ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

তওবা – ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব

আল্লাহর ওপর ঈমান আনার অর্থ হলো তাঁর ওপর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস স্থাপন করা। ঈমান আনলে তাঁর সাথে কারও শরিক করার সামান্যতম অধিকার থাকে না। বিশ্বাসে, আমলে, কথা-বার্তায় ও চিন্তায় কোনভাবে শিরক করার কোন সুযোগ থাকে না। শিরক করলে মানুষের সকল আমল বিনষ্ট হয়ে যায়, সে আর ঈমানদার থাকতে পারে না।

আল্লাহর একত্ববাদে দৃঢ় আস্থা স্থাপনের মাধ্যমে ঈমান মজবুত করতে হয়। আল্লাহপাক তাঁর প্রভুত্বে, তাঁর সুন্দর নামে, তাঁর গুণাবলীতে ও ইবাদতে একক, তাঁর কোন শরিক নেই এই বিশ্বাস না থাকলে ঈমান থাকে না। এমন কিছু আমল রয়েছে যার একটিও করা হলে শিরক করা হয়ে যাবে এবং পূর্বেকৃত ভালো আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। তখন তার স্থান হবে জাহান্নামে। আল্লাহ শিরক এর গুনাহ কখনো ক্ষমা করেন না। আর এসব পাপ থেকে মুক্তির একটি মাত্র উপায় তা হলো আল্লাহর কাছে তওবা করা এবং অপরাধ থেকে আল্লাহর পথে পুরোপুরিভাবে ফিরে আসা।

আল্লাহ রাব্বুল  আলামীন তওবা কবুল করলেই কেবল মুক্তি আসবে। শিরক ব্যতীত অন্যান্য পাপ ও অপরাধ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে থাকেন। এজন্য শিরক থেকে সর্বাবস্থায় মুক্ত থাকা প্রয়োজন। তওবা আরবী শব্দ অর্থ প্রত্যাবর্তন করা, ফিরে আসা। ধর্মের পরিপন্থী কোন কাজ হতে বিরত হওয়া বা ফিরে আসার নাম তওবা। তওবা ইসলামের বিধানভুক্ত এবং আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের মাধ্যম।

পবিত্র কুরআনে আছে, “মু’মিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও” (সুরা নূর-৩১)। অন্যত্র আছে, “মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে” (সূরা তাহরীম-৮)।  মানুষ জীবন পথে চলতে গিয়ে নানান প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে থাকে। শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে অনেক সময় নেক আমল থেকে বিচ্যুত্ হয়ে যায়।

বিশ্ব চরাচরে ভালো ও মন্দ দু’প্রকারের মানুষের বসবাস। মন্দ মানুষেরা তাদের কর্মকাণ্ডকে সবসময় অসত্ চিন্তার বশবর্তী হয়ে করে থাকে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে মাঝে-মধ্যে তারা ভালো কাজ করলেও তাদের উদ্দেশ্য থাকে অসত্ স্বার্থ বা ব্যক্তি স্বার্থ হাছিলের। তাদের সংস্পর্শে গেলে খারাপ কর্মে অনুপ্রাণিত হতে হয়। ধর্মজ্ঞান যেমন তাদের থাকে না, তেমনি আল্লাহর ওপর ভয় ও ভক্তিও তাদের থাকে না। তাদের মজলিসে একটা ভালো কথা বলা হলে অনেকগুলো মন্দ কথা বা কাজ করা হয়ে থাকে। ধর্মীয় আচার-আচরণ সেখান থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এজন্য তাদের সংশ্রব ত্যাগ করা উচিত। কারণ আল্লাহর ওপর ভয় ও ভক্তি না থাকলে, তাঁর ওপর বিশ্বাস রেখে আমল না করতে পারলে আমাদের অবস্থান হবে জাহান্নামে। সর্বাবস্থায় ও সর্বক্ষেত্রে আমাদেরকে আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে, আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “আর তাঁকে ছেড়ে এমন কাউকে ডেকো না, যে না তোমার উপকার করতে পারে, আর না কোনো ক্ষতি করতে পারে। আর যদি তা করো, তবে অবশ্যই তুমি জালেমদের (মুশরিকদের) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে” (সূরা ইউনুস-১০৬)।

রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাঁর কোন সমকক্ষকে ডাকা অবস্থায় মারা যায়  তাহলে সে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে” (বুখারী)। আমাদের সকল কর্ম হতে হবে আল্লাহর বিধানমতে। আল্লাহর ওপর ঈমান রেখে ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে চলাতেই রয়েছে আমাদের মুক্তি।

পৃথিবীতে মানুষের জন্য সত্ পথের ওপর অটুট থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রতি পদে পদে রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। চলার পথে আমরা নানাভাবে অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হতে পারি, হতে পারি ত্রুটি-বিচ্যুতির শিকার। এজন্য আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ ও দয়া পরবশ হয়ে তওবার ব্যবস্থা করেছেন। ভুল করার সাথে সাথে আল্লাহর  কাছে আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

আমাদের সর্বোত্তম চাওয়া ও পাওয়ার স্থল আল্লাহ। আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা করাসহ ইবাদত তামিলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।  আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভুলবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, বিজ্ঞানময় (সূরা নিসা-১৭)।

অন্যত্র বলা হয়েছে, “যে গুনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়” (সূরা নিসা-১১০)।

লেখক: জি এম মুজিবুর রহমান