ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

কবরে সওয়াব পাওয়ার আমল

মানবজীবনে দু’টি অধ্যায় রয়েছে। একটি দুনিয়া ও অপরটি আখেরাত। আমরা এ জগতে যেসব আমল করব পরকালে বা আখেরাতে তার ফলাফল লাভ করব। দুনিয়াতে মন্দ কাজ করলে পরকালে তারও প্রতিদান পাবো। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আমল করব কোন পর্যন্ত? আমরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমল করার ক্ষমতা রাখি। তার পরে আর রাখি না। কাজেই মালাকুল মউত আসার সাথে সাথে আমাদের সব ইবাদতের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এমন কিছু আমল আমাদের করা প্রয়োজন, যা মৃত্যুর পরেও আমাদের সওয়াব পেতে সাহায্য করে।

আমরা যে মরব এবং পরে জীবিত হবো তাতে তো কোনো সন্দেহ নেই। পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ হয়েছে, ‘আমিই তো মৃতকে জীবিত করি আর লিখে রাখি যা তারা অগ্রে প্রেরণ করে এবং যা পেছনে রেখে যায়। আর প্রতিটি বস্তুকেই আমি সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করে রেখেছি’ (সূরা ইয়াসিন : ১২)।

১. জ্ঞান শিক্ষা দেয়া : এমন ইলম (জ্ঞান) শিক্ষা দেয়া যা মানুষের জন্য কল্যাণকর। যে ইলম মানবজাতিকে হেদায়েতের পথে নিয়ে যায় ও মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়। কুরআন, হাদিস, মাসয়ালা শিক্ষার পাশাপাশি দুনিয়ার কল্যাণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞান শিক্ষা দেয়াও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

২. সুসন্তান রেখে যাওয়া : সুসন্তান বলতে লেখাপড়ায় শুধু ভালো তা নয়, যার ঈমান আমল ঠিক আছে, যে শরিয়তের বিধান বর্তমান ফেতনার যুগেও সাধ্যমতো মেনে চলার চেষ্টা করে, তাকে বোঝায়। যারা পিতা-মাতা বেঁচে থাকতেও অনুগত ছিল, তাদের মৃত্যুর পরেও আল্লাহর কাছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে।

৩. মসজিদ নির্মাণ ও কুরআনে কারিম বিতরণ করা : পাক কুরআনে মসজিদকে বলা হয়েছে হেদায়েতের কেন্দ্র। হজরত উসমান রা: থেকে বর্ণিত, হজরত সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য মসজিদ তৈরি করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করবেন’ (মুসলিম : ১২১৮)। আর কোনো ব্যক্তি কোনো মসজিদ বা মাদরাসায় পবিত্র কুরআন বিতরণ করে, ওয়াকফ করে এবং সেগুলো পড়ে তবে, তার সওয়াবের অংশ সে পাবে (মুসনাদুল বাজ্জার : ৭২৮৯)।

৪. বৃক্ষরোপণ : হজরত জাবির রা: থেকে বর্ণিত, হজরত সা: বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি বৃক্ষরোপণ করে আর তা থেকে কোনো ফল ব্যক্তি বা হিংস্র প্রাণী খেলে তার জন্য সদকা, যদি কেউ চুরি করে খায় বা কোনো পাখিও খায় সেটিও তার জন্য সদকা। এমনকি যদি কেউ তা কেটে ফেলে সেটিও তার জন্য সদকা’ (মুসলিম : ৪০৫০)।

৫. আল্লাহর দিকে হেদায়েত করা : হাদিসে এরশাদ হয়েছে, ‘যে মানুষকে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সওয়াব তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অথচ তাদের সওয়াব থেকে কোনো কমতি হবে না’ (মুসলিম : ৬৯৮০)।

উপরে বর্ণিত আমলগুলো ছাড়া মৃত্যুপরবর্তী জীবনে সওয়াব পাওয়ার মতো আরো কিছু আমল রয়েছে, যা আমরা মেনে চলতে পারি।

আবু উমামাতা রা: থেকে বর্ণিত, মহানবী সা: বলেন, ‘মৃত্যুর পরও অনেক আমলের সওয়াব অব্যাহত থাকে। যেমন- ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেয়া, যা প্রবহমান থাকে যথা পানির কূপ খনন করা’ (মুসনাদ আহমাদ : ২২৪৭)।

আমরা বর্তমানে নিজেদের ঈমান আমল কতটুকু ঠিক রাখতে পারছি মহান রাব্বুল আলামিনই ভালো জানেন। তার পরও যদি কবরে শুয়ে সওয়াব লাভের মতো আমলগুলো করতে পারি সেটা আমাদের সৌভাগ্য।