ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

রোজার প্রস্তুতির মাস শাবান

রোজার প্রস্তুতির মাস শাবানশাবান মাস মূলত রমজানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নেয়ার মাস, ট্রেনিংয়ের আগে। পরীক্ষার আগে যেমন ছাত্রছাত্রীদের কিছু প্রস্তুতি নিতে হয় তদ্রƒপ। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, বিয়েশাদির অনুষ্ঠান ইত্যাদির আগে যেমন মানসিক, আর্থিক সামাজিক প্রস্তুতি নিতে হয়, রমজানের আগে তেমনি কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। যেমন ১. তাকওয়া অর্জনের জন্য এখন থেকেই গিবত, হিংসাবিদ্বেষ ও কটূকথা ত্যাগের চেষ্টা করা; কালোবাজারি, মজুদদারি, মুনাফাখোরি, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা বন্ধ; ঘর থেকে শুরু করে সর্বত্র ছোট-বড়, তরুণ-তরুণী, কর্মচারী, রিকশাওয়ালা সবাই যেন রোজা রাখেন এখন থেকেই তার উদ্যোগ নেয়া।

২. স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা উচিত। নবীজী ১৫ শাবানের পর রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। ৩. সময় কাজে লাগানোর জন্য পরিবারের ও সমাজের অনুষ্ঠানাদি ও দেখা-সাক্ষাৎ আগেই সেরে রাখা যেতে পারে। ৪. কাপড়চোপড়, ঘরদোর, বাগান ইত্যাদি রোজার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখলে ভালো হবে।

জ্ঞানার্জনের জন্য : প্রথমত, সহিহ কুরআন জানা না থাকলে এখন থেকেই শেখার জন্য শিক্ষক নিয়োগ করা। জানা থাকলে অন্যদেরকে শেখানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, অর্থ ব্যাখ্যাসহ কুরআন-হাদিস, ইসলামী বই পড়ার জন্য সিলেবাস তৈরি করে রাখা। তৃতীয়ত, রোজার মাসলা-মাসায়েল, তারাবির দোয়াগুলো আগেই জেনে নেয়া। চতুর্থত, দৈনন্দিন ব্যবহার্য কোন কোন দোয়া জানা নেই, বিশিষ্ট কুরআনের আয়াত, সূরা মুখস্থ নেই তা ঠিক করে রাখা। পঞ্চমত, গোটা রমজানে সম্ভব হলে একবার পুরো কুরআন খতম করা উচিত। সম্ভব না হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে সময়ানুযায়ী পারা ভাগ করে সম্মিলিতভাবে হলেও একবার খতম করা দরকার।

কমবয়সী ছেলেমেয়েদের স্মরণশক্তি প্রখর থাকে, মুখ পাতলা থাকে। তাদের শিখতে দেয়ার জন্য এ ক্ষেত্রে একটি তালিকা দেয়া হলো। আশা করি পাঠক মহলের কাজে লাগবে। দৈনন্দিন দোয়া, কলেমা, খাওয়ার, ঘুমের, অজুর, স্মরণশক্তি বৃদ্ধি, পরীক্ষায় পাস, বাথরুমে যাওয়ার, যানবাহনের চলার সময়, মসজিদে প্রবেশের সময়, ঘর থেকে বের হওয়া, ভয় বা বিপদ আপদে, মা-বাবার জন্য, আজানের, কবরে সওয়াল-জওয়াব, জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি, নামাজের পরবর্তী দোয়া ও তসবিহগুলো। এ ছাড়া আমপারার ২০টি সূরা, সাইয়্যেদুল এস্তেগফার, সূরা বাকারার প্রথম রুকু, সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত, সূরা তওবার শেষ দুই আয়াত, আয়াতে শিফা, আহাদনামা, আল্লাহর ৯৯ নাম, ৪০ হাদিস, সূরা ইয়াসিন, আর-রাহমান। মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী অবশ্য এর পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতেও পারেন।

ষষ্ঠত, পাঞ্জেগানা নামাজে যেন সময়ানুবর্তিতা হয়, ঘরের পুরুষ সদস্যরা তারাবির নামাজে কুরআন খতম করে অর্থাৎ ২০ রাকাত পুরোটা পড়ার জন্য এখন থেকে উদ্বুদ্ধ করা দরকার। এখন থেকেই পিতা-মাতা এগুলো খেয়াল না করলে, তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য ঠিকমতো পালন না করলে ছেলেমেয়েদেরও যেমন দুনিয়া-আখিরাত বিনষ্ট হবে, মা-বাবারও দুনিয়া-আখিরাতে সুখশান্তি বরবাদ করে দেবে; এতে কোনো সন্দেহ নেই। যার বহু উদাহরণ সর্বত্রই ছড়িয়ে আছে। সপ্তমত, সম্পদের জাকাতের হিসাব এ মাসে করে ফেলা উচিত। গরিব জনসাধারণ, আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নিয়ে দান ও জাকাতের তালিকা করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া যায় নতুবা প্রার্থী বেশি হলে মাথা ঠাণ্ডা রাখাই কষ্ট হয়ে যায়।

অবশ্য জাকাত শুধু রমজানেই দিতে হবে, শাড়ি-লুঙ্গি ও কয়েকটি টাকা দিতে হবে এমন নয়। জাকাতের মাসলা-মাসায়েল জেনে নেয়া দরকার। অষ্টমত, গরিব-দুঃখী, বাড়ির দারোয়ান-কর্মচারীদের ইফতার, সেহরির ব্যবস্থা আছে কি না জেনে নিয়ে এলাকার ধনীদের থেকে প্রত্যেক গরিবের ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা সহজেই করা যায়। বিল্ডিংয়ের সবাই যেন শেষ রাতে উঠতে পারে সে ব্যবস্থা করা, পুরুষরা যেন তারাবিতে নিয়মিত যায় তার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। এভাবে শাবান মাসে রমজানকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রতি মুহূর্ত কাজে লাগাতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। বুটের বরফি, হালুয়া-রুটি, গোশত-পোলাও শবেবরাতে নয়, শবেকদরে বা যেকোনো রোজায় তা দিয়ে রোজাদারকে ইফতার করালে বা বিতরণ করলে ৭০০ গুণ বা আরও বেশি সওয়াব হবে ইনশাআল্লাহ।

আসুন, এবারের শবেবরাত তথা শাবান মাস থেকে শুরু হোক প্রস্তুতির মাস। সে প্রস্তুতি হবে গুনাহ মাফ করিয়ে নেয়ার। জ্ঞানের, আমলের, মনের, দেহের, পরিবারের, সমাজের, রাষ্ট্রের তথা দুনিয়া ও আখিরাতের প্রস্তুতি। আল্লাহ পাক আমাদের জ্ঞান বাড়িয়ে দিন। স্বাগত, খোশ আমদেদ হে মাহে রমজান।