ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

দান-সদকার ফজিলত

দান-সদকা প্রকাশ্যেও দেয়া যায়, গোপনেও দেয়া যায়। প্রকাশ্যে দিলে অন্য লোকেরাও দানখয়রাত করতে অনুপ্রাণিত হয়, কিন্তু তাতে লোক দেখানোর মনোভাব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গোপনে দিলে এই আশঙ্কা থাকে না। হাদিস শরিফে আছে, প্রকাশ্যে দান-সদকাকারী উচ্চৈঃস্বরে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতকারীর মতো। আর গোপনে সদকা-খয়রাতকারী নিচুস্বরে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতকারীর মতো। এই আয়াতের তাফসিরে আল্লামা ইবনে কাসির র: লিখেন, এই আয়াত দ্বারা গোপনে সদকা-দানকারীর ফজিলত প্রমাণিত হয়। এরপর তিনি বুখারি শরিফ ও মুসলিম শরিফে সঙ্কলিত এবং হজরত আবু হুরায়রা রা: কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

এতে প্রিয় নবী হজরত রাসূলে কারিম সা: ইরশাদ করেছেন, সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিন নিজের ছায়ায় স্থান দেবেন, যে দিন আল্লাহ পাকের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না।

(১) সুবিচারক রাষ্ট্রনায়ক,

(২) যে যুবক তার যৌবনকে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করেছে,

(৩) সেই দুই ব্যক্তি যারা শুধু আল্লাহর ওয়াস্তে একে অন্যকে ভালোবেসেছে,

(৪) সেই ব্যক্তি যার অন্তরে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় থেকে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত মসজিদের চিন্তাই থাকে, (৫) যে ব্যক্তি একাকী আল্লাহকে স্মরণ করে এবং ক্রন্দন করতে থাকে,

(৬) সেই ব্যক্তি যাকে কোনো সুন্দরী পদমর্যাদার অধিকারিণী নারী মন্দকাজের জন্য আহ্বান জানায় তখন সে বলে আমি আল্লাহকে ভয় করি,

(৭) সেই ব্যক্তি যে নিজে দানখয়রাত এমন গোপনভাবে দেয় যে তার বাম হাত ডান হাতের দানের খবর রাখে না। অর্থাৎ দানের কথা সে গোপন রাখে। (তাফসিরে মাজহারি)।

এর দ্বারা এ কথাই প্রমাণিত হয় যে যদি গোপনে সদকা করা হয় তবে তার ফজিলত হয় অধিকতর।

তিরমিজি শরিফ ও মুসনাদে আহমদে সঙ্কলিত একটি হাদিস রয়েছে, আল্লাহ পাক যখন জমিনকে সৃষ্টি করলেন তখন জমিন দুলতে লাগল। কেননা জমিনকে পানির ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে। পানির ওপর ভাসমান নৌকা যেমন দুলতে থাকে ঠিক তেমনি জমিন দুলতে থাকল। তখন আল্লাহ পাক বিশাল বিস্তৃত পর্বতমালা সৃষ্টি করে জমিনের ওপর বসিয়ে দিলেন তখন জমিন স্থবির হয়ে গেল। হাদিসের ভাষায় তখন ফেরেশতারা আশ্চর্যান্বিত হলো এবং বলল- হে পরওয়ারদিগার! তোমার সৃষ্টিতে পাহাড়ের চেয়েও শক্তিশালী কিছু আছে কি? আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন- হ্যাঁ, আছে আর তা হলো লোহা। ফেরেশতারা পুনরায় জিজ্ঞেস করল- হে পরওয়ারদিগার! তোমার সৃষ্টিতে লোহার চেয়েও শক্তিশালী কোনো কিছু আছে কি? আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন- হ্যাঁ, আছে তা হলো অগ্নি। ফেরেশতারা পুনরায় আরজ করল- হে পরওয়ারদিগার! তোমার সৃষ্টি জগতের অগ্নির চেয়েও শক্তিশালী কোনো কিছু আছে কি? আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন- হ্যাঁ, আছে পানি। ফেরেশতারা আবার আরজ করল- হে পরওয়ারদিগার! তোমার সৃষ্টির মাঝে পানির চেয়েও শক্তিশালী কোনো কিছু আছে কি? আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন- আছে বাতাস। এরপর ফেরেশতারা আরজ করল- হে পরওয়ারদিগার! তোমার সৃষ্টি জগতের মধ্যে বাতাসের চেয়েও শক্তিশালী কোনো কিছু আছে কি?

আল্লাহ পাক ইরশাদ করলেন- আছে, সেই আদম সন্তান যে আল্লাহর রাহে ডান হাতে ব্যয় করে কিন্তু তার বাম হাত তা জানে না। অর্থাৎ আল্লাহ পাকের সাথে তার এমন ঘনিষ্ঠতর ও গভীরতম সম্পর্ক যে সে অতি গোপনে তার যথাসর্বস্ব আল্লাহর রাহে বিলীন করতে এতটুকুও কুণ্ঠিত হয় না, এমন ব্যক্তি সৃষ্টি জগতের মাঝে সর্বাধিক শক্তিশালী।