ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ধর্মের নামে নারীর প্রতি অধর্ম

নারীর প্রতি সংহিসতা একটি স্পর্শকাতর বিষয়। হয়তো অনেকের মতে, নারীর প্রতি সংহিসতার মানে শারীরিক নির্যাতন। কিন্তু আমাদের এ ধারণা সঠিক নয়। শারীরিক নির্যাতন ছাড়াও নির্যাতনের আরো অনেক ধরন রয়েছে। তার মধ্যে মানসিক, অর্থনৈতিক, যৌননির্যাতন অন্যতম। তা ছাড়া এক কথায় বলা যেতে পারে কারো অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার ওপর কিছু চাপিয়ে দেয়াটাও নির্যাতন। আর আমাদের সমাজে সব ক্ষেত্রেই নারীর ইচ্ছা-অনিচ্ছা কোনোটারই দাম নেই। এমন কি পরিবারেও।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী যেন বাজার থেকে কেনা দাসী। সবার হুকুম পালন করাই তার কাজ। কোনো কিছুর ওপর নারীর বিন্দুমাত্র অধিকার নেই। সমাজ তাদেরকে যে ভাবে দেখাবে চোখমুখ বন্ধ করে অন্ধের মতোই চলতে হবে। তার ওপর আবার যুগে যুগে নারীর প্রতি ধর্মের নামে চলে আসছে বিভিন্ন অধর্ম তথা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে প্রকৃত ধর্মীয় জ্ঞানশূন্য নামধারী মোল্লাদের করা ধর্মান্ধ রীতিনীতি। আর এই সব রীতিনীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হচ্ছে আমাদেরই মা, বোন, স্ত্রী অথবা মেয়েদেরকে। অথচ এই সব ধর্মান্ধ রীতিনীতি সবটাই ইসলাম পরিপন্থী।

কেননা ইসলামের ইতিহাসে দেখতে পাই জ্ঞানের উচ্চতর মসনদে গণিত, আইন ও  ভৌগোলিক জ্ঞানসমৃদ্ধ বিষয় ফারায়েজসহ হাদিস শাস্ত্রে সেই সময়কার সর্বোচ্চ পাণ্ডিত্য অর্জনকারী মহীয়সী নারী উম্মুল মুমিনিন আয়শা সিদ্দিকা রা:-কে। আমরা আরো দেখতে পাই হজরত খাদিজাতুল কুবরাহ রা:-কে যিনি সেই সময়ের  একজন সফল ব্যবসায়ী নারী ও দানবীর। রাসূল সা:-এর সাথে বিয়ে হওয়ার পর তিনি অবশ্য ব্যবসায়-বাণিজ্য ছেড়ে তাঁর সব সম্পত্তি গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। তাই অনেকেই এই উদাহরণটি মানতে নারাজ।

কিন্তু মুফতি আমিমুল এহসান বারকাতী প্রণীত তারিকুল ইসলামের বর্ণনা মতে, খাদিজাতুল কুবরাহ রা: ছাড়াও মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র কায়েম হওয়ার পরেও অনেক মহিলা সাহাবি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় করতেন। শুধু শিক্ষা আর ব্যবসায় ক্ষেত্রেই কেন স্বয়ং রাসূল সা:-এর সামনে অজস্র কাফেরদের মোকাবেলায় সশস্ত্র সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মহিলা সাহাবি নাসিমা রা:-এর মতো আরো অনেক মহিলা সাহাবি কাদিসিয়া ও ইয়ারমুখের যুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন ও মানব দরদি মহীয়সী নারী খলিফা হারুন-অর-রশিদের স্ত্রী জুবায়দার অমর কীর্তি তায়েফের এক কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত ‘নহরে জুবায়েদা’ নামক পানির টানেল নির্মাণ। এসব উদাহরণ কি প্রমাণ করে না ধর্মের নামে নারীদের অবরুদ্ধ করার জন্য যেসব রীতিনীতির কথা বলা হচ্ছে, তার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই?

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের প্রায় ৮০ শতকরা নারী বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। তার মধ্যে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ নির্যাতন, গ্রামের মাতব্বর, জনপ্রতিনিধি ও অর্ধশিতি মৌলভী কর্তৃক কারো কন্যা বা গৃহবধূকে দোররা মেরে গ্রামছাড়া করার ঘটনা। এগুলোছাড়াও নারীর অধিকার হরণের মতো আরেকটি স্পর্শকাতর বিষয় হলো দেনমোহর। সঠিক মাসআলা না জানার কারণে আমাদের দেশের বেশির ভাগ নারীই পারিবারিক জীবনের সূচনালগ্নেই দেনমোহরের মতো একটি ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে ইসলামের নির্দেশ লঙ্ঘিত হচ্ছে। ইসলামে জীবনব্যবস্থায় নারীদেরকে উচ্চমর্যাদা ও অধিকার দেয়া হয়েছে।

ইসলামে নারীর প্রতি পুরুষের অনেক কর্তব্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পরিবারের বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, খাদ্য সব ক্ষেত্রে নারী বা স্ত্রীর পর কোনো দায়িত্ব অর্পণ করা হয়নি। উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে নারীরা পিতা-মাতা ও স্বামীর অংশও পান। পুরুষরা শুধু পিতা ও মাতার অংশ পান। বিয়েতে স্ত্রীকে যৌক্তিক দেনমোহর দিতে পুরুষকে বাধ্য করা হয়েছে। বিবাহের ক্ষেত্রে ইসলামী স্ত্রী বা স্ত্রীর পিতা-মাতা ও অভিভাবকের কাছ থেকে কোনো সম্পদ গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যৌতুক নামে কোনো শব্দ ইসলামের শব্দভাণ্ডারে নেই। অপরাধ করার ক্ষেত্রে নারীদের শায়েস্তা করা বা দণ্ড দেয়ার কোনো মতা সমাজ, জনগণ, গ্রাম্য সালিসিকে দেয়া হয়নি। ইসলামি নিয়ম অনুসরণ করে একমাত্র আদালতই দণ্ড দিতে পারে।

দেনমোহর : ইসলামি জীবনব্যবস্থায় দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সমান হলেও পুরুষের দায়িত্ব অনেক বেশি। স্ত্রী ও সন্তানদের খাওয়া,পরা, বাসস্থান, চিকিৎসা, বিনোদন ইত্যাদি বাস্তবায়ন পুরুষের দায়িত্ব। এ বিষয়ে হাদিস শরিফে রয়েছে- ‘তোমাদের ওপর তোমাদের স্ত্রীগণের অধিকার হলো যে, তোমরা ন্যায়সঙ্গত ভাবে তাদের খাবারদাবার ও পোশাক পরিচ্ছদ প্রদান করবে’ (মুসলিম শরিফ)। তবে এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর কোনো দায়িত্ব নেই। উপরন্তু রয়েছে বিবাহিত জীবনে নারীর বিশেষ সম্মানী দেনমোহর, যা নারীর একটি সম্পদ। পুরুষ থেকে তারা এটা আদায় করবে আবশ্যিকভাবে। পবিত্র কুরআনে রয়েছে- ‘তোমরা স্ত্রীদের পাওনা (দেনমোহর) সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো’।

ইসলামে বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে দেনমোহর। বিবাহে দেনমোহর নির্দিষ্ট করা ও পরিশোধের নিশ্চিত ব্যবস্থা না থাকলে বিবাহ অবৈধ হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি বেশি দেনমোহর ধার্য করে কোনো মহিলাকে বিয়ে করে; কিন্তু তার মনের মধ্যে স্ত্রীর অধিকার (দেনমোহর) আদায় করে দেয়ার ইচ্ছা না থাকে, এভাবে ধোঁকা দিয়ে বিয়ে করে স্ত্রীর অধিকার (দেনমোহর) তাকে বুঝিয়ে না দিয়ে যদি সে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে সে কিয়ামতের দিন ব্যভিচারী রূপে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের সাথে সাক্ষাৎ করবে।’ (বোখারি ও মুসলিম শরিফ)।

যৌতুক : বিবাহের বিনিময়ে স্ত্রী বা স্ত্রীর অভিভাবকদের চাপ দিয়ে অর্থসম্পদ আদায় করাকে বলা হয় যৌতুক। ইসলামে এ বিষয়টি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং যৌতুক বাবদ আদায় করা সম্পদ হারাম। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে- ‘হে ঈমানদারগণ তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না’। হাদিস শরিফে রাসূল সা: বলেন, ‘তোমাদের জন্য একে অপরের অর্থসম্পদ মনের সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে হালাল নয়’ (আবু দাউদ শরিফ)।

ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই বিয়েশাদির ক্ষেত্রে দেনমোহরের বিধান ছিল। কিন্তু যৌতুকের মতো নীচ ও শোষণমূলক লেনদেনের কোনো প্রচলন ছিল না। অতএব যৌতুক শব্দটির সাথেও ইসলাম পরিচিত নয়। তাই আমাদের সমাজের এ ঘৃণ্য ও নির্যাতনমূলক প্রথা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। যৌতুকবিরোধী সব আইন ও প্রস্তাব ইসলাম সমর্থন করে। ইসলামের বিবাহরীতি অত্যন্ত সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী। রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেন, ‘সর্বাপো বরকতময় বিবাহ সেটিই যাতে উভয় পরে ব্যয়ভার সহজ ও স্বল্প হয়’ (মুসলিম ও আবু দাউদ শরিফ)।

নারীর মর্যাদা ও অবস্থানকে নিশ্চিত করতে তার দাম্পত্যজীবনের সূচনায় একটি আর্থিক সম্মাননা ইসলাম যর্থাথ কারণেই বাধ্যতামূলক নির্ধারণ করেছে। আর যৌতুক হচ্ছে উল্টো নারীকে অবমাননা ও শোষণের পদ্ধতি- যা নিঃসন্দেহে একটি বড় গুনাহর কাজ। আর আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত এ সম্পর্কে কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন, ‘পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে তোমরা একে অন্যকে সহযোগিতা করো না’। ইসলাম স্ত্রীর পিতৃলয়ে বিশাল বরযাত্রী আগমন, সংবর্ধনা ও প্রথাগত প্রীতিভোজকেও সমর্থন করে না।

ইসলামে কেবল বরের দায়িত্বে ওলিমা বা বিবাহোত্তর প্রীতিভোজের সুন্নাত বিধান রয়েছে। যা আমরা আনাস ইবনে মালিক রা: থেকে বর্ণিত এই হাদিস শরিফ থেকেই জানতে পারি; তিনি বলেন, ‘রাসূল সা: আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা:-এর দেহে হলুদের চিহ্ন দেখতে পান এবং তখন রাসূল সা: বলেন, ‘এ কী? আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা: উত্তরে বলেন, আমি একজন মহিলাকে উপযুক্ত দেনমোহর দিয়ে বিয়ে করেছি। তখন রাসূল সা: বলেন, ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন। একটি ছাগি দিয়ে হলেও ওলিমা (বৌভাত) আয়োজন করো’ (বোখারি ও মুসলিম শরিফ)।

ফতোয়া (দোররা) : ফতোয়া হচ্ছে ইসলামি আইনি মতামত। ইসলামি দণ্ডবিধিতে বিচারকের এখতিয়ারে দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা প্রকৃতপে যথানিয়মে প্রয়োগ করা খুবই সতর্ক শর্তাবলি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জনগণের হাতে এ আইন তুলে নেয়ার কোনোই অধিকার নেই। ফতোয়ার নামে কোনো বিচার-সালিস বা রষ্ট্রীয় আইনকে উপো করে শরিয়া আইনের বিচার সালিস করার অধিকার ইসলাম স্বীকৃতি দেয় না। আদালত বিচারের ক্ষেত্রে ইসলামি আইন বা ফতোয়া অনুসরণ করতে পারেন।

সালিসি ব্যবস্থা বর্তমান সমাজব্যবস্থায় প্রচলিত থাকলেও কোনো বিচারকার্য পরিচালনা বা শাস্তি কার্যকরের অধিকার ইসলাম কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, গ্রাম্য সালিসি বা সমাজকে দেয়নি। এর একমাত্র বৈধ কর্তৃপ হচ্ছে সরকার তথা আদালত বা সরকারের বিচার বিভাগের। ইসলামি শাসনব্যবস্থায় বিচারকেরাই মুফতি। তাদেরকে যে অঞ্চলে নিয়োগ করা হতো, সেই অঞ্চলে ইসলামি আইনের প্রচলনও ছিল বিধায় তারা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় গ্রামেগঞ্জে পাড়ায় মহল্লায় বিচার আয়োজনের অধিকার থাকলেও ফতোয়া প্রদান বা শরিয়াত অনুযায়ী শাস্তি প্রয়োগ করার অধিকার নেই। উপযুক্ত মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বা স্বীকৃতি মুফতি বোর্ড ছাড়া কেউ ফতোয়া দিতে পারবে না।

ফতোয়া অনুযায়ী বিচার করা কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমেও শরিয়াতসম্মত নয়। যেহেতু ফতোয়া হচ্ছে ইসলামি আইনি মতামত, বিচারের রায় নয়। তাই গ্রামের মাতব্ব, জনপ্রতিনিধি বা অর্ধশিতি মৌলভিরা ফতোয়া দেয়ার অধিকার নেই। এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে রাসূল সা: বলেন, ‘যদি কাউকে ইলিমবিহীনভাবে ফতোয়া দেয়া হয়, তবে যে ব্যক্তি ফতোয়া দিলো তার ওপরেই এই পাপ বর্তাবে’ (আবু দাউদ, দারিমি ও ইবনে মাজাহ শরিফ)। সুতরাং ফতোয়ার মাধ্যমে বিচার ও দোররা বা অন্য যেকোনো শাস্তি ইসলামে মোটেও বৈধ নয়।

যে সময় নারী মানেই অভিশাপ মনে করা হতো। কন্যাসন্তান হলে পিতারা লজ্জা ঢাকবার জন্য সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যাকে জীবন্ত কবর দিত। নারী মানে দাসীর জাত বলে মনে করা হতো। বাজারের পণ্যের মতো নারীদেরকে বেচাকেনা হতো। সেখান থেকে নারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন করেছেন রাসূল সা:। তিনি মায়ের সম্মানে সম্মানীত করেছেন নারীকে। আর তাই হাদিস শরিফে বলেছেন, ‘মায়ের পায়ের নিচেই সন্তানের বেহেশত’।

একজন সাহাবি রাসূল সা:-এর কাছে প্রশ্ন করেন, আমার ওপর পিতা-মাতার মধ্যে কার হক সবচেয়ে বেশি। রাসূল সা: উত্তরে নারীকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলেন, ‘প্রথমবার তোমার মাতার, দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারও তোমার মাতার এবং চতুর্থবার তোমার পিতার’। এ তো হলো মায়ের মর্যাদা। কন্যাসন্তানের মর্যাদা সম্পর্কে রাসূল সা: বলেন, ‘যে আমার মতো তিনটি কন্যাসন্তানের পিতা হবে, সে আমার সাথে জান্নাতবাসী হবে’। স্ত্রীর মর্যাদা সম্পর্কে বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম’। অপর এক হাদিসে বলেন, ‘তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের ওপর এক পবিত্র আমানত’। নারী-পুরুষ একে অপরের জন্য তাই তো আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদের আদি পিতা বাবা আদম আ:-এর সাথে সাথে আদি মাতা হাওয়া আ: তৈরি করেছে। নারী-পুরুষের বর্তমান বৈষম্য আমাদেরই তৈরি। দেশ ও জাতি সমৃদ্ধির চাকাকে সচল করতে চাই নারী-পুরুষের সমতায়ন। সব বাধা বন্ধন  বৈষম্যের বেড়াজাল  থেকে নারীকে উন্মুক্ত করতে হবে। যাতে নারী তার আপন স্বপ্নের পথে পা বাড়াতে পারে।

নারীর প্রতি সংহিসতা রোধকল্পে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দায়িত্বশীলদের কাছে কয়েকটি সুপারিশমালা তুলে ধরছি : ক. যৌতুক, ফতোয়া ও দেনমোহর হতে বঞ্চিত করার মতো নারীর প্রতি সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক, মানসিক, শারীরিক নিপীড়নের কুফল সম্পর্কে দেশের বিজ্ঞ আলেমগণের বক্তব্য সংবলিত বুকলেট তৈরি করে সর্বসাধারণের মধ্যে বিতরণ; খ. সরকারি ও বেসরকারি চ্যানেলে সংক্ষিপ্ত আকারে ভিডিও কিপ বা টকশো, রেডিওতে ধারাবর্ণনা ও জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র বা ধারাবাহিকভাবে বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশ; গ. ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধায়নে ইউনিয়ন পরিষদপর্যায়ে মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং জুমায় মসজিদে আলোচনা করতে খতিব সাহেবদের উদ্বুদ্ধকরণ।