ইসলাম ও আমাদের জীবন

বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

ইসলাম ও আমাদের জীবন - বিভিন্ন সংবাদপত্র থেকে নেয়া কিছু লেখা …

সাহায্যপ্রার্থীর সাথে সদ্ব্যবহার

needy-handজবান আল্লাহ তা’আলার এক মহানিয়ামত। এর মূল্য পরিশোধ করা মানুষের পক্ষে কখনো সম্ভব নয়। এ জন্য কথা বলার আগে চিন্তা করা দরকার যে, আমার কথার ভাষা কারো জন্য বেদনাদায়ক হয় কি না।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা সাহায্যপ্রার্থীকে ধমক দিতে নিষেধ করেছেন। সাহায্যপ্রার্থীকে কিছু দিয়ে বিদায় করা আর দিতে না পারলে নরম ভাষায় অক্ষমতা প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

তা ছাড়া দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পরিচিত কিংবা সমপর্যায়ের লোক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে আমরা মেহমান মনে করি না। অপরিচিত, অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তিকে তো মেহমান ভাবার প্রশ্নই আসে না। অথচ প্রকৃতপক্ষে এরাও মেহমান। আল্লাহ এদেরকে পাঠিয়েছেন। তাই যথোপযুক্ত সম্মান প্রদর্শন একজন মুসলমানের কর্তব্য। এজাতীয় মেহমানকেও খাবারে শরিক করে নেয়া উচিত। বিশেষত খাওয়া চলাকালীন উপস্থিত হলে তাড়িয়ে দেয়া তো একেবারে অনুচিত। সামান্য কিছু দিয়ে হলেও শরিক করবে। তা ছাড়া কুরআন শরিফের ভাষ্য মতে প্রমাণিত হয়, ভিুককে কোনো অবস্থায়ই তাড়িয়ে দেয়া যাবে না। ‘কোনো ভিুককে কখনো ধমক দেবে না।’ অথচ অনেক সময় আমরা সীমা লঙ্ঘন করে ফেলি। যার কারণে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হই।

হজরত জাবের রা: থেকে বর্ণিতÑ তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট। দু’জনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট। চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট।

এ হাদিসে একটি মূলনীতি পেশ করা হয়েছে; তা হলোÑ খাওয়া চলাকালীন কোনো মেহমান অথবা ভিুক এলে এই বলে তাদেরকে বঞ্চিত করা যাবে না যে, এখানে তো একজনের খাবার, শরিক করা হলে কম হয়ে যাবে। বরং তাকেও খাবারে শরিক করে নেবে। এতে আল্লাহ তা’আলা বরকত দেবেন।

হাকিমুল উম্মত হজরত আশরাফ আলী থানভী রহ: একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন : এক ধনী ব্যক্তি আপন স্ত্রীর সাথে বসে খানা খাচ্ছিলেন। উন্নত খাবার বিধায় ঘটা করেই তারা বসেছেন। এমন সময় এক ভিুক এসে দরজার পাশে দাঁড়াল। ব্যাপারটা তাদের কাছে খুবই অস্বস্তিকর ও অপমানজনক মনে হলো। তাই ভিুককে তাদের ধমক শুনতে হলো এবং সে চলে গেল।

কখনো কখনো মানুষের দু-একটি আমল এমন হয়, যার ফলে আল্লাহর গজব তেড়ে আসে। এ দম্পতির বেলায়ও তাই হলো। অল্প দিনের ব্যবধানে তাদের বিবাহ বন্ধনে ফাটল ধরল। এমনকি বিচ্ছেদের মতো তিক্ত ঘটনাও ঘটে গেল। স্ত্রী বাপের বাড়িতে চলে এলো। চার মাস ১০ দিন ইদ্দতের সময় পূর্ণ করল। তারপর অন্যত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে হলো। দ্বিতীয় স্বামীও ছিল ধনী। একদিন তারা দু’জন খেতে বসল। এ সময় একজন ফকির এসে দরজার সামনে দাঁড়াল। স্ত্রী বলল, ইতঃপূর্বে আমি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলাম। ভয় হয়, আল্লাহর কোনো গজব আবার আঘাত করে কি না। তাই আমি একটু আসি। আগে ফকিরটাকে কিছু দিয়ে আসি। স্বামী বলল, ঠিক আছে যাও। আগে ফকিরকে বিদায় করো, তারপর খানা খাবো।

স্ত্রী দরজায় অপেক্ষমাণ ফকিরের কাছে যখন গেল, সাথে সাথে চমকে উঠল, এ যে তার আগের স্বামী! ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে উঠে দ্রুতগতিতে বর্তমান স্বামীর কাছে ফিরে এলো। বলল, ফকিরটা যে আমার প্রথম স্বামী! সে ছিল খুব ধনী। একবার তার সাথে খেতে বসেছিলাম, আজ যেমনিভাবে আপনার সাথে বসেছি। এমন সময় দরজায় এক ভিুকের আওয়াজ শুনলাম। ভিুকটিকে আমার এ স্বামী তাড়িয়ে দিয়েছিল। যার কারণে সেও আজ ভিক্ষার ঝুলি নিলো।

বৃত্তান্ত শোনার পর স্বামী বলল, আরো বিস্ময়কর সংবাদ শুনবে কি? স্ত্রী বলল, বলুন, শুনব। স্বামী বলল, জানো তোমাদের দরজার সেদিনকার সেই ফকির আজ তোমার স্বামী। আমাকেই তোমরা তাড়িয়ে দিয়েছিলে।

এই হলো আল্লাহর কারিশমা। ধনদৌলতের মালিককে বানালেন ফকির। ফকিরকে করলেন ধনী। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। এই ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা পেলাম যে, ভিুকের সাথে রূঢ় ব্যবহার করা উচিত নয়। এ হাদিসের আরেকটি মর্মার্থ হলো, খাবারের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট করা ঠিক নয়। বরং কমবেশি খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত, যেন প্রয়োজনে সমস্যা না হয়।