ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ধর্মের অবমাননা করবেন না

কিছু ব্যক্তি নিয়মিতভাবে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করে বক্তৃতা আর লেখালেখি করছেন। তারা নিজেদেরকে আধুনিক, প্রগতিশীল, মুক্তমনা ও নাস্তিক বলে পরিচয় দেন। মুক্তচিন্তা ও বাক স্বাধীনতার কথা বলে প্রধানত ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করেন। তারা ব্লগে ইসলামি মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং এর বিধিবিধানকে কটাক্ষ করে লেখালেখি করেছেন। তারা এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, পালনর্কতা এবং নিয়ন্ত্রণকর্তা মহান আল্লাহ এবং তার প্রেরিত মানবতার মুক্তিদূত, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হজরত মুহাম্মদ সা:-কে কটাক্ষ, অবজ্ঞা ও অপমানিত করে থাকেন। একই সাথে তারা ‘পবিত্র’ নিয়ে অবাঞ্ছিত মন্তব্য করেন। ইসলাম অবমাননার কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হৃদয় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতবিক্ষত।

গণতন্ত্র, সভ্যতা ও মানবাধিকারের প্রবক্তা বলে দাবিদার একটি মহল ব্লগারদের এই অপকর্মকে মুক্তচিন্তা এবং বাকস্বাধীনতা হিসেবে অভিহিত করে তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছেন। তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে এই অপকর্মের পক্ষে সাফাই গেয়ে থাকেন। বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের ধুয়া তুলে এই ব্লগারদের পক্ষে কথা বলেন। বিভিন্ন ধর্ম, বিশ্বাস, ধর্মের প্রবক্তা এবং এর সম্মানিত ব্যক্তিদের অপমান ও অবজ্ঞা করাটা কখনো বাকস্বাধীনতা হতে পারে না। কোনো ব্যক্তির যেকোনো ধর্মকে মানা বা অস্বীকার করার অধিকার রয়েছে। স্বয়ং স্রষ্টাও মানুষকে সে অধিকার দিয়েছেন। কিন্তু ধর্মের অবমাননা করার অধিকার কারো নেই।

বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় সাত শ’ কোটি মানুষের বাস। এর প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষই কোনো-না-কোনো ধর্মের অনুসারী। অর্থাৎ খুব কম মানুষই ধর্মে অবিশ্বাসী। কারো মধ্যে ধর্মের প্রভাব কম আর কারো মধ্যে ধর্মের প্রভাব বেশি। কিন্তু এক কথায়, তারা ধর্মে বিশ্বাসী। এই ধারাবাহিকতাই আদিকাল থেকে চলে আসছে এবং ভবিষ্যতেও চলবে। মূলত ধর্মই নিয়ন্ত্রণ করছে মানুষের সভ্যতা, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এবং জীবনধারা। এই ধর্মই প্রভাবিত করেছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও দেশকে । একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব কিছুই ধর্ম দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। একজন ব্যক্তি সেকুলার হলেও তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ধর্মীয় রীতিতেই সম্পন্ন হয়।

হজরত ঈসা আ: খ্রিষ্টানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত, গৌতম বুদ্ধ বৌদ্ধদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত, শ্রীকৃষ্ণ হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত। ঠিক তেমনি হজরত মুহাম্মাদ সা:ও মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত সম্মানিত।
যেসব ব্যক্তি আজ মহান আল্লাহ, ইসলাম এবং নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-কে হেয় প্রতিপন্ন করছেন আর যারা আজ আল্লাহ, ইসলাম ধর্ম এবং তার নবীকে অপমান করাটাকে মুক্ত চিন্তা এবং বাকস্বাধীনতা বলে সমর্থন করছেন, তাদের জানা উচিত- এই স্বাধীনতা তাদের কারো জন্য কথিত প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনবে না, বরং এটা কেবল তাদের জন্য ক্ষতিই নিয়ে আসবে।

কোনো ব্যক্তি যদি মহান আল্লাহকে অস্বীকার বা কটাক্ষ করে, তাহলে তাতে মহান আল্লাহর মানসম্মান এবং ক্ষমতা বিন্দুমাত্রও কমবে না। মহান আল্লাহ হচ্ছেন মহাবিশ্বের সব কিছুরই সৃষ্টিকর্তা, লালনকর্তা ও পালনকর্তা। তিনি একক, অদ্বিতীয় ও চিরঞ্জীব। তিনি সর্বময় ক্ষমতার মালিক। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন; বরং সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ মুসলমানদের ইসলামকে অনুসরণ করার পাশাপাশি অমুসলিমদের ধর্ম এবং তাদের উপাস্যকেও সম্মান করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন- ‘আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাকে ডাকে, তাদের তোমরা গালি দিয়ো না, কেননা তারা সীমা লঙ্ঘন করে অজ্ঞানতাবশত আল্লাহকেও গালি দেবে’ (সূরা আনআম, আয়াত-১০৮)। সুতরাং অমুসলিমরা, তাদের ধর্ম, তাদের দেবতা এবং তাদের ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তি- সবই মুসলমানদের কাছে নিরাপদ।

মুসলমানদের হতে হবে ধৈর্যশীল, সহনশীল ও ক্ষমাশীল। আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনো ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়া যাবে না। আমরা এর জন্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করতে পারব; কিন্তু কখনো আইনকে নিজের হাতে তুলে নিতে পারব না। মন্দের প্রতিবাদ কখনো মন্দ দিয়ে হয় না। ভালো কাজ দিয়েই মন্দ কাজের প্রতিবাদ করতে হয়। আর ইসলাম আমাদের সেটাই শিক্ষা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন- ‘মন্দের মোকাবেলা করো, যা উত্তম তা দ্বারা’ ( সূরা মুমিনুন, আয়াত-৯৬)।