ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

জ্ঞানীরাই জান্নাতে যাবে

মহানবী সা: সরাসরি আল্লাহর কাছ থেকে জিবরাইল আ:-এর মাধ্যমে স্রষ্টাপ্রদত্ত জ্ঞান আহরণ করেছেন। হেরা গুহায় ধ্যান করেছেন মানবজাতির সঙ্কট থেকে মুক্তির পথ ও পদ্ধতি নিয়ে। জ্ঞানকে সংরণের জন্য মুখস্থকরণ, অন্যকে অবহিতকরণ তথা জ্ঞানবিতরণ ও লিপিবদ্ধকরণের কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি জ্ঞান অর্জনকে উৎসাহিত করতে বলেছেন : জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর ও নারীর জন্য ফরজ। যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়, সে আল্লাহর পথে রয়েছে যে পর্যন্ত না সে প্রত্যাবর্তন করে। (তিরমিজি ও দারেম, মেশকাত শরীয়া)

জ্ঞানের ব্যবহারগত দিককে গুরুত্ব প্রদান : মহানবী সা: জ্ঞানের ব্যবহারগত দিকটাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে আবুযার! ওই ব্যক্তি কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যে নিজের জ্ঞান  থেকে উপকৃত হয়ো না।’

জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিতকরণ : একদিন হজরত রাসূল সা: দেখলেন মসজিদে দু’টি দল বসে আছে; একটি দল ইসলামি জ্ঞানচর্চায় ব্যস্ত এবং অপরটি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও মুনাজাতে ব্যস্ত। আল্লাহর নবী সা: বললেন : উভয় দলই আমার পছন্দের, কিন্তু জ্ঞানচর্চাকারী দলটি প্রার্থনায়রত দলটি অপো শ্রেষ্ঠ। আর আমি মহান আল্লাহর প থেকে মানুষকে শিাদানের ল্েয প্রেরিত হয়েছি। অতঃপর মহানবী সা: জ্ঞানচর্চাকারী দলটিতে গিয়ে বসলেন।

জ্ঞানীকে সম্মানজনকভাবে উপস্থাপন : মহানবী সা: বলেন, ‘লজ্জা দুই প্রকারের, বুদ্ধিবৃত্তিভিত্তিক লজ্জা এবং বোকামিপূর্ণ লজ্জা। বুদ্ধিবৃত্তিভিত্তিক লজ্জা জ্ঞান থেকে উৎসারিত এবং বোকামিপূর্ণ লজ্জা অজ্ঞতা, মূর্খতা থেকে উৎসারিত হয়।’

জ্ঞানের উত্তম প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ : হজরত মুস্তাফা সা: বলেছেন : ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের ল্েয ণিকের জন্য হেয় ও প্রতিপন্ন হতে প্রস্তুত হয় না, সে সারা জীবন অজ্ঞতার কারণে হেয় ও প্রতিপন্ন হয়।’  জ্ঞান অর্জন গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্ব না থাকলেও প্রশ্ন উঠতে পারে উপায় ও পদ্ধতি নিয়ে।

উপায় চারটি : ১. নিজে জানা ২. অপরকে জানানো ৩. যারা চিন্তা-গবেষণায় অগ্রসর; কিন্তু কর্মে পিছিয়ে অথবা যারা চিন্তা গবেষণা ও কর্মে অগ্রসর তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে। যারা চিন্তা গবেষণায় পশ্চাৎপদ কিন্তু কর্মে অগ্রসর অথবা চিন্তা গবেষণা ও কর্মে পশ্চাৎপদ তাদের অবস্থার পরির্বতনে বা উন্নয়নের চেষ্টায়। নবী করিম সা: বলেছেন : ‘জ্ঞানী ব্যক্তিরা দুই প্রকারের : যে আলেম নিজের জ্ঞানের ওপর আমল করে তার জ্ঞান তার জন্য পরিত্রাণদাতা হয়। আর যে আলেম নিজের জ্ঞানকে ত্যাগ করে সে ধ্বংস হয়ে যায়।’

জ্ঞানী ও অজ্ঞকে পৃথকীকরণ : জ্ঞানই মানুষকে ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা, সুন্দর-অসুন্দর, কল্যাণ-অকল্যাণ প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে; অশান্তির পথ পরিহার করে শান্তির পথে অগ্রসর হতে অনুপ্রাণিত করে। চিন্তাশীল নয় এমন শিতি ব্যক্তি কিংবা অশিতি চিন্তাশীল ব্যক্তি কেউই আসলে খুব সুবিধাজনক নয়। দীর্ঘস্থায়ী সত্যিকার কল্যাণ লাভ কখনোই বক্র ও আবেগনির্ভর পথে হতে পারে না। বিদ্যমান সমস্যার সমাধানেই দৃষ্টিসীমার চূড়ান্ত আবদ্ধতা নয়; বরং গবেষণার মাধ্যমে নব পথ-পদ্ধতি ও কৌশল বের করতে সম হতেই হবে।

আল্লাহ বলেছেন, হে রাসূল আপনি বলুন যারা জ্ঞানী ও যারা অজ্ঞ, তারা কি সমান হতে পারে? সে লোকেরাই অসিয়ত গ্রহণ করে যারা বুদ্ধিমান।’ মনে রাখতে হবে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সূচনা মুসলমানদের হাতেই হয়েছিল। আল্লাহর বাণী ‘পাঠ করো তোমার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাটবদ্ধ রক্ত থেকে। পাঠ করো তোমার পালনকর্তা মহাদয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিা দিয়েছেন। শিা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।’

জ্ঞান বিতরণ সম্মানযোগ্য ও শ্রদ্ধেয় : মহানবী সা: বলেন, ‘বিজ্ঞান শিা দাও, এটি মানুষকে আল্লাহ-ভীতি শিা দেয়, যে জ্ঞানার্জন করে, সে আল্লাহকে সম্মান করে, যে তা দান করে সে যেন শিা দেয়, এ জ্ঞান যে ধারণ করে সে সম্মানযোগ্য ও শ্রদ্ধেয়। কারণ বিজ্ঞান মানুষকে ভুল ও পাপ থেকে রা করে এবং বেহেশতের পথ আলোকিত করে।’

জ্ঞানার্জনকে উত্তম ইবাদত ঘোষণা : হজরত আয়েশা রা: বলেন, আমি রাসূল সা:-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা আমার কাছে অহি পাঠিয়েছেন, যে ব্যক্তি ইলম তলবের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করবে, তার জন্য আমি জান্নাতের পথ সহজ করে দেব এবং যে ব্যক্তির দুই চু আমি নিয়েছি তাকে তার পরিবর্তে আমি জান্নাত দান করব। ইবাদত অধিক হওয়া অপো ইলম অধিক হওয়া উত্তম। দীনের তথা ইলম ও আমলের আসল হচ্ছে শোবা-সন্দেহের জিনিস  থেকে বেঁচে থাকা ।’

জ্ঞানেই পরকালীন জীবনের মুক্তি : হজরত আবু হুরাইরা রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘মুমিনের মৃত্যুর পরও তার আমল ও নেক কাজগুলোর মধ্যে যার সওয়াব তার কাছে পৌঁছতে থাকবে তা হচ্ছে ইলম, নেক সন্তান এবং সদকায়ে জারিয়াহ।’ জ্ঞান ছাড়া দুনিয়া কিংবা পরকাল কোনো জীবনেই মুক্তি মিলবে না। যে জ্ঞানটা বিবৃতিমূলক জ্ঞান বা প্রকাশিত তা জানার জন্য যেভাবে জ্ঞান সাধককে চেষ্টা করতে হয় সেভাবেই বুদ্ধিবৃত্তিক গুণকে সাধারণ স্তরের ঊর্ধ্বে ওঠানো সম্ভব নয়।

মনে রাখা জরুরি যে, তাত্ত্বিক জ্ঞান বস্তু সমন্বয়ের সমতা দেয়; কিন্তু ব্যবহারিক জ্ঞান কিভাবে চলতে হবে, বলতে হবে তার মতা দেয়। বিচারিক মতাকে প্রবল করতে হলে অভিজ্ঞতানির্ভর বোধকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি সচেতনতার মাত্রাকে সূক্ষ্ম বিবেচনার উপযোগী পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এটা নিঃসন্দেহে সত্য যে, অভিজ্ঞতার মাধ্যমেও লাভ হয় জ্ঞান। কিন্তু অভিজ্ঞতাটা কি প্রত্য নাকি পরোÑ সেটি বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ।

জ্ঞানীরাই জান্নাতে যাবে : সহিহ-আল বুখারি শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান আহরণ করে সে প্রচুর লাভ করে, আর যে ব্যক্তি কোনো পথচলাকালে জ্ঞান লাভ করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।’
জ্ঞানচর্চার প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি : শিা সম্প্রসারণে মহানবী সা: প্রাতিষ্ঠানিক পদপে নিয়েছিলেন। শিা প্রদানের জন্য সাফা পাহাড়ের পাদদেশে বিশিষ্ট সাহাবি আরকাম বিন আবুল আরকামের বাড়িকে শিাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করেন। সে হিসেবে দারুল আরকামই ইসলামের প্রথম আনুষ্ঠানিক শিাপ্রতিষ্ঠান। এখানে ধর্মশিা দেয়া হতো।

প্রশিক প্রেরণ ও প্রশিণ প্রদান : মদিনায় হিজরতের আগে আকাবার শপথের মাধ্যমে যারা ইসলামে দীতি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তাদের প্রশিতি করতে তিনি হজরত মুসআব ইবনে উমাইরকে মদিনায় প্রেরণ করেছিলেন। মহানবী সা:-এর হিজরতের সময় দারুল আরকামে শিাদানের জন্য হজরত ইবনে উম্মে মাকতুম ও মাসআব বিন উমাইরের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

জ্ঞান সংরণে সময়োপযুগী উদ্যোগ : হিজরতের পর মক্কায় অবশিষ্ট মুসলমানদের মধ্যে দারুল আরকামের মাধ্যমেই দাওয়াতে ইসলামের কর্মকাণ্ড জারি রাখা হয়। কিছুসংখ্যক সাহাবিকে তিনি পবিত্র কুরআনের লিপিকার হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার জন্য তাদেরকে হস্তলিপিবিশারদ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। হজরত উমর রা: ইসলাম গ্রহণকালে তার বোন ফাতিমার কাছে সূরা ত্বহার লিখিত হস্তলিপি পাওয়া গিয়েছিল। তাদের চিন্তা-চেতনা, আচার-ব্যবহার ঐশী জ্ঞানের প্রভাবে বদলে গিয়েছিল।

জ্ঞানভিত্তিক সংগঠন প্রতিষ্ঠাকরণ : হিজরত-উত্তরকালে মহানবী সা: মসজিদে নববীতে সাহাবিদের শিা দান করতেন; যা ইতিহাসে ‘মাদরাসাতুস সুফফা’ নামে অভিহিত ছিল। এটা ছিল জ্ঞানভিত্তিক সংগঠন। জ্ঞানভিত্তিক সংগঠন মানেই হচ্ছে এমন একটি সংগঠন যেখানে বুদ্ধিমত্তা ও সফলতার সাথে সাংগঠনিক পরিসরে শিা আদান-প্রদান এবং জ্ঞান সৃষ্টি-সংগ্রহ-বিতরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। সংগঠনের স্বকীয়তা বা স্বতন্ত্রতা অুণœ রাখার স্বার্থে সংগঠনের নিজস্ব জ্ঞানকে ব্যবহার করে।

উপ-আনুষ্ঠানিক শিাকে গুরুত্ব প্রদান : মসজিদে নববী ছাড়াও সেই সময় মদিনায় কয়েকটি স্থানে মসজিদভিত্তিক শিাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ইসলামের উপ-আনুষ্ঠানিক শিাদানের ইতিহাস পাওয়া যায়। শিার জন্য নিয়মতান্ত্রিক পাঠ্যসূচির প্রয়োজন। মহানবী সা: একটি সমন্বিত সিলেবাস নির্ধারণ করেন। তিনি ইসলামি শিার জন্য মহাগ্রন্থ আল কুরআন শিার সাথে সাথে আকাইদ ও ইবাদতের নিয়ম-কানুন, স্বাস্থ্যশিা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক শিা, রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মনীতি, জীববিদ্যা, প্রকৃতিবিদ্যা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-নত্র আকাশ-বাতাস প্রভৃতির সমন্বয়ে বিজ্ঞান শিা এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্কবিষয়ক নানা ধরনের শিা প্রদান করতেন।

