ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

চোগলখোরি আল্লাহর অপছন্দ

আমাদের সমাজে যত ধরনের পাপ রয়েছে, তার মধ্যে চোগলখুরি অন্যতম। অন্যান্য গুনাহ থেকে মানুষ বিবেকের তাড়নায় অনেক সময় বেঁচে থাকার চেষ্টা করে, কিন্তু চোগলখুরি থেকে মানুষ মোটেও সতর্কতা অবলম্বন করে না। অথচ চোগলখুরি মানুষের ঘৃণিত স্বভাব ও জঘন্য পাপ।

দ্বিমুখী কথাবার্তাকে চোগলখুরি বলে। যারা এজাতীয় কথা বলে বেড়ায়, তাদের চোগলখোর বলে। অর্থাৎ দ্বিমুখী স্বভাব যাদের ভেতরে বিদ্যমান, তাদেরই চোগলখোর বলে। এখন সবখানেই চোগলখোর ব্যক্তির উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে। দ্বিমুখীর কারণে তাদেরকে সহজে চেনা যায় না; কিন্তু ব্যক্তির অজান্তে তারা মানুষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিসাধন করছে, যা ব্যক্তি টেরও পায় না। সাময়িক স্বার্থ উদ্ধার করতে চোগলখোররা চোগলখুরি করে থাকে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়; আলেম-গাইরে আলেম বেশির ভাগ মানুষ এই নিন্দনীয় কাজের সাথে সম্পৃক্ত। চোগলখোর ব্যক্তিরা সমাজে সবচেয়ে বেশি ফেতনা, বিশৃঙ্খলা ও অনৈক্য সৃষ্টি করে।

একবার হজরত রাসূলে করিম সা: সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞেস করলেন- ‘বলো তো সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক কে? সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূল বললেন, সবচেয়ে মন্দ ও নিকৃষ্ট ব্যক্তি হলো চোগলখোর। কারণ, সে সবার সামনে তার পক্ষে কথা বলে, আবার পেছনে গিয়ে তার বদনাম করে’। তিরমিজি।

চোগলখোর জাদুকর ও শয়তানের চেয়েও অধিক ভয়ঙ্কর। জাদুকর এক সপ্তাহে যা করতে পারে, চোগলখোর এক মিনিটে তা করতে পারে। শয়তান তার প্রতিটি কাজ ধোঁকা ও প্রবঞ্চনার মাধ্যমে করে। আর চোগলখোর এ ঘৃণিত কাজটি সামনাসামনি করে।

হজরত হাসান বসরি রহ: বলেন, ‘যে ব্যক্তি তোমার কাছে অন্যের মন্দ নিয়ে আলোচনা করবে, সে অন্যের কাছে গিয়ে অবশ্যই তোমার বদনাম করবে। তাই যারা বদনাম করে বেড়ায় তাদের কথা কখনো বিশ্বাস করবে না।’ – হাসান বসরি।

হজরত কাব ইবনে আহবার রা: বলেন, হজরত মুসা আ:-এর যুগে একবার প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ দেখা দিলো। হজরত মুসা আ: তিনবার জাতিকে নিয়ে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন, কিন্তু দোয়া কবুল হলো না। তখন তিনি আরজ করলেন, হে আল্লাহ! আমি আমার দলের সবাইকে নিয়ে আপনার দরবারে তিনবার দোয়া করলাম, কিন্তু আপনি তা কবুল করলেন না কেন?

তখন মুসা আ:-এর প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি অবতীর্ণ হলো, হে মুসা! তোমার দলের মধ্যে একজন চোগলখোর আছে, যার কারণে তোমাদের কারো দোয়াই কবুল হলো না। হজরত মুসা আ: আরজ করলেন, হে আল্লাহ! কে সে ব্যক্তি? আমাকে তার সম্পর্কে বলুন, যাতে করে আমি তাকে শনাক্ত করে এ নিন্দনীয় কাজ থেকে ফেরাতে পারি। আর যদি সে এ কাজটি ত্যাগ না করে তাহলে আমার দল থেকে বের করে দিতে পারি।
ইরশাদ হলো, হে মুসা, আমি চোগলখোরিকে নিষেধ করেছি আবার আমিই চোগলখুরি করব? এ কেমন কথা! এ জন্য তোমরা সবাই একত্র হয়ে তাওবা করো। তখন মুসা আ: দলের সবাইকে নিয়ে তাওবা করে আবারো আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন। এবার আল্লাহ তায়ালা মুসা নবীর দোয়া কবুল করলেন। এরপরই দুর্ভিক্ষ বিদূরিত হলো।

চোগলখোর সম্পর্কে রাসূল সা: ইরশাদ করেন, চোগলখোর কোনো দিন বেহেশতে যেতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তাওবা করে।’ তিরমিজি।

রাসূল সা: ইরশাদ করেন, সেই ব্যক্তি অভিশপ্ত, যার কাছে দ্বিমুখী অভ্যাস রয়েছে এবং যেকোনো মুসলমানকে কষ্ট দেয় বা কোনো মুসলমানের সাথে প্রতারণা করে। অর্থাৎ প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে তার ক্ষতি করে। ইবনে মাজাহ।

রাসূল বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেবে, কারো সামনে প্রশংসা এবং তার অগোচরে নিন্দা করে বেড়াবে আল্লাহ তাকেও কষ্ট দেবেন এবং লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দেবেন। তিরমিজি।
মানবস্বভাবের অত্যন্ত জঘন্যতম একটি অপরাধ হচ্ছে চোগলখুরি। এই ঘৃণিত পাপের জন্য ইহকালে হতে হয় অপমানিত-লাঞ্ছিত এবং পরকালেও ভোগ করতে হবে লাঞ্ছনাদায়ক কঠিন শাস্তি। তাই এ জঘন্য পাপ পরিহার করা জরুরি।