজাতকের হক হলো তার জন্য সুন্দর নাম রাখা।’ (কানজুল উম্মাল)। এরপর এ দিনেই তার মাথা মুণ্ডন করে চুলের সমপরিমাণ ওজনে রৌপ্য বা স্বর্ণ সদকা করবে এবং আকিকার পশু জবাই করবে। এ সম্পর্কে হজরত আলী রা: বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা: হাসানের প থেকে একটি ছাগল দ্বারা আকিকা করেছেন, আর বলেছেনÑ হে ফাতেমা! হাসানের মাথা মুড়িয়ে দাও এবং তার চুলের সমপরিমাণ রৌপ্য সদকা করে দাও। (আলী বলেন) তারপর আমি হাসানের কর্তিত চুল ওজন করে দেখলাম, সেগুলোর ওজন ছিল এক দেরহাম বা অনুরূপ।’ (তিরমিজি)।

পিতামাতার প্রতি শিশুর জন্য আরো একটি সুন্নত কাজ হলো উপযুক্ত বয়সে তার খতনা করা। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘ফিতরাত তথা স্বভাবজাত কাজ পাঁচটি। তন্মধ্যে একটি হলো খতনা করা।’ (বুখারি)।
শিশু যখন কথা বলতে শুরু করে তখন তাকে সর্বপ্রথম ‘আল্লাহ’ ও ‘মুহাম্মদ’; এরপর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ ইত্যাদি শিা দেয়া উচিত। যাতে সে জীবনের ঊষালগ্নেই নিজ সৃষ্টিকর্তা ও ইসলামী সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হয়ে বেড়ে উঠতে পারে। এ েেত্র রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘তোমরা নিজ নিজ শিশুকে সর্বপ্রথম কথা শেখাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। (বায়হাকি)।

অতঃপর ক্রমান্বয়ে তাকে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর একত্ববাদ, তাঁর ওপর ঈমান আনার প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা শিা দিতে হয়। সুন্দর ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিমায় শিশুকে জানাতে হয় এ বিশাল নীল আসমান, বিস্তৃত জমিন, কত সুন্দর চাঁদ, সূর্য কিভাবে সারা পৃথিবীকে আলোকিত করে, অগণিত গ্রহ-নত্র আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে, এসব কিছু কে সৃষ্টি করেছেন? এক আল্লাহ। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদের রাসূল, কিতাব, ফেরেশতা, কবর, হাশর, আখেরাত ইত্যাদি বিষয়ে শিা দিতে হয়। ঈমানের জ্ঞান অর্জিত হলে ঈমানের পূর্ণতার জন্য আমলের তালিম দিতে হয়। এ েেত্র শুধু আদেশ নয়; বরং তাদের সাথে নিয়ে নিজেরা আমল করলে তারা দেখে দেখে আমলে অভ্যস্ত হতে পারে। এ েেত্র হজরত লোকমান তার ছেলেকে যে পদ্ধতিতে দ্বীন শিা দিয়েছেন তা উল্লেখযোগ্য।

লোকমান তার ছেলেকে বলেন, ‘হে প্রিয় পুত্র! আল্লাহর সাথে শিরক কোরো না। নিশ্চয়ই শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় জুলুম।’ (সূরা লোকমান : ১৩)। ‘হে প্রিয় পুত্র! সালাত কয়েম করো।’ (সূরা লোকমান : ১৭)। সব আমলের মূল হলো সালাত। তাই শিশুকাল থেকে নামাজ কায়েমে অভ্যস্ত হওয়ার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তান-সন্ততিকে নামাজ আদায় করতে আদেশ করো, যখন তারা সাত বছরে পদার্পণ করে। আর নামাজের জন্য তাদের শাসন করো, যখন তারা দশ বছর বয়সে উপনীত হয়।’ (আবু দাউদ)। ‘(হে ছেলে) সৎ কাজের আদেশ দেবে, অসৎ কাজে বাধা দেবে এবং বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করবে। এটাই দৃঢ় সঙ্কল্পের কাজ।’ (সূরা লোকমান : ১৭)।

‘অহঙ্কারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করবে না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করবে না। কারণ আল্লাহ কোনো উদ্ধত, অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা লোকমান : ১৮)। ‘তুমি পদপে করবে সংযতভাবে। এবং তুমি তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করবে, স্বরের মধ্যে গাধার স্বরই সর্বাপো অপ্রীতিকর।’ (সূরা লোকমান : ১৯)।

সন্তানদের শৈশব থেকেই সামাজিক রীতিনীতি শিাদানের েেত্র হজরত লোকমানের এ ৯টি নসিহতের গুরুত্ব অপরিসীম। পারিবারিকভাবে যদি আমরা এগুলোর ভিত্তিতে তাদের শিতি করে গড়ে তুলতে পারি, তাহলে তারা একদিন পিতামাতার চোখ জুড়াবে, নেতৃত্ব-কর্তৃত্বে, জ্ঞানে-গুণে ও নীতি-আদর্শে বিশ্বের গৌরবময় আসন লাভ করতে সম হবে।