সাহাবিরা অল্প সময়ের মধ্যে পবিত্র কুরআন শিার পাশাপাশি সাহিত্য, উত্তরাধিকারী আইন, চিকিৎসাবিদ্যা, ফিকহ, তাজবিদ, দর্শনসহ সময়োপযোগী পণ্য বিপণন প্রক্রিয়াও রপ্ত করতে পারতেন। যুদ্ধবিদ্যা ও সমরাস্ত্র তৈরিতেও তারা পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। সাহাবিদের মধ্যে কয়েকজন সাহাবি বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাপক পাণ্ডিত্য লাভ করেন। বিশেষ করে হজরত জায়িদ বিন সাবিত রা: ফারায়িজ শাস্ত্র বা উত্তরাধিকারী আইন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: তাফসির শাস্ত্র, হজরত হাসসান বিন সাবিত রা: সাহিত্য েেত্র ব্যাপক ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। গ্রিক, কিবতি, ফারসি, হিব্রু, ইথিওপীয় প্রভৃতি বিদেশী ভাষা শিার েেত্রও মহানবী সা: ব্যাপক গুরুত্ব প্রদান করতেন।

নারী শিাকে গুরুত্ব প্রদান : নারী শিাকে মহানবী সা: সমভাবে গুরুত্ব প্রদান করতেন। পুরুষদের মতো নারীদেরও জ্ঞানার্জনকে ফরজ করেছেন। হিজরতের পরে তিনি সপ্তাহে এক দিন শুধু নারীদের শিা-দীার জন্য সময় দিতেন। নারীদের পুঁথিগত শিার পাশাপাশি নানা প্রশ্নের জবাবও দিতেন তিনি। উম্মুল মুমিনীন আয়শা রা:, হাফসা রা:, উম্মে সালমা রা:সহ অনেক নারী সাহাবিকে তিনি উঁচুমানের শিতি করে গড়ে তুলেছিলেন। তারা পবিত্র কুরআন হিফজসহ মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সব বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। মহানবী সা: বলেছেন : জ্ঞান হলো মুমিনের অন্তরঙ্গ সঙ্গী, অধ্যবসায় হলো তার সহযোগী, বুদ্ধিমত্তা হলো তার পথনির্দেশক আর ধৈর্য হলো তার সৈন্য দলের সেনাপতি এবং মমতা তার পিতা ও পুণ্যকর্ম তার ভাইয়ের  মতো।

উপসংহার : এক স্ফুলিঙ্গের মতোই অন্ধকার থেকে আলোর দিশারী রাসূলুল্লাহর সা: আবির্ভাব ঘটেছিল। মরুভূমির প্রতিটি বালুকণা স্ফুলিঙ্গে বিস্ফোরিত হয়েছিল। বিস্ফোরণের অগ্নিকণা ছড়িয়ে পড়েছিল মক্কা থেকে গ্রানাডা পর্যন্ত। যিনি স্বর্গীয় জ্যোতি নিয়েই আবির্ভূত হয়েছিলেন। আর গোটা মানবজাতি তাঁর পরশে আলোকিত হয়ে উঠেছিল। তিনি ছিলেন বেহেশত ও সীমাহীন মরুভূমির নেতা, আলোর পথের যাত্রী, আলোর পর্বতের নিত্যসঙ্গী। ১৭ রমজানের প্রাক্কালে চাঁদের আভা কোমল দীপ্তিময় হীরাকে আবেষ্টন করেছিল। আরবের মানুষ পুরনো ও নতুন জগতের মাঝে অবস্থিত একটি সঙ্কীর্ণ পথ অতিক্রম করে পদার্পণ করল প্রথমে এক ব্যক্তিত্বের এবং পরে লাখ লাখ মানুষের এক মহাজাতির মধ্যে।

মহানবী সা:-এর প্রদর্শিত পন্থায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে আলোকিত মানুষ তৈরি দেশ-জাতি-মানবতার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার স্বার্থে অপরিহার্য। জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হবে সমাজ, তৈরি হবে আলোকিত মানুষ। এ জন্য চাই জ্ঞানভিত্তিক আন্দোলন, জ্ঞানভিত্তিক সংগঠন, জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এ েেত্র সম্মিলিত প্রয়াসের কোনো বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার েেত্র রাসূলুল্লাহ সা:-এর আদর্শই অনেক বেশি কার্যকর।