ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ফরজ নামাজ মসজিদে পড়ার তাত্পর্য

umayyad-mosqueরসূলুল্লাহ (স.) বলেন, একজন লোক ঘরে নামাজ পড়লে একটি নেকী পায়, সে অক্তিয়া মসজিদে পড়লে ২৫ গুণ, জুমআ মসজিদে পড়লে পাঁচশ’ গুণ, মসজিদে আকসায় পড়লে পঞ্চাশ হাজার গুণ, আমার মসজিদে অর্থাত্ মসজিদে নববীতে পড়লে পঞ্চাশ হাজার গুণ এবং মসজিদুল হারাম বা কাবাঘরে পড়লে এক লাখ গুণ সওয়াব পাবে (ইবনে মাজাহ, মেশকাত)।

নবী করীম (স.) বলেন, যে ব্যক্তি আযান শোনে অতঃপর সে (অসুখ বা ভয় প্রভৃতি) কোন ওজর ছাড়া নামাজে হাজির হয় না (ঘরে পড়ে) তার নামাজ হয় না (দারাকুতনী, মেশকাত)। এই হাদিস দ্বারা মসজিদের গুরুত্ব প্রমাণিত হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় জায়গা মসজিদ এবং সবচেয়ে ঘৃণিত জায়গা হাট-বাজার (মুসলিম, মেশকাত, ৬৮ পৃঃ)। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে মসজিদ বানায় তার জন্য আল্লাহ জান্নাতে ঘর বানান (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত)।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স.) আমাদেরকে মহল্লায় মহল্লায় মসজিদ বানাবার এবং সেগুলোকে পাকসাফ রাখবার ও খোশবু দিয়ে সুবাসিত করার হুকুম দিয়েছেন (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মেশকাত)। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, একজন লোক ঘরে নামাজ পড়লে একটি নেকী পায়, সে অক্তিয়া মসজিদে পড়লে ২৫ গুণ, জুমা মসজিদে পড়লে পাঁচশ’ গুণ, মসজিদে আকসায় পড়লে পঞ্চাশ হাজার গুণ, আমার মসজিদে অর্থাত্ মসজিদে নববীতে পড়লে পঞ্চাশ হাজার গুণ এবং মসজিদুল হারাম বা কাবাঘরে পড়লে এক লাখ গুণ সওয়াব পাবে (ইবনে মাজাহ, মেশকাত)।

মসজিদে কি কি করা নিষেধ রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, পিঁয়াজ ও রসূন (কাঁচা) খেয়ে মসজিদের কাছে এসো না। কারণ এতে ফেরেশতারা কষ্ট পায় (বুখারী, মুসলিম)। তিনি (স.) বলেন, মসজিদে থুথু ফেলনা। যদি কোন নামাজীকে নামাজ পড়া অবস্থায় থুথু ফেলতে হয় তাহলে সে যেন তার সামনে না ফেলে। কারণ সে ঐ সময় আল্লাহর সাথে চুপে চুপে কথা বলে এবং সে যেন ডানদিকেও না ফেলে কারণ তার ডানদিকে ফেরেশতা থাকে। অতএব হয় সে বামদিকে ফেলবে কিংবা পায়ের নীচে ফেলবে। পরে সেটাকে মুছে দেবে। তিনি (স.) মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করতে, বেচাকেনা করতে ও জুমার দিনে নামাজের আগে গোল হয়ে বসে চক্র বানাতে নিষেধ করেছেন (আবু দাউদ, তিরমিযী)। তিনি বলেন, এমন একটা যুগ আসবে যখন মানুষ মসজিদে বসে দুনিয়ার কথা বলবে, তখন তুমি তাদের সাথে বসবে না (বায়হাকী)। তিনি মসজিদে কেসাস (খুনের প্রতিশোধ) নিতে এবং হদ (শরীয়াতী শাস্তি) দিতে নিষেধ করেছেন (আবু দাউদ, মেশকাত)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাত জায়গায় নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। ১. জঞ্জাল ফেলার জায়গায় ২. জবেহ করার জায়গায় ৩. কবরখানায় ৪. রাস্তায় ৫. গোসলখানায় ৬. উট বাঁধার জায়গায় ৭. কা’বার ছাদের ওপর (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মেশকাত)। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, গোরস্থান, গোসলখানা ও অপবিত্র জায়গা ছাড়া সমস্ত জমিনটাই মসজিদ (আবু দাউদ, তিরমিযী, দারেমী মেশকাত)। ঘরেও মসজিদ বানাও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমাদের কিছু নামাজ (অর্থাত্ সুন্নত ও নফল নামাজগুলো) নিজেদের ঘরে পড় এবং (ঘরে ঐসব নামাজ না পড়ে) সেটাকে কবরে পরিণত করো না (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত, ৬৯ পৃঃ)।

