ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রোগীর সেবা-শুশ্রূষা বড় ইবাদত

রোগীর সেবা-শুশ্রূষা বড় ইবাদতরোগী দেখার আদব
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোগীর শুশ্রূষার আদব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন : ‘মান আদা মিনকুম ফালয়ুখাফফিফ’ অর্থাত্ যখন তোমরা কোনো রোগী দেখতে যাও তাহলে এ রকম যেন না হয় যে, তোমার যাওয়াতে রোগী কষ্ট পায়।

১. রোগী দেখার উপযুক্ত সময় নির্বাচন করে নিন
আপনি রোগী দেখতে যাওয়ার আগে সময়ের প্রতি খুব ভালো করে লক্ষ্য করুন যে, এ সময়টি দেখা করার উপযুক্ত কি-না। এ সময়টা রোগীর আরাম করার সময় নয় তো? অথবা এ সময় সে ঘরবাসীর কাছে থাকবে না তো? কিংবা এ সময় তার পর্দার ও অন্যান্য বিষয়ের ব্যবস্থা করা কষ্ট হবে না তো? মোট কথা উপযুক্ত সময় নির্বাচন করে দেখতে যাওয়া উচিত। যখন শুশ্রূষার জন্য যাবেন তখন অসুস্থ ব্যক্তির কাছে স্বল্প সময় বসেন। এত দীর্ঘ সময় বসবেন না, যার কারণে রোগীর কষ্ট হতে থাকে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে কেউ মানুষের স্বভাব সম্পর্কে বেশি জ্ঞাত নয়। লক্ষ্য করুন! অসুস্থতার কারণে রোগী সাধারণত অকৃত্রিম ও স্বাভাবিকভাবে থাকে। প্রত্যেক কাজ বে-তাকাল্লুফির সঙ্গে করে। কিন্তু যখন কোনো মেহমান আসে তখন তার কারণে তবিয়তের মাঝে কৃত্রিমতা এসে যায়। যেমন, সে পা ছড়িয়ে বিশ্রাম করতে পারছে না। মোট কথা, আপনি তো সেবার নিয়তে সওয়াব অর্জন করতে গেলেন। কিন্তু আপনার কারণে রোগী কষ্টে নিপতিত হলো।

এ জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : সেবা-শুশ্রূষার মাঝে এ রকম পন্থা গ্রহণ করো না, যার কারণে অসুস্থ ব্যক্তির কষ্ট হয়। বরং স্বল্প সময় অবস্থান করো। অতএব রোগীর কাছে যান সুন্নত তরিকায়, রোগীর অবস্থা সংক্ষিপ্তাকারে জিজ্ঞাসা করে তাড়াতাড়ি বিদায় হয়ে যান। যাতে করে তার ওপর কোনো বোঝা না হয়ে পড়েন। এ যেন না হয়— তার কাছে গিয়ে বসেই রইলেন, বিদায় নেয়ার নামও নেন না। এতে রোগী স্বাভাবিকভাবে, অকৃত্রিমভাবে না কোনো কাজ করতে পারছে, না ঘরবাসীকে নিজের কাছে ডাকতে পারছে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনি তার সহমর্মিতায় কাছে বসেই রইলেন। এটা সুন্নতের বিপরীত। এ রকম শুশ্রূষার দ্বারা সওয়াব হওয়ার পরিবর্তে গুনাহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অকৃত্রিম বন্ধু অধিক সময় বসতে পারেন
অবশ্য কিছু লোক এ রকম হয় যে, তাদের অধিক সময় বসার কারণে রোগী কষ্টের পরিবর্তে সান্ত্বনা পায়, বিরক্তির বদলে প্রশান্তি লাভ করে, এ বেলায় অনেক সময় বসলে কোনো অসুবিধা নেই, বরং এখানে বেশিক্ষণ থাকাটাই উত্তম। সব ক্ষেত্রে একই প্রেসক্রিপশন চলে না, বরং সময়, অবস্থা ও সম্পর্কের ভিন্নতায় প্রেসক্রিপশনও ভিন্ন ভিন্ন হওয়া চাই।

২. রোগীর ব্যাপারে দোয়া করা
রোগী দেখার দ্বিতীয় আদব হচ্ছে : যখন আপনি কারও পরিচর্যা করার জন্য যাবেন, ওজু করে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াবের আশায় রোগীর মাথার পাশে বসে সম্ভব হলে প্রথমেই সংক্ষিপ্তাকারে তার অবস্থা জিজ্ঞেস করে তার সান্ত্বনামূলক এই দোয়া পড়বেন : “লা-বাসা তহুরুন ইনশাআল্লাহ্” (সহিহ্ বুখারি, কিতাবুল মারয) অর্থাত্ এ কষ্টের কারণে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না, আল্লাহ ইচ্ছা করলে এ কষ্ট আপনার গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার মাধ্যম হবে।

৩. তৃতীয় আদব
যদি সুযোগ হয়, আর এ কাজের মাধ্যমে রোগীর কষ্ট না হয় তাহলে রোগীর মাথার ওপর হাত রেখে ৭ বার এই দোয়া পড়বেন : “আসআলুল্লাহাল আজিমা রব্বাল আরশিল আজিমি আই-এশফিআ’ক্।” (আবু দাউদ, কিতাবুল জানায়েজ) অর্থাত্ আমি মহান আল্লাহ এবং আরশে আজিমের মালিকের কাছে প্রার্থনা করছি যে, তিনি তোমাকে আরোগ্য দান করুন।

হাদিসে এসেছে : রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন—যে মুসলমান বান্দা অপর মুসলমান ভাইকে শুশ্রূষা করতে গিয়ে এ দোয়া সাত বার পড়ে, যদি এই রোগীর মৃত্যুর সময় না আসে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা এই দোয়ার বরকতে তাকে সু্স্থতা দান করবেন। হ্যাঁ, যদি কারও মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে তাহলে তাকে কেউ বাধা প্রদান করতে পারবে না। তারপর তার অবস্থা জানবেন, তার সামনে সান্ত্বনা মূলক ও উত্সাহব্যঞ্জক কথাবার্তা বলবেন, আশু রোগমুক্তির আশা ব্যক্ত করে তার জন্য সুস্থতা ও গুনাহ মাফের দোয়া করবেন এবং নিজেও তার কাছে দোয়ার দরখাস্ত করবেন।

পরিশেষে এটাই আরজ করতে চাই; রোগীর সেবা তো আমরা সবাই করি। কিন্তু সেবা-শুশ্রূষার সময় দৃষ্টিভঙ্গি সামান্য পরিবর্তন করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার নিয়তে সেবা-শুশ্রূষার যে আদব আছে তার প্রতি একটু মনোযোগী হলেই রোগী দেখার সামান্য আমল বড় ইবাদত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন।