ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

কোমল ভাষায় কথা বলি

ঈমান আনার পর ইসলাম যেসব বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে এবং মানুষের সাফল্য ও সৌভাগ্যকে যেগুলোর ওপর নির্ভরশীল করেছে তার মধ্যে একটি বিষয় হচ্ছে উন্নত চরিত্র অবলম্বন করা। তাই ইসলামের চারিত্রিক শিক্ষাগুলোর মাঝে একটা বিশেষ শিক্ষা এই যে, ব্যক্তি যখন আলাপ-আলোচনা করবে তখন তার ভঙ্গি হবে আকর্ষণীয় এবং ভাষা হবে সুমিষ্ট। যার কথাবার্তা নম্র ও মিষ্ট হয় তাকে সবাই পছন্দ করে। পক্ষান্তরে যার কথাবার্তা রূঢ় ও অশালীন হবে তাকে সবাই অপছন্দ করবে। বলা হয়ে থাকে, ব্যবহারে বংশের পরিচয়।

ব্যক্তির কথাবার্তা যত ভালো হবে তার জীবন প্রশান্তি ও আনন্দের সঙ্গে কাটবে এবং অন্যদের জন্য তার জীবন রহমত ও স্বস্তির কারণ হবে। পক্ষান্তরে যার কথাবার্তা খারাপ হবে সে নিজের জীবনের স্বাদ ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে এবং অন্যদের জীবনও তাতে বিস্বাদ ও তিক্ত হবে। এই কারণে কোরআন ও হাদিসে অশ্লীল ও রূঢ় কথা পরিহারের কথা বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করে বলেন—‘তোমরা মানুষের সঙ্গে সদালাপ করবে’। (সূরা বাকারা, আয়াত : ৮৪)

বিভিন্ন হাদিসে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমল ভাষায় কথাবার্তা বলতে উত্সাহিত করেছেন। এখানে কিছু হাদিস উল্লেখ করা হলো—
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়লা কোমল আচরণকারী এবং সব বিষয়ে কোমল আচরণকে ভালোবাসেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০২৪)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন , উত্তম ও মিষ্টি কথা সদকা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৯৮৯)

হজরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, আপন ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলাও একটি সদকা। (জামে তিরমিযি, হাদিস : ১১৫৬)

হজরত আবি ইবনে হাতেম (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা জাহান্নামকে ভয় কর যদিও তা একটি খেজুরের অংশ পরিমাণ হয়। যদি কোনো কিছু না পাওয়া যায় তাহলে উত্তম কথা বল। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৫৬৩)

এই জাতীয় আরও অনেক হাদিসে নম্র আচারণ ও কোমল ভাষা ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের কথাবার্তায় কোমল ভাষা ব্যবহার করার তৌফিক দান করুন। আমিন।