ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

কুরআন বুঝার প্রয়োজনীয়তা

quranপবিত্র গ্রন’ আল কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে বিশ্বের সব মানুষের জন্য। যেহেতু মানুষের জন্য কুরআন নাজিল হয়েছে, সেহেতু পৃথিবীর সব মানুষের কাছে কুরআনের বাণী পৌঁছে দেয়া কুরআন অনুসারীদের প্রধানতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। কুরআনের বাণী পৌঁছে দেয়া মুসলমানদের প্রধান দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত বিধায় তাদেরই উচিত প্রথমে এই গ্রন’টিকে জানা এবং মানা। পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর বক্তব্য সংবলিত একটি গ্রন’। এই গ্রনে’র প্রতিটি বাক্য, শব্দ মহান সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে। যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, সেভাবেই তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এ যাবৎ সংরক্ষিত রয়েছে।

শুধু মূল ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তরিত বা অনুবাদ করে কুরআন জানা বা পাঠ করা হলে একটি সঠিক ও নির্ভুল কুরআন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেত। অতীতে অন্য কেতাবগুলো এ কারণেই অবিকল মূল অবস’ায় পাওয়া যায় না। পবিত্র কুরআন এমন একটি গ্রন’, যা আজও অবিকৃত অবস’ায় মানুষের কাছে মজুদ রয়েছে। প্রাথমিক অবস’ায় যেমনটি এটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল আজো তা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে কুরআন জানতে হলে অবশ্যই তা মূল আরবি ভাষায় সঠিক উচ্চারণে অর্থসহ পাঠ করতে হবে।
পবিত্র কুরআনে রয়েছে মানুষের জন্য উপদেশ, আদেশ ও নির্দেশাবলি। অতএব এই মহাগ্রন’ শুধু পড়ার জন্য নয় বরং জানার জন্য এবং নির্দেশাবলি মেনে চলার জন্য পড়তে হয়। এই গ্রন’ মহান আল্লাহর কাছ থেকে সুদীর্ঘ প্রায় তেইশ বছরে মহানবী সা:-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে। তখন থেকেই মহানবী সা: নিজে তা মুখস’ করতেন, অন্যদের মুখস’ করতে বলতেন এবং লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য পারদর্শী সাথীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের আগে কুরআন শরিফ হাতে লেখা হতো। মহান আল্লাহর বাণীগুলো সাধারণত পাথরে, চামড়ায়, গাছের ডালে বা পাতায় লেখা হতো। প্রথম কুরআন শরিফ ছাপানো হয় জার্মানিতে ১১১৩ ঈসায়ি সালে। অমুসলিমদের দ্বারা ছাপানো এই কুরআন শরিফ মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। মুসলমানদের দ্বারা সর্বপ্রথম রাশিয়ায় (সেন্ট পিটার্সবার্গ) এবং ইরানে (তেহরান) ১৭৮৭ সালে মুদ্রণযন্ত্রের সাহায্যে কুরআন শরিফ মুদ্রিত হতে থাকে।
বর্তমানে কম্পিউটারের ডিস্কেও পবিত্র কুরআন সংরক্ষিত হচ্ছে। এ কালের মানুষের জন্য তাই কুরআন পাঠ করা অনেক সহজ হয়েছে। যখন মুদ্রিত কুরআন শরিফ পাওয়া যেত না, তখন মানুষ সব কুরআনের বাণী মুখস’ করে রাখতেন। যুগে যুগে হাজার হাজার, লাখ লাখ কুরআনে হাফেজের মাধ্যমে এই গ্রন’ অবিকল একই অবস’ায় পুরো দুনিয়ার মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার এক অভিনব ব্যবস’া মহান আল্লাহ চালু রেখেছেন। আজকের যান্ত্রিক যুগে পবিত্র কুরআন শরিফের শুদ্ধ পাঠ, উচ্চারণ ও অর্থ জানা কঠিন কোনো কাজ নয়।

পৃথিবীর প্রায় সব ভাষায় পবিত্র কুরআন অনুবাদ হয়েছে। শুধু তাই নয়, পবিত্র কুরআন অর্থসহ, ব্যাখ্যাসহ পড়ার ও জানার সুযোগ করে দিয়েছেন মহান আল্লাহ। রেডিও, টেলিভিশন ও কম্পিউটার প্রযুক্তির আবিষ্কারের ফলে মানুষের পক্ষে আজ কুরআনকে জানা যত সহজ হয়েছে, অতীতে তা কখনো ছিল না। শুধু তাই নয়, যুগে যুগে কুরআন গবেষকরা এই মহাগ্রনে’র তাফসির বা ব্যাখ্যা মানুষের কাছে পেশ করেছেন। এসব ব্যাখ্যায় মানুষের জন্য রয়েছে অনেক তথ্য, অনেক উপমা। মহান আল্লাহ তার বাণীগুলো উপলব্ধি করানোর জন্য যেসব জ্ঞানতাপসের যোগ্যতা দিয়েছেন, তাদের ব্যাখ্যাগুলো পড়ে কিংবা শুনে বা দেখে আমরা আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে পারি।

জ্ঞান হচ্ছে মানুষের চালিকাশক্তি। জ্ঞানের জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, অনুশীলন ও গবেষণা। জীবনের চলার পথে তাই প্রত্যেক মানুষের উচিত মহাগ্রন’ কুরআন পাঠ করা, এর অর্থ জেনে নেয়া এবং নিজেদের জীবনে তা প্রয়োগ করা। পবিত্র কুরআনকে জানতে হলে তাই প্রয়োজন শুদ্ধভাবে পাঠ করার অভ্যাস করা, অর্থসহ পাঠ করা ও বুঝতে পারা। শুধু পাঠ করলেই কুরআন জানা হয় না। প্রকৃত অর্থে কুরআন অধ্যয়ন প্রয়োজন, যাতে আমরা তা উপলব্ধি করি। কারণ এই গ্রন’টি পড়তে হবে শিক্ষা লাভের জন্য। অধ্যয়ন ও উপলব্ধি ব্যতিরেকে কুরআনের শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। পবিত্র কুরআনকে জানতে হবে কুরআনের শিক্ষা অনুসরণের জন্য যাতে করে আমরা আমাদের চারিত্রিক গুণাবলির উন্নতি সাধন করতে পারি।

আমাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট যে, পবিত্র গ্রন’ জানা প্রয়োজন নিজেদের উন্নয়নের জন্য। আমরা যদি মানুষ হিসেবে সার্থক হতে চাই, সফল হতে চাই, তবে অবশ্যই আমাদের কুরআনকে বুঝতে হবে। যেহেতু মানুষের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা এই গ্রন’ প্রেরণ করেছেন সেহেতু এই গ্রন’ পাঠ করা ও উপলব্ধি করা ছাড়া মানব কল্যাণ বা মানব মুক্তি নিশ্চিত হতে পারে না।

কুরআনের শিক্ষার আলোয় যদি আমরা নিজেদের জীবন গড়তে না পারি, তবে মুসলমানদের পরিবারে জন্মসূত্রে মুসলমান হয়ে জন্মানোর মাধ্যমে আমাদের জীবনের কোনো সাথর্কতা নেই। জন্মসূত্রে আমরা যারা নিজেদের মুসলিমরূপে পরিচয় দিয়ে থাকি, তাদের উচিত কুরআন নির্দেশিত পথে জীবন অতিবাহিত করা, কুরআনপ্রদত্ত জীবন পদ্ধতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করা এবং কুরআনের আলোয় নিজেদের উদ্ভাসিত করা। কুরআনের প্রতিটি আদেশ নিষেধ মেনে চলার জন্যই আমাদের কুরআন জানা প্রয়োজন।

