ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

খাদ্য গ্রহণে ইসলামের নীতি

পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। রুচিসম্মত খাদ্য গ্রহণের বিষয়টি ইসলামে মোটেই অবহেলিত নয়। বরং প্রত্যেকে নিজ নিজ রুচিমাফিক খাদ্য গ্রহণ করবে— এটাই ইসলামের শিক্ষা।

তবে এ খাবার গ্রহণ করার ব্যাপারে ইসলামের কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একজন মুসলমান মন চাইলেই যে কোনো খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন না। এক্ষেত্রেও তাকে কিছু বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হয়। খাদ্য হালাল হওয়া ও হালাল পন্থায় উপার্জিত হওয়া তার মধ্যে অন্যতম। ইসলাম হালাল খাদ্য গ্রহণ করার প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে এবং হারাম খাদ্য গ্রহণ করতে বারণ করেছে। ইসলাম হালাল খাদ্যের প্রতি এতোটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে, হালাল খাদ্য গ্রহণ না করলে ইবাদতই কবুল হবে না।

মহান আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেন :
‘যদি তোমরা একমাত্র আল্লাহতায়ালারই ইবাদত কর তবে তোমাদের যেসব হালাল ও পবিত্র বস্তু দিয়েছেন তা থেকেই তোমরা আহার কর এবং আল্লাহর নেয়ামতের শোকর আদায় কর।’
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! আমি তোমাদের যে হালাল রিজিক দান করেছি তা থেকে আহার কর’ (সূরা : বাকারা-১৭২)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানব সম্প্রদায়, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর’ (সূরা : বাকারা-১৬৮)।

ইসলাম যেভাবে হালাল খাদ্য গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে, তেমনি হারাম খাদ্য গ্রহণ করতে বারণ করেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, এক ব্যক্তি দীর্ঘ পথ সফর করে উষ্কখুষ্ক অবস্থায় উভয় হাত আসমানের দিকে উঠিয়ে মোনাজাত করে বলল, হে আমার রব! হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রভু! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার লেবাস পোশাক হারাম, এবং হারাম মালের দ্বারাই তার জীবন লালিত-পালিত। এ অবস্থায় ওই ব্যক্তির দোয়া কেমন করে কবুল হবে? আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে হালাল খাদ্য গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন।