ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

কল্যাণ কামনা মুমিনের অধিকার

মুমিন যে কালেমার মাধ্যমে ঈমান নামক মহাকল্যাণের সুবিস-ৃত সবুজ অরণ্যে প্রবেশ করে এবং মুমিন নামক সম্মানিত গুণে ভূষিত হয়, সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম কালেমার অনিবার্য দাবি হলো- তারা পারস্পরিক কল্যাণ কামনা করবে। উপরন’ এটি মুমিনের অধিকারও বটে। তাওহিদ তথা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস থেকে ভ্রার্তৃত্বের মূল্যবোধ উদ্ভূত।

প্রত্যেকেই এক আল্লাহ ও রাসূল সা:-এ বিশ্বাসী এবং প্রত্যেকেই এক আদমের আ: বংশোদ্ভূত। কাজেই ভ্রার্তৃত্ব, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা, সৌহার্দ্য পারস্পরিক কল্যাণ কামনা ঈমানেরই অঙ্গ। ঈমানের এই ঐক্য মানুষের পার্থিব সব কার্যকলাপকে সুসংহত করে। যেহেতু আমরা একই মনিবের গোলাম, তাই আমাদের একে অপর থেকে বিশেষ মর্যাদা পেতে পারে না। তবে হ্যাঁ, যারা সেই মনিবকে অধিক বেশি ভয় করে চলে, সে অবশ্যই বেশি মর্যাদা পাওয়ার অধিকারী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদাশীল, যে তোমাদের মধ্যে বেশি ভয় করে।’ (সূরা হুজরাত : ১৩)।

কল্যাণ কামনা গুণীদের ভাষায় মানুষের মৌলিক চরিত্রের অন-র্ভুক্ত। কল্যাণ কামনা মুমিনের এমন এক মহৎ ও দুর্লভ গুণ, এটি যার চরিত্রে বিরাজ করে তার চারিত্রিক সৌন্দর্য ফুলে-ফলে সুশোভিতাকারে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তার মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। যিনি অন্যের কল্যাণ কামনা করেন তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে কতগুলো অসৎ গুণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন। যেমন- যিনি অন্যের কল্যাণ কামনা করেন তিনি সাধারণত নির্লোভী, নিরহঙ্কারী ও নিঃস্বার্থবাদী স্বভাবের হন। কারণ লোভী, অহঙ্কারী ও স্বার্থবাদী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কখনো অন্যের কল্যাণ কামনা করতে পারে না।

অন্য ভাইয়ের কল্যাণ কামনা মানে অন্যকে ভালোবাসা। অন্যকে ভালোবাসা কোনো ছেলেখেলা নয়, অবশ্যই এটি একটি কঠিন বিষয়। কিন’ কল্যাণকামী মুমিনের জন্য এটি খুবই সহজ একটি বিষয়। কারণ তাদের ওপর আল্লাহর অবারিত রহমত বর্ষিত হতে থাকে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার স্ত্রীলোকেরাই প্রকৃতপক্ষে পরস্পর পরস্পরের দায়িত্বশীল বা সাহায্যকারী বন্ধু। এদের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য এই যে, এরা নেক কাজের আদেশ দেয়, অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে; আল্লাহ ও রাসূলের বিধান মেনে চলে। প্রকৃতপক্ষে এদের প্রতিই আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন।’ (তাওবা-৭১)।

ইসলাম কল্যাণধর্মী জীবনব্যবস’া। ইসলামের অনুসারী হিসেবে মানুষ কল্যাণকামী জীব। এ জীবনব্যবস’া বিশ্বজাহান ও মানব প্রকৃতির সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যশীল বিধায় এর পরতে পরতে মানুষের জন্য কল্যাণ আর কল্যাণ নিহিত রয়েছে, কোথাও অশানি- নেই; নেই অকল্যাণ। কিন’ মানুষ শুধু শুধুই মসি-ষ্কপ্রসূত জীবনব্যবস’ার অন্ধকার গলিতে শানি- ও কল্যাণের খোঁজে সমুদ্রসম পথ পাড়ি দিয়েছে। শান্তির দেখা তো মেলেনি, বরং উল্টো মানবতাকে শুধু যন্ত্রণাই পোহাতে হয়েছে; পৃথিবী বারবার প্রতারিত হয়েছে।