মানুষের কাছে পবিত্র কুরআনের গুরুত্ব নানা কারণে প্রতিভাত হতে পারে। যেমন- পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- ‘এই কুরআন বিশ্ব চরাচরের পালনকর্তার কাছ থেকে অবতীর্ণ। একজন বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে। যেন তুমি সেই লোকদের মধ্যে শামিল হতে পারো, যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সব মানুষের জন্য সাবধানকারী। এটি অবতীর্ণ হয়েছে স্পষ্ট ও পরিষ্কার আরবি ভাষায়। নিশ্চয়ই এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কেতাবগুলোতে (সূরা শুয়ারা : ১৯২-১৯৬)।
কুরআন অন্য আর দশটি গ্রনে’র মতো নয়। আমাদের কুরআন জানা প্রয়োজন, কারণ এটি অবতীর্ণ হয়েছে বিশ্বজগতের মালিক মহান আল্লাহর কাছ থেকে। কুরআনের বাণী যেহেতু মহান আল্লাহর বাণী, সেহেতু কুরআন অধ্যয়ন জরুরি। এ গ্রনে’র বক্তব্যগুলো পূর্ববর্তী আল্লাহর কেতাবগুলোয় উল্লেখ থাকায় এ গ্রনে’র গুরুত্ব অপরিসীম। মহাগ্রন’ আল কুরআন পূর্ববর্তী কেতাবগুলোর ধারাবাহিকতায় মহান আল্লাহর কাছ থেকে অবতীর্ণ সর্বশেষ গ্রন’। যেহেতু এই কেতাবের পর আর কোনো কেতাব আসবে না এবং যেহেতু মহাগ্রন’ আল কুরআন অবিকৃত অবস’ায় মানুষের কাছে পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান, সেহেতু ঐশী গ্রন’রূপে পবিত্র কুরআনকে গ্রহণ করা জরুরি।

পূর্ববর্তী কেতাবগুলোতে অনেক মনগড়া কথা মানুষ পরবর্তীতে সংযোজন করেছিল। পবিত্র কুরআন এ ধরনের সব দূষণমুক্ত। অতএব মানবতার মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর নাজিলকৃত এই গ্রন’ অবশ্যই মানুষের হেদায়েতের জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। পবিত্র কুরআনে মহাগ্রন’ কুরআন সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘এটি মানব জাতির জন্য একটি সুস্পষ্ট সতর্কবাণী এবং যারা আল্লাহকে ভয় করে তাদের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশ’ (সূরা আল ইমরান : ১৩৮)।

মানুষ যেন বিপথগামী না হয়, মানুষ যেন মানুষের মতো আচরণ করে, মানুষ যেন মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করে এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ মানুষকে বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কোন কাজ করলে মানুষ বিপথগামী হবে, কোন ধরনের আচরণ করলে মানুষ বিপথগামী হতে পারে, মানুষের কল্যাণে কী কী কাজ তার করা উচিত এবং কোন কোন কাজ থেকে তাকে বিরত থাকতে হবে, সে সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। বস’ত কুরআনকে বলা হয়েছে, এটি হচ্ছে মানব জাতির জন্য একটি দলিল। মানুষের জন্য এই গ্রনে’ রয়েছে পথনির্দেশিকা। ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ করার জন্য পবিত্র কুরআনে তাগিদ দেয়া হয়েছে।

পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর কাছ থেকে মানুষের জন্য উপদেশ বাণী সংবলিত একটি মহাগ্রন’। অতএব মানুষের উচিত এই মহাগ্রনে’র সব উপদেশ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন এবং সেসব উপদেশ অনুযায়ী নিজের জীবন গঠন। মানব জাতির জন্য মহাগ্রন’ কুরআন অমিয় উপদেশস্বরূপ। যারা মহাগ্রন’ কুরআনের সত্যতায় এবং নির্ভুলতায় বিশ্বাস করেন, তাদের প্রধানতম গুণ হলো তারা তাদের সন্তানসন্ততি, আত্মীয়স্বজন এবং সর্বোপরি মানুষের কল্যাণে তারা সৎ উপদেশ দান করে থাকেন। মহানবী সা:কে লক্ষ করে তাই মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘অতএব (হে নবী!) আপনি উপদেশ দান করবেন, আপনার পালন কর্তার অনুগ্রহে আপনি জ্যোতিষ নন বা উন্মাদ নন’ (সূরা তূর : ২৯)।

মানুষের হৃদয়ে যে কালিমা বা মরিচা পড়ে থাকে তা নিরাময়ের জন্য মানুষ যেন কুরআন শরিফের উপদেশগুলো নিজেরা গ্রহণ করে।মানুষের মঙ্গলের জন্য মহাগ্রন’ কুরআনে মহান আল্লাহ অনেক দৃষ্টান্ত ও উদাহরণ পেশ করেছেন। যেন মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারে। মহান আল্লাহ তাই বলেছেন, ‘আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি, যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা যুমার : ২৭)।

