ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

দাওয়াতের মেহনতে খোলে রহমতের দুয়ার

আল্লাহর কোনো বান্দা যখন রাসুলের (সা.) প্রতি দরুদ পাঠ করেন তখন আল্লাহর নির্ধারিত ফেরেশতারা তা রাসুলের (সা.) কাছে পৌঁছে দেন। এজন্য আল্লাহর নির্ধারিত ফেরেশতা রয়েছে। রাসুল (সা.) অনেক খুশি হন। তার জন্য রহমতের দোয়া করেন। রাসুলের (সা.) ওপর আল্লাহ তায়ালা দরুদ পাঠ করেন।

ফেরেশতারা দরুদ পাঠ করেন। আমরা যদি দরুদ পাঠ করতাম তবে আমাদের সঙ্গে রাসুলের (সা.) একটি সম্পর্ক তৈরি হয়ে যেত। তিনি আমাদের জন্য দোয়া করতেন। কিন্তু আমরা কত উদাসীন। আল্লাহর রাসুল আমাদের জন্য দোয়া করতে প্রস্তুত, কিন্তু আমরা তা গ্রহণ করছি না। অথচ রাসুলের দোয়া উম্মতের জন্য কত বেশি প্রয়োজন। কতটা আবশ্যক। আর আমাদের নবী তো শ্রেষ্ঠ নবী। আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নবী। আল্লাহর নবীর উসিলায় আল্লাহ তায়ালা আমাদেরও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের যেসব শক্তি দান করেছেন তার অন্যতম নিয়ত করার ক্ষমতা। আমরা যে কোনো সময় যে কোনো স্থান থেকে নিয়ত করতে পারি। আমরা ইচ্ছে করলে এখানে বসেও নিয়ত করতে পারি। আমরা নিয়ত করতে পারি সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে যাব। তাদের ঈমানের দাওয়াত দেব। তাদের বলব, আল্লাহ তায়ালা সবকিছু করার ক্ষমতা রাখেন। তিনি চাইলে সবকিছু হয়। তিনি না চাইলে কিছু হয় না। আর আমরা যদি আল্লাহর নির্দেশ রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করি, তবে আল্লাহ আমাদের সব চাহিদা পূরণ করে দেবেন। কোনো অভাব অবশিষ্ট থাকবে না। আমরা যদি চাই আমার অভাব ও প্রয়োজনগুলো পূর্ণ হোক, তবে আমাদের আল্লাহর বিধানগুলো রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করতে হবে।

আমার বন্ধুরা! এটা খুব সহজ আমরা নিয়ত করে নেব, মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেব। আল্লাহ সবকিছু করেন এ কথাটা সব মানুষকে জানিয়ে দেব। এ নিয়ত আমরা যেমন করতে পারি, তেমনি করতে পারে আমাদের ঘরের মানুষরা। মহল্লার মানুষরা। আমাদের পরিচিতজন। আল্লাহ তায়ালা রাসুলদের যে উদ্দেশে প্রেরণ করেছিলেন, যে লক্ষ্য সামনে নিয়ে আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন যে আল্লাহর বান্দারা আল্লাহর বিধান মেনে নেবে। সারা পৃথিবীতে তার দ্বীন কায়েম হয়ে যাবে। সে কাজকে আমরা নিজেদের কাজ করে নেই। আমাদের সেই কাজ করতে হবে। দাওয়াত নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হবে। আর এতদিন যে এই কাজ করিনি এজন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আমাদের ভুল হয়ে গেছে আমরা দায়িত্ব পালন করিনি। বন্ধুরা! আজই নিয়ত করে নেই।

মুহতারাম! ইসলামের নিয়তের গুরুত্ব ও প্রভাব অনেক। নিয়তের প্রতিদানও অনেক। যদি কোনো শিশু যে কোনো দিন মক্তবে যায়নি—সে যখন নিয়ত করে আমি কোরআন পড়ব এবং কোরআন শেখার জন্য মক্তবে যাব, তখন সব সৃষ্টি জগত্ তার জন্য দোয়া করতে শুরু করে। গর্তের পিঁপিলিকা থেকে সমুদ্রের মাছ তার জন্য দোয়া করতে শুরু করে। ফেরেশতারা তার চলার পথে নূরের পর বিছিয়ে দেন। অথচ সে এখনও পড়া শুরু করেনি। নিয়তের প্রভাব এত। এজন্য আমার বন্ধুরা! নিয়ত থেকে আমরা কেউ পিছিয়ে থাকব না।

সবাই নিয়ত করে নিব, মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যাব। যখন আমরা নিয়ত করে নিব, তখন আল্লাহ নিয়ত বাস্তবায়নের জন্য যত ধরনের সাহায্য দরকার করবেন। পূর্ববর্তী নবীদের যেমন সাহায্য করেছিলেন, আখেরি নবীকে যেমন সাহায্য করেছিলেন আমাদেরও তেমন সাহায্য করবেন। এটা কত বড় কথা নিয়ত করলেই আল্লাহর সাহায্য ও রহমত শুরু হয়ে যায়। তবে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। এ ব্যাপারে যেন কোনো সন্দেহ না থাকে। যদি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকে, তবে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিবেন। যখন কোনো বান্দা আস্থার সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, তখন আল্লাহ খুশি হন। তিনি ফেরেশতাদের ডেকে বলেন, ও ফেরেশতারা তোমরা দেখ আমার বান্দা আমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছে। তোমরা সাক্ষী থেক আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।

মুহতারাম বন্ধুরা! আমরা নিয়ত করব। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিজেদের জন্য এবং পৃথিবীর সব মানুষের জন্য। হে আল্লাহ! সারা দুনিয়ার মানুষ যে পথে আছে তা ভুল পথ। আপনি তাদের ক্ষমা করুন। তাদের সঠিক পথের দিশা দান করুন। যদি আমরা সারা পৃথিবীর মানুষের নিয়ত করি তবে আল্লাহ আমাদের পৃথিবীর সব মানুষের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন। বন্ধুরা! এখনই নিয়ত করে নেই। নিয়ত করলে আল্লাহ দোয়া কবুল করা শুরু করেন।

যখন কোনো বান্দা কাউকে সালাম দেয়, তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে বরকত ও কল্যাণের দ্বারা ভরে দেন। যদি কেউ ঘরে সালামের আমল চালু করেন, তখন আল্লাহ তায়ালা তার ঘরকে বরকত ও কল্যাণে ভরিয়ে দেবেন। সালাম ইসলামের একটি মাত্র আমল; তাতেই আল্লাহ এত বরকত রেখেছেন। যদি কেউ পুরো ইসলামের ওপর আমল করে তাকে আল্লাহ কী পরিমাণ বরকত ও কল্যাণ দান করবেন। আর যদি কেউ সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে নিয়ত করেন, তবে তার প্রতিদান কী হতে পারে?

রাসুল (সা.) এ লক্ষ্যে পৃথিবীতে এসেছিলেন যে সারা পৃথিবীর মানুষ নিকট দ্বীন পৌঁছে যাবে। সারা পৃথিবীর মানুষ দ্বীনের ওপর চলে আসবে—সেটা যদি আমরা নিজের কাজ বানিয়েনি। তবে আমরা রাসুলের (সা.) সত্যিকার উম্মত হতে পারব। কেননা এ উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তায়ালা আমাদের শেষ নবীর উম্মত বানিয়েছেন। প্রত্যেক যুগের প্রত্যেক নবীর মূল দায়িত্ব দাওয়াত ছিল লা ইলাহা ইল্লাহ—আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রভু নেই। তবে যেহেতু নবীর শরিয়ত না মানলে, তার প্রতি ঈমান না রাখলে ঈমান পূর্ণ হয় না। সে হিসেবে আমাদের কালেমা হলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। কেউ যদি এই কালেমা পাঠ করে তবে তার জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। এই কালেমা কেউ পড়লে আল্লাহর কাছে সে অনেক প্রিয় হয়ে যায়। কারণ, সে পৃথিবীর সব প্রভু ও ক্ষমতা অস্বীকার করে এক আল্লাহর ক্ষমতা ও প্রভুত্ব গ্রহণ করে নিয়েছে। কেউ যদি তার জীবন দিয়ে এই কালেমার চাহিদা ও দাবি পূরণ করে, তবে আল্লাহ তায়ালা তার সবকিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাকে নিজ কুদরতে লালন-পালন করবেন।

যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কালেমার দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য বের হয়, তখন তার আমলের মূল্য অনেক অনেক গুণ বেড়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা যত খুশি তত গুণ বাড়িয়ে দেবেন। বন্ধুরা! আমরা যে ভুল করেছি তা স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব। যখন কোনো বান্দা ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাতে খুশি হন। তাকে ক্ষমা করে দেন। আমরা দোয়া করব আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের অন্তরকে তৈরি করে দেন। কাজকে সহজ করে দেন। তিনি সাহায্য করেন।

রাসুল (সা.) জীবন হিসাব করলে দেখা যায়, তিনি বছরের কমপক্ষে চার মাস জিহাদ ও অন্যান্য দ্বীনি কাজের জন্য মদীনার বাইরে থাকতেন। যখনই দ্বীনের কোনো প্রয়োজনে ঘর ছাড়ার প্রয়োজন হতো তিনি ঘর ছাড়তে দেরি করতেন না। আমরাও দ্বীনের প্রয়োজনে ঘর ছাড়তে দেরি করবো না। বন্ধুরা! ঘর ছাড়লে বান্দার মূল্য বাড়ে। তার চিন্তার মূল্য বাড়ে। তার আমলের মূল্য বাড়ে।

আসুন! একবার ইখলাসের সঙ্গে দ্বীনের কালেমা—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ পড়ে নেই। নিয়ত করে নেই নিজের আল্লাহর দ্বীন মানব। রাসুলের পথ অনুসরণ করব এবং অন্যকে এ পথে আসার দাওয়াত দেব। এ কাজ আমরা সর্বপ্রথম আমাদের ঘর থেকে শুরু করব। ঘরের মানুষগুলো ঘরে ঘরে গিয়ে দাওয়াত দেবে। কারণ, তারা দায়িত্বমুক্ত নয়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা এমন অঞ্চল ও দেশ খুঁজে বের করব যেখানে ইসলামের কোনো দাওয়াত পৌঁছায়নি, সেখানে দাওয়াত পৌঁছানোর চেষ্টা করব। আল্লাহ তায়ালা আমাদের কবুল করেন। আমিন।