ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

সন্তানের চরিত্র গঠনে পিতা-মাতার ভূমিকা

বিশ্বজগত্ একটি নিয়ম ও নীতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই নিয়ম-নীতির সৃষ্টিকর্তা তো মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। সূর্য ও চন্দ্র আপন গতিতে নিজ নিজ কক্ষপথে চলে। যখনই এর ব্যত্যয় ঘটবে, পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। মানুষ তার জীবনের উন্নতি সাধন করতে চাইলে, সকল প্রকার কাজকর্মে মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশগুলো অবশ্যই সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে, নচেত্ নিজেও ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে এবং জাতিও ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।

তাই আল্লাহর নির্দেশ, ‘হে মানুষ, স্বীয় প্রতিপালকের ইবাদত কর, যিনি তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তিগণকে সৃষ্টি করেছেন, সম্ভবত: তোমরা মুত্তাকী হতে পার অর্থাত্ তোমরা সকল প্রকার পাপকার্য হতে বিরত থাকতে সক্ষমতা লাভ করতে পারবে।’ (সূরা বাকারা-২১) ইবাদতের অর্থ হচ্ছে যে, মহান আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করা এবং যাবতীয় অন্যায় কাজ ও অপকর্ম থেকে বিরত থাকা।

যেসব কাজ ও কর্মে শয়তানের পথ অনুসরণ করা হয় তা থেকে বেঁচে থাকা এবং যেসব অপকর্ম মানসিক বিকৃতি ঘটিয়ে মদপান, জুয়া খেলা ও নেশার দ্রব্য পানে এবং মাদকাসক্তে উত্সাহিত করে, তা পরিত্যাগ করা। তা না হলে যার ফলশ্রুতিতে মানবজাতির জীবনীশক্তি ধ্বংস হয় এবং তারা শয়তানের পথে অধিকতর অগ্রসর হয়। পৃথিবীর মানুষ উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত হয়ে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে।

আর আমাদের দেশের সোনার মানুষ, ভবিষ্যতের আশা-আকাঙ্ক্ষার ফসল এবং জাতির ভবিষ্যত্ কর্ণধার, পরিচালনায় নেতৃত্বদানকারী গৌরবোজ্জ্বল, সন্তানেরা ধনী-নির্ধন সকল অভিভাবকের আদরের দুলাল-দুলালী, তরুণ-তরুণী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত যুবক-যুবতী সম্প্রদায় নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রকাশ্যে রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁয় বা রাস্তার পাশে বসে মাদকদ্রব্য সেবন করছে, যা তাদের জীবনীশক্তি নিঃশেষ করে দিচ্ছে। এদের প্রত্যেকের পিতা-মাতার আশা-ভরসা এবং ভবিষ্যত্ চিন্তা, ওরা মানুষ হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করবে এবং মাতা-পিতার মুখ উজ্জ্বল করবে ও নিজের জীবনে শান্তির পায়রা উড়াবে।

এইসব উজ্জ্বল নক্ষত্র সন্তান শুধু শুধু নিজের জীবনই ধ্বংস করছে না, বরং দেশের সার্বিক কল্যাণের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা, এরা সরকারের কোন আইন মানছে না এবং সমাজের নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করছে না, এরা মাতা-পিতার শুধু অবাধ্যই নয়, বরং জমি-বাড়ি বিক্রি করে তাদের মাদকাসক্তির চাহিদা পূরণ করতে পিতা-মাতা বাধ্য হচ্ছে, নচেত্ জীবন বিসর্জন দিতে হচ্ছে। নিজের জীবন অথবা মাতা-পিতার জীবন দিতে হচ্ছে এর ভূরি ভূরি প্রমাণ বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রথম পৃষ্ঠার শিরোনামই যথেষ্ট।

প্রতিদিনের জাতীয় দৈনিকে লক্ষ্য করুন। এর জন্য শুধু শুধু সোনার টুকরো সন্তানগণই দায়ী নয়। মাতা-পিতা, অভিভাবক ও সমাজের সকল স্তরের লোকও এর জন্য দায়ী। এদের প্রতি শুধু শাসনই নয়, বরং সোহাগেরও প্রয়োজন ছিল এবং আছে। সকলেরই দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্বে যাদের অবহেলা আছে তারাও দায়ী হবে। এ সম্পর্কে মহানবী (স.) বলেন, ‘সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর তোমাদের প্রত্যেকেরই নিজ দায়িত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং নেতা, যিনি জনগণের তত্ত্বাবধায়ক, তিনি স্বীয় অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবেন।

প্রত্যেক পুরুষ নিজ পরিবারের লোকদের তত্ত্বাবধায়ক এবং তিনি নিজের অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবেন। আর প্রত্যেক মহিলা তার স্বামীর পরিবারের লোকদের ও তার সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক এবং তিনি তাদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবেন। কোন ব্যক্তির কর্মচারী (চাকর) স্বীয় মনিবের সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক এবং সে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। প্রত্যেকেই নিজের অধীনস্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সহীহ বুখারী ও মুসলিম) অভিভাবকদের প্রতি মহান আল্লাহ তা’য়ালার নির্দেশ হচ্ছে যে, ‘হে মু’মিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং পরিবারবর্গকে অগ্নিহতে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর।’ (সূরা তাহরীম-০৬)।

লেখক: মাওলানা লুত্ফর রহমান