যেহেতু পবিত্র কুরআনে রয়েছে মানুষের জন্য পথনির্দেশনা, আদেশ, উপদেশ এবং নানা দৃষ্টান্ত, সেহেতু মানুষের উচিত কুরআনের বাণীগুলো অনুধাবন করা ও অনুসরণ করা।
মানুষের প্রতি মহান আল্লাহ জানিয়েছেন কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহণের জন্য। ‘উপদেশ গ্রহণের জন্য আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, কে প্রস’ত আছো উপদেশ গ্রহণের জন্য?’ (সূরা ক্বামার : ১৭)

মহান আল্লাহ মানুষের জন্য কুরআন সহজ করে দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের জানার জন্য বোঝার জন্য পবিত্র কুরআনে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ, নানা উদাহরণ। যেকোনো সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষে এই গ্রনে’র নির্দেশাবলি বোঝা অতি সহজ। আবার এই গ্রন’টি মানুষের জন্য মনে রাখাও অত্যন্ত সহজ।

পৃথিবীতে অন্য কোনো ধর্মগ্রন’ নেই যা সাধারণ মানুষ অতি সহজে সম্পূর্ণ মুখস’ করতে পারে। এটি অবশ্যই মহান আল্লাহর একটি অনুপম অনুগ্রহ। পবিত্র কুরআন এক দিকে যেমন সহজ সরল অন্য দিকে চিন্তাশীলদের ও গবেষকদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের নিদর্শন ও বক্তব্য। যেসব অগাধ জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তি কুরআন নিয়ে চিন্তা গবেষণা করেন তাদের পক্ষেই শুধু কুরআনে ব্যুৎপত্তি অর্জন সম্ভব। তবে জ্ঞানী ও পণ্ডিত থেকে শুরু করে, প্রতিটি সাধারণ মানুষের জন্য কুরআন থেকে হেদায়েত অর্জন করা সম্ভব। অতএব প্রত্যেক মানুষের উচিত এই গ্রনে’র আদেশ, নির্দেশ, উপদেশ গ্রহণ করা এবং সেই সাথে কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করাও মানুষের কর্তব্য।

যুগে যুগে সব মানুষের সব ধরনের জিজ্ঞাসার জবাব পবিত্র কুরআনে রয়েছে। অতএব যুগজিজ্ঞাসার জবাব পাওয়ার জন্য পণ্ডিত ব্যক্তিদের যেমন কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা প্রয়োজন, তেমনি সাধারণ মানুষের উচিত তাদের জীবন পরিচালনার জন্য কুরআনের নির্দেশাবলি পণ্ডিতদের কাছ থেকে জেনে নেয়া।

মহাগ্রন’ আল কুরআন মানুষের জানা উচিত এ জন্য যে, এই গ্রন’টি ভালো ও মন্দ, সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন- ‘অতি বরকতপূর্ণ তিনি যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফয়সালার গ্রন’ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে করে তা বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে’ (সূরা ফোরকান-১)

পবিত্র কুরআনে সত্য-মিথ্যা বা হক ও বাতিলের বর্ণনা রয়েছে। যা কিছু ন্যায় তা সত্য এবং যা কিছু অন্যায় তা মিথ্যা। সমগ্র মানবজাতি ন্যায়-অন্যায়ের দ্বন্দ্বে জর্জরিত। মহান আল্লাহ চান, প্রতিটি পরিবারে, প্রতিটি জনপদে, প্রতিটি সমাজে, প্রতিটি রাষ্ট্রে সত্যের জয় হোক এবং মিথ্যা পরাজিত হোক। যারা সত্যের পূজারি হবেন, তাদের উচিত কুরআন থেকে সে শিক্ষা গ্রহণ করা।

কোন কাজ মন্দ, কোন কাজ মহান আল্লাহর অপছন্দনীয় তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে পবিত্র কুরআনে এবং মহানবীর জীবনে ঘটেছে এর প্রতিফলন। মানুষের জন্য তাই কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান অপরিহার্য। মানুষের কল্যাণের জন্য মহাগ্রন’ আল কুরআন হচ্ছে সত্যের পথনির্দেশিকা। এ কারণেই মিথ্যা বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সৎ মানুষকে অনুপ্রাণিত এবং উৎসাহিত করে আল কুরআন।

কাজী মো: মোরতুজা আলী