ইসলাম ছাড়া অন্যান্য জীবনব্যবস’া তার অনুসারীদের লোভলালসা, স্বার্থবাদী ও হিংসাবিদ্বেষপূর্ণ জীবনের দীক্ষা দিয়েছে। তারা পুঁজিবাদী মতবাদের সুদ দ্বারা স্বার্থান্ধ, লোভী ও অন্যকে শোষণের মন্ত্র শিখিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদের পাহাড় দাঁড় করিয়েছে। ফলে পারস্পরিক কল্যাণ কামনা তো দূরের কথা, বরং সামাজিক সহমর্মিতা ও সহাবস’ানের কল্যাণকামী প্রতিষ্ঠানটিকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। পুঁজিবাদের বিপরীতধর্মী অন্য এক আজব মতবাদ হলো সমাজতন্ত্র। এ মতবাদ মানুষকে মানুষের শোষণ থেকে উদ্ধারের চটক দেখিয়ে এবং সমাজের উঁচু-নীচু সমান করার ব্যর্থ মানসে স্বাধীন মানুষকে সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় খোঁয়াড়ে আবদ্ধ করল। মানুষের সব মানবীয় যোগ্যতা ও বৃত্তিকে অস্বীকার ও দমন করা হলো।

সবাইকে একই ডাণ্ডাবেড়ি লাগিয়ে গরু খোঁয়াড়ের মতো একই খাদ্য পরিবেশন করা হলো। ফলে ভাঙল পরিবার, ভাঙল সমাজ সভ্যতা ও মানুষের সামাজিক সম্পর্ক। কল্যাণ কামনার গুণটি এখানে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ল। ইসলাম এতদুভয়ের মাঝে এমন এক সুষম জীবনব্যবস’া পেশ করল যেটি পুঁজিবাদ ও সমাজবাদের চরমপন’া ও প্রানি-কতার পথকে এড়িয়ে মধ্যমপন’ার নীতি অনুসরণ করল। এক দিকে ব্যক্তিকে নৈতিকতার অধীনে থেকে ধনদৌলত উপার্জনে অবাধ স্বাধীনতা দান করল, অন্য দিকে ব্যক্তির ধনদৌলতে সমাজের অধিকার কায়েম করল। এ উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘ঈমানদার পুরুষ এবং ঈমানদার স্ত্রীলোকেরাই প্রকৃতপক্ষে পরস্পর পরস্পরের দায়িত্বশীল বা সাহায্যকারী বন্ধু।’ (তাওবা-৭১)।

মুমিনের পরিচয় হলো তারা একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাদের অবস’া এই যে, তারা একে অপরের দুঃখে দুঃখিত হয় এবং একে অপরকে দুঃখে-বিপদে সাহায্য করে। নবী করিম সা: বলেছেন, একজন মুমিন অন্য মুমিনের সাথে সম্পর্ক হচ্ছে- অট্টালিকার একটি ইটের সাথে অন্য ইটের সম্পর্কের মতো। এই বলে তিনি তার এক হাতের অঙ্গুলিগুলো অন্য হাতের অঙ্গুলির ভেতর প্রবিষ্ট করে দেখিয়েছেন। নবী করিম সা: আরো বলেন, মুমিনগণ পারস্পরিক স্নেহ-মমতা ও মায়া-মহব্বতের দিক দিয়ে একটি দেহের সমতুল্য। দেহের কোনো অঙ্গ অসুস’ হলে পুরো শরীর অসুস’ হয়ে পড়ে, রাত্রিতে না ঘুমিয়ে জেগে থাকতে হয়; তদ্রূপ একজন মুমিন বিপদে নিপতিত হলে সব মুমিনই তাতে সাড়া দিয়ে নিজেদের বিপদগ্রস্ত মনে করে এবং তাকে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করে।