যায়দ ইবনে সাবেত (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ঘরে নামাজের জন্য একটি খাস হুজরা করে রেখেছিলেন। অনেক লোক তাঁর কাছে আসতো এবং তাতে নামাজ পড়তো। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ফরজ ছাড়া পুরুষের অন্যান্য সুন্নত ও নফল নামাজ ঘরে পড়া উত্তম (বুখারী, মুসলিম, বুলুগুল মারাম)।

রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে ঢুকবে তখন এই দোআ পড়বে, আল্লাহুম্মাফ তাহ্লী আব-ওয়া-বা রহমাতিকা। অর্থাত্ হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাগুলো খুলে দাও। যখন বের হবে তখন এই দোআ পড়বে, আল্লাহুম্মা ইন্নী আস আলুকা মিন ফাদালিকা। অর্থাত্ হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি (মুসলিম, মেশকাত)। মসজিদে ঢোকার সময় নবী সাল্লাল্লাইহি ওয়া সাল্লাম প্রথমে ডান পা রাখতেন (তাবারানী)। বের হবার সময় প্রথমে বাম পা বের করতে হবে (হাকেম, ১ম খন্ড ২১৮)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে অজু করে ফরজ নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে মসজিদের দিকে যায় সে ব্যক্তি একজন এহরামওয়ালা হজ্ব সমাধাকারীর নেকী পায় (আহমাদ, আবু দাউদ, মেশকাত)। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, যখন তোমরা কেউ মসজিদে ঢুকবে তখন বসার আগে দু’রাকআত নামাজ পড়ে নেবে (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যখন তোমরা জান্নাতের বাগানে ঘোরাফেরা করবে তখন কিছু ফলমূল খেয়ে নিও। সাহাবীরা বললেন, জান্নাতের বাগান কোনটা? তিনি বললেন, মসজিদগুলো। তাঁরা বললেন, তার ফল খাওয়া কেমন? তিনি বললেন, এই তসবীগুলো পড়া, সুবহানাল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, অলা-ইলাহা, ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার (তিরমিযী, মেশকাত)।

অর্থাত্- আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ এবাদতের যোগ্য নয় এবং আল্লাহ সবচেয়ে বড়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ফজরের ২ রাকআত সুন্নত দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে সে সবের চেয়ে বেশি উত্তম ও শ্রেয় (মুসলিম, মেশকাত)। আয়েশা (রা.) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের ২ রাকআত সুন্নত পড়ার পর ডান কাত হয়ে শুতেন (বুখারী, বুলুগুল মারাম)।

নামাজ কেন পড়তে হবে? কুরআনের প্রায় ৮২ জায়গায় আল্লাহতায়ালা নামাজের কথা বলেছেন এবং মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই নামাজের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি তাকিদ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (স.) বলেন, ইসলামের বুনিয়াদ পাঁচটি জিনিসের ওপর তা হলো ১. এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউ নেই এবং মোহাম্মদ (স.) তাঁর দাস ও প্রেরিত দূত। ২. নামাজ কায়েম করা ৩. যাকাত দেয়া ৪. রমজানের রোজা রাখা ৫. হজ্ব করা (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত)।

তিনি (স.) বলেন, আল্লাহর দাস ও অবিশ্বাসীদের কাজের মধ্যে পার্থক্য হল নামাজ না পড়া (মুসলিম)। মুমিন ও অংশিবাদীদের মধ্যে তফাত হলো নামাজ ছেড়ে দেয়া (মুসলিম)। আমাদের ও তাদের মধ্যে যে অঙ্গীকার আছে তা হল নামাজ। অতএব যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দেয় সে নিশ্চয়ই অস্বীকার করে (আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী)। যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দেয় সে ইসলামী মিল্লাত থেকে বেরিয়ে যায় (তাবারানী)। যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দেয় সে অংশিবাদী হয়ে যায় (তাবারানী)।

লেখক: জাকির হোসাইন আজাদী