ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

নারীর প্রতি অবিচার প্রতিরোধ করুন

আমাদের সমাজ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত। ধরা যাক যৌতুকের কথা। বর্তমান সমাজে যৌতুক একটি অভিশাপ হয়ে আছে। যৌতুকের আগুনে পুড়ে ছারখার হচ্ছে বহু নারীর জীবন, বহু পরিবার ও সন্তান। যৌতুকের এ প্রথা এসেছে হিন্দু ধর্ম থেকে। হিন্দু ধর্মমতে মেয়েরা বাবার ত্যাজ্য সম্পত্তিতে কোনো ধরনের অংশ পায় না। বিয়ের সময় যা উশুল করে নিতে পারে। এভাবে এ প্রথা আমাদের মুসলিম সমাজেও সংক্রমিত হয়েছে।
নারীর প্রতি নির্যাতন ও অবিচার আমাদের সমাজে মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দেখা দিয়েছে। ফলে পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলা আজ হুমকির মুখে। এর পরিণতি খুবই ভয়াবহ।

নারী-পুরুষের অবাধ বেপর্দা চলাফেরার ফলে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নৈতিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করছে। হত্যা-ধর্ষণ ও আরও বিভিন্নভাবে নারীরা আজ নির্যাতিত, ইসলাম নারীকে বাবার সম্পত্তিতে যে অধিকার দিয়েছে, স্বামীর সম্পত্তিতে যে অধিকার দিয়েছে, বর্তমান সমাজে শতকরা ৯৮ ভাগ নারী তা বুঝে পান না। কোনো নারী বাবার সম্পত্তির অংশ আনতে গেলে ভাইদের হাতে নাজেহাল হন। নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হন।

আমাদের সমাজটা এমন হয়ে গেছে যে, এখন অনেক নারীই ভাবেন বাবার বাড়ির সম্পদ আনাটা অভদ্রতা ও নিচুমনের পরিচায়ক। না আনাটাই ভদ্রতা ও উদারতা। আমার তো মনে হয়, ইসলমের এ বিধান যেহেতু বর্তমানে আমল করা হচ্ছে না, সেহেতু সমাজের এ ব্যাধি ও ভুল ধারণা প্রতিহত করার জন্য নারী সমাজ নিজেদের সম্পদ এনে ইসলামের এ বিধান চালু করার বহু সওয়ারের অধিকারী হবেন।

বিধবা-বিয়েকে আমাদের সমাজে বাঁকা চোখে দেখা হয়। হজরত কাসেম নানুতবি (রহ.) এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। প্রথমে নিজের বিধবা বোনকে বিয়ে দেন। এভাবে তখনকার সমাজে এক বিপ্লব সাধন করেন। হ্যাঁ, সন্তান হওয়ার পর বিধবা হলে হাদিস শরীফে এসেছে, কোনো মহিলা বিয়ে না করে ধৈর্য ধারণ করলে এবং সন্তান প্রতিপালন করলে বহু সওয়াবের অধিকারী হবেন।

বিয়ে পর মোহরানা হলো স্ত্রীর পাওনা হক, কিন্তু আমাদের সমাজে অনেকেই তা আদায় করেন না। মনে করেন মোহরানা না দিলেও চলে। আবার মনে করেন তালাক দিলেই মনে হয় মোহরানা দিতে হয়, অন্যথায় নয়। এসব চিন্তা একেবারেই ভুল; বরং মেলামেশার আগেই স্ত্রীকে মোহরানা পরিশোধ করতে হয়। তবে স্ত্রী মোহরানা পরিশোধে অবকাশ দিলে ভিন্ন কথা।

আমাদের সমাজে অনেকেই মনে করেন কথায় কথায় তালাক দেয়া যায়। আসলে ইসলাম তালাক দেয়াটাকে খুবই ঘৃণার নজরে দেখে। কথায় কথায় স্ত্রীকে তালাক দেয়া নারীর প্রতি চরম অবিচার। আমাদের সমাজে শতকরা ৯৮ ভাগ তালাকই হয় জুলুম ভিত্তিক । মনে চাইলেই দিয়ে দিল। ইসলাম তালাক দেয়াকে বৈধ রেখেছে চূড়ান্ত প্রয়োজনে। যথাযথ কোনো কারণ ছাড়া তালাক দেয়া মারাত্মক গুনাহর কাজ। যারা এভাবে কথায় কথায় স্ত্রীকে তালাক দেয়, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা কর্তব্য।

এসব সামাজিক কুসংস্কার বন্ধে দরকার ইসলামী শিক্ষা ও অনুশাসনের আলোকে ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। কোরআন-হাদিস ও দ্বীনি বয়ানের মাধ্যমে মানুষকে এসব কুসংস্কার থেকে বের করে আনতে হবে। সর্বত্র এসব কুসংস্কার নিয়ে আলোচনা করতে হবে। নিজেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।