কল্যাণ কামনা একটি ব্যাপক বিষয়। একজন মুমিন অন্য মুমিনের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জীবনের জন্য কল্যাণ কামনা করবে। মুমিনদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্যই প্রেরণ করা হয়েছে। মানুষের প্রথম ও প্রধান কল্যাণ হলো তাকে অকল্যাণের পথ থেকে ফিরিয়ে কল্যাণের পথ প্রদর্শন করা। যেসব কাজ মানবসমাজে দুর্ভোগ সৃষ্টি করে, জলে-স’লে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে সেসব কাজ বন্ধ করা কল্যাণ কামনার অন-র্ভুক্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবতার কল্যাণের জন্য তোমাদেরকে প্রেরণ করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের তথা কল্যাণের পথ অবলম্বনের জন্য আদেশ করবে এবং অসৎ, অকল্যাণ, পরিণামে যাতে দুঃখ থাকে তা থেকে বিরত রাখবে। (ইমরান : ১০৩)।

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই যারা মানুষদের কল্যাণের দিকে ডাকবে, তারা সৎ কাজ, কল্যাণের পথ অবলম্বনের জন্য আদেশ করবে এবং অসৎ, অকল্যাণ, পরিণামে যাতে দুঃখ থাকে তা থেকে বিরত রাখবে।’ (ইমরান : ১০৪)। সার্বিক কল্যাণ কামনা মানে মুমিন এমন এক জীবনব্যবস’া গড়ে তুলবে, যাতে সার্বিকভাবে সব মানুষ সুখে-শানি-তে বসবাস করতে পারে এবং যার মাধ্যমেই আখেরাতে মুক্তি সুনিশ্চিত হয়।

আল্লাহর পথের যাত্রী তথা ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যেক কর্মীর জন্য এটি একটি অপরিহার্য চারিত্রিক উপাদান। এ ধরনের মৌলিক গুণ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের কোনো কর্মী নৈতিক মানে উন্নীত হতে পারে না এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত ইসলামী আন্দোলন কোনো দিনই তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। কারণ ইসলামী আন্দোলনের সফল বাস-বায়নের জন্য প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো, কর্মীবাহিনীর মধ্যে সিসাঢালা প্রাচীরের মতো পারস্পরিক ঐক্য। এ ধরনের ঐক্য সৃষ্টি হয় পরস্পরের মধ্যে অকৃত্রিম ভালোবাসা বা ভ্রাতৃত্ববোধ থেকে এবং ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় পারস্পরিক কল্যাণ কামনার মাধ্যমে। নোমান বিন বশির থেকে বর্ণিত।

রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘বন্ধুত্ব, দয়া ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে মুমিনের উদাহরণ হলো একটি শরীরের মতো। যখন এর একটি অঙ্গ অসুস” হয় তখন অন্য সব অঙ্গ অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান- হয়।’ (বুখারি-মুসলিম)। বুখারি-মুসলিমের আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘এক মুমিন আরেক মুমিনের জন্য ইমারতস্বরূপ, যার একাংশ অপরাংশকে শক্তিশালী করে। তা ছাড়া সাধারণ যুক্তিতে যেকোনো সফল অভিযান পরিচালনার জন্য অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের বিশ্বাসের ঐক্য একান- জরুরি। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীবাহিনী এক আল্লাহর বান্দা, তাদের নবী এক, কেবলা এক এবং জীবনপদ্ধতিও এক। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য যেসব মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তার মধ্যে পারস্পরিক কল্যাণ কামনা অন্যতম।

আমরা রাসূলের সা: নেতৃত্বে পরিচালিত ইসলামী আন্দোলনের ইতিহাস থেকে জানতে পারি, তিনি এমন একদল কর্মীবাহিনী গড়ে তুলেছেন যারা ছিলেন পারস্পরিক কল্যাণকামী। অন্যের কল্যাণ কামনায় ও ত্যাগের মহিমায় তারা ছিলেন পৃথিবীর এক অনন্য ইতিহাস। আমরা রাসূলের সা: যুগের একটি যুদ্ধ থেকে কল্যাণ কামনার এক অনন্য নজির দেখতে পাই। কোনো এক যুদ্ধে মারাত্মক আহত ও প্রাণ ওষ্ঠাগত তিন সৈনিক ‘পানি পানি’ বলে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। কেউ একজন পাত্রভর্তি পানি নিয়ে তাদের মধ্যে এক সৈনিককে এগিয়ে দিলেন, আহত সৈনিক বললেন- ওই দিকে একজন আমার চেয়ে বেশি আহত ও ভীষণভাবে কষ্ট পাচ্ছেন; পানিটুকু তাড়াতাড়ি তার কাছে নিয়ে যান।

দ্বিতীয় আহত যোদ্ধার কাছে গেলে তিনিও প্রথমজনের মতোই তৃতীয় আহত যোদ্ধার দিকে ইশারা করলেন এবং পানিটুকু দ্রুত তার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। এভাবে তৃতীয়জনও সেই প্রথমজনের কাছে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। কিন’ সাকি প্রথম যোদ্ধার কাছে গিয়ে দেখেন তিনি প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গেছেন। এভাবে দ্বিতীয়জন, তারপর তৃতীয়জনের কাছে গিয়ে একই দৃশ্য দেখেন। অর্থাৎ তাদের প্রত্যেকেই পানি পান না করে তাদের প্রিয় প্রভুর সান্নিধ্যে চলে গেছেন। পারস্পরিক কল্যাণ কামনা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দতার জন্য কেউ পানি পান করতে পারলেন না। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে কল্যাণ কামনার এই নজির পৃথিবী কি আর কোথাও প্রত্যক্ষ করেছে?

কিন’ অতীব দুঃখের সাথে উল্লেখ করতে হয়, মুসলমানদের মাঝে আজ কল্যাণ কামনা বহুলাংশে কমে গেছে। বস’বাদী চিন-াচেতনা আমাদের দূর দিগনে-র অজানা ঠিকানায় নিয়ে গেছে। আজ এ ধরনের মানুষ পাওয়া খুব সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, যখনই একটু প্রতিপত্তি, যশ, ধনসম্পদ ও বড় কোনো পদমর্যাদায় অভিসিক্ত হন তখন তিনি তার আশপাশের ভাই বা সহকর্মীদের কল্যাণ কামনা তো দূরের কথা, তাদের আর মানুষ বলে গণ্য করেন না।

ক্ষমতার আতিশয্যে নিজেকে অনেক কিছু মনে করেন। একটি আদর্শবাদী দলের জন্য এটি যেমন আত্মঘাতী আচরণ, তদ্রূপ একটি জাতির জন্য এটি দুর্ভাগ্য বয়ে আনে। কোনো মুমিন এ ধরনের আচরণ করার অর্থ হলো নিজ বিশ্বাসের মধ্যে গোলমাল সৃষ্টি করা। কারণ রাসূল সা: বলেন, ‘আমার প্রাণ যার হাতে, সেই সত্তার শপথ করে বলছি, কোনো মুমিন সে পর্যন- ঈমানদার হতে পারবে না যে পর্যন- সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে তা তার ভাইয়ের জন্য পছন্দ করবে।’ (বুখারি-মুসলিম)। হাদিসের অর্থ দাঁড়ায় ব্যক্তির ঈমান সে পর্যন- পরিপূর্ণ হবে না যে পর্যন- না সে অন্য ভাইয়ের জন্য নিজের অনুরূপ কল্যাণ ও মঙ্গলের চিন-া করে। অন্য একজন মুমিনের কল্যাণ চিন-া করা অতি উঁচু মর্যাদা এবং আল্লাহর কাছে সম্মানের বিষয়। আল্লাহ আমাদের সে ধরনের মহাসম্মানিত বিষয়ে সম্মানিত করুন। আমিন।

লেখক : মাওলানা জাফর আহমাদ,  ব্যাংকার, প্রবন্